মেনু

Drop Down MenusCSS Drop Down MenuPure CSS Dropdown Menu

সংকলন ৩৪৪- দ্য মার্ডার

আতঙ্কগ্রস্ত চোখে সামনের দিকে
তাকাল মেয়েটা। ছুরি হাতে তার
দিকেই এগিয়ে আসছে মৃত্যদূত। ভয়ে
বিছানার চাদরের সাথে শরীর ঘষে
সামান্য পেছাল মেয়েটা। তবে
থেমে গেল না আততায়ী। ধীরে
ধীরে এসে বসল মেয়েটার পাশে।
তারপর হঠাৎ-ই গ্লাভসপড়া হাতটা
বাড়িয়ে চেপে ধরল মেয়েটার মুখ।
অন্য হাতে যত্ন সহকারে কেঁটে ফেলল
তলপেটটা। গলা কাঁটা মুরগীর পর ছটফট
করে উঠল ক্ষুদ্র নারী দেহ। কিন্তু মুখ বন্ধ
থাকায় তীক্ষ্ণ গোঙ্গানি ছাড়া আর
কিছুই বেরোল না। বিরক্ত হওয়ার
অভিব্যক্তি ফুটে উঠল আততায়ীর মুখে।
পেট থেকে ছুরিটা একটানে বের
করে ধীরে ধীরে নামিয়ে আনলো
মেয়েটার গলার উপর।।
.
[1]
.
চোখ খোলে কিছুই দেখতে পেলনা
রিফাত। ঘন অন্ধকার চতুর্পাশে। তবে,
অল্প সময়ের মধ্যেই অন্ধকার সয়ে এলো
তার চোখে। মনে করার চেষ্টা করল
'কোথায় সে?'। কিন্তু কিছুই মনে পড়ল
না। বরং মাথায় প্রচন্ড ব্যাথা অনুভব
করল। বাম হাতটা তুলে মাথার
পেছনদিকটা ছুঁলো সে। হাত সামনে
আনতেই গাঢ় অন্ধকারের মাঝেই লাল
রক্ত চিনতে ভূল হলো না তার। চমকে
উঠে লাফিয়ে উঠে দাঁড়াল সে।
পরক্ষনেই টলে উঠলেও খাটের পায়া
ধরে নিজেকে সামলে নিতে সময়
লাগল না তার। আবারও মনে করার
চেষ্টা করলো "কোথায় সে?"। কিন্তু
এবারও মনে করতে ব্যর্থ হলো। টলতে
টলতে অন্ধকারের মাঝেই দেয়ালের
দিকে এগিয়ে গেলো সে। উদ্দেশ্য -
সুইচ বোর্ড খুঁজে বের করে আলো
জ্বালানো। হাতড়ে হাতড়ে সেটার
খোঁজ পেয়েও গেল। তারপর সবগুলো
সুইচ অন করতেই জ্বলে উঠল বাতিগুলো
এবং চালু হয়ে গেল সিলিং ফ্যান।
আলোকিত হয়ে উঠল পুরো বেডরুমটা।
চমৎকার সাজানো গোছানো একটা
রুম। রুমটার এক কোণে একটা কম্পিউটার
টেবিল। এক পাশে একটা আলমারি
এবং ড্রেসিং টেবিল। রুমের কিছুটা
মধ্যখানে করে স্থাপন করা হয়েছে
খাট। পুরো রুমটাতেই শৌখিনতার ছাপ
স্পষ্ট। তবে এতকিছু চোখে পড়লো না
রিফাতের। রুম আলোকিত হয়ে উঠতেই
তার চোখ চলে গেছে খাটের উপর।
সেখানে শুয়ে আছে অসম্ভব সুন্দর একটা
মেয়ে। তার চোখদুটো যেন বিশাল এক
সমুদ্র, যেখানে হাবুডুবু খায় অসংখ্য
পুরুষের হৃদয়। তবে, এখন সেই চোখদুটো
স্থির। তাতে নাই কোন প্রাণের
চিহ্ন। শুধু আছে আতঙ্ক।
.
মেয়েটাকে চোখে পড়তেই স্তব্ধ হয়ে
গেছে রিফাত। চোখের পলক
ফেলতেও ভূলে গেল যেন সে।
অবিশ্বাস ভরা দৃষ্টিতে চেয়ে
দেখলো - বিছানাটাতে শুয়ে আছে
'তার নিধি'। মেয়েটার পেট কেঁটে
নাড়িভুঁড়ি বেরিয়ে এসেছে।
গলাটা যেন কথা বলার জন্য 'হা' করে
আছে। যার সানিন্ধ্য ছাড়া একটা
দিনও কাঁটাতে পারতো না রিফাত -
সেই মেয়েটাকে বিভৎসভাবে মৃত
অবস্থায় দেখে আবারো টলে উঠল
সে। ধীরে ধীরে বসে পড়লো
মেঝেতে। প্রচন্ড মাথা ব্যাথার
মাঝেও বুঝার চেষ্টা করলো
পরিস্থিতিটা। তবে, হঠাৎ-ই বুঝতে
পারলো 'কি হতে চলেছে!"...
.
বিড় বিড় করে নিজেকে শুনিয়ে বলে
উঠল রিফাত - "নিধি নাই। আমার
নিধি নাই। যে হারামজাদা আমার
নিধিকে মেরেছে, তাকে আমি
ছাড়বো না। কিন্তু পুলিশের সাহায্য
নেয়া যাবে না। পুলিশ ভাববে
আমিই খুনী.."
.
রাগে কাঁপতে কাঁপতে উঠে দাঁড়াল
সে। "পালাতে হবে। পালাতেই
হবে.." - ভেতর থেকে কেউ যেন
তাড়া দিলো তাকে। টলতে টলতে
শেষবারের মতো নিধির পাশে
গিয়ে দাঁড়াল সে। অশ্রুসিক্ত চোখে
তাকাল মেয়েটার অপূর্ব সুন্দর মুখটার
দিকে। তারপর ছুটে বেরিয়ে এলো
বারান্দায়। রেলিং টপকে সবার
চোখের আড়ালে নেমে পড়ল অন্ধকার
গলিটাতে।
.
[2]
.
ধীরে ধীরে হেঁটে সাজানো
গোছানো রুমটাতে প্রবেশ করলেন
ডিটেক্টিভ আসিফ। চোখে-মুখে
চিন্তার ছাপ। তার পেছন পেছন রুমে
ঢুকলেন ডা: রহমান। ডিটেক্টিভের
মতোই বয়সে মোটামোটি তরুন
পর্যায়ের ডাক্তার সাহেব। তবে
অভিজ্ঞতার দিক দিয়ে মোটেও তরুন
বলা যায় না তাদের। দুজনে মিলে
অসংখ্য জটিল কেস সলভ করার রেকর্ড
আছে।
.
খাটের দিকে এগিয়ে গেলেন
ডিটেক্টিভ। বিষন্ন চোখে
তাকালেন মৃতা মেয়েটার দিকে।
এমন সুন্দরী মেয়েটার এতো
তাড়াতাড়ি পরপারে চলে যেেত
হলো - ভেবে আফসোস হলো
ডিটেক্টিভের। তার পাশে এসে
দাঁড়ালেন ডাক্তার।
.
"প্রথমে ছুরি দিয়ে মেয়েটার পেট
কাঁটা হয়েছে। তারপর গলা।" -
ডাক্তারের উদ্দেশ্যে বললেন
ডিটেক্টিভ।
মেয়েটার গলায় আড়াআড়ি ভাবে
আটকে থাকা বড়সড় সার্জিকাল
নাইফটার দিকে তাকিয়ে সম্মতিসূচক
মাথা নাড়লেন ডাক্তার। তারপর
এগিয়ে গিয়ে এক টানে গলা থেকে
তুলে নিলেন নাইফটা। পকেট থেকে
ছোটখাট ম্যাগনিফাইং গ্লাসটা বের
করে ছুরির বাটটার দিকে গভীর
মনোযোগে কিছুক্ষন চেয়ে রইলেন।
"খুনি অনেক চালাক। গ্লাভস পড়েই
নাইফটা ধরেছিল। হাতের কোন ছাপই
নাই।" - ডিটেক্টিভের উদ্দেশ্য বললেন
ডাক্তার।
মাথা দুলিয়ে বলে উঠলেন
ডিটেক্টিভ - "লাশের খোঁজ পাওয়া
যায় সকাল এগারটার দিকে।
মেয়েটার বাবা-মা বাসায় ফিরে
অনেক ডাকাডাকি - ফোন করার পরও
কোন সাড়া না পেয়ে পুলিশে ফোন
দিয়েছিল। আপনার কি মনে হয়, খুনটা
কখন হতে পারে?"
"সম্ভবত রাত একটার দিকে। তবে আমি
নিশ্চিত নই। ফরেনসিক রিপোর্ট
পাওয়ার পর নিশ্চিত করে বলা যাবে।"
- উত্তর দিলেন ডাক্তার।
"আমার মনে হয়, এই খুন মেয়েটার
বয়ফ্রেন্ডের কাজ। বাড়ির
কেয়ারটেকার সন্ধায় মেয়েটার
সাথে লম্বা একটা ছেলেকে বাসায়
ঢুকতে দেখেছিল। সন্দেহ নেই, ঐ
ছেলেটাই ওর বয়ফ্রেন্ড। তবে,
গন্ডগোল বাঁধাচ্ছে মেঝের রক্তগুলো।
মেয়েটাকে বয়ফ্রেন্ডই খুন করলে
মেঝেতে ছেলেটার রক্ত পড়ে
থাকা অস্বাভাবিক। তাছাড়া আশে
পাশে কোথাও আর কোন হাতিয়ার
খুঁজে পাওয়া যায়নি।" - চিন্তিত মুখে
আপনমনেই বললেন ডিটেক্টিভ আসিফ।
তারপর এগিয়ে গেলেন রুমের সাথে
লাগোয়া বারান্দার দিকে।
রেলিং বিহীন বারান্দাটার দিকে
এক পলক তাকিয়েই ছুটে বেরিয়ে
এলেন সেখান থেকে। মেয়েটার
বয়ফ্রেন্ডকে খুঁজে বের করতে হবে!
.
[3]
.
মাথায় বেন্ডেজ নিয়ে তনিমার
দিকে বিষন্ন দৃষ্টিতে তাকাল
রিফাত।
"তুই নিধিকে খুন করিসনি - সেটা
আমি বিশ্বাস করি। কিন্তু ওর মতো
নিরীহ মেয়েটাকে মারলই বা কে?" -
একটা দীর্ঘস্বাস ফেলে বললো
তনিমা। সবচেয়ে কাছের বান্ধবীর
মৃত্যু সংবাদ শুনে - সকাল থেকেই তার
মনটা ভীষন খারাপ হয়ে আছে।।
.
"আমি জানি না। জ্ঞান ফেরার পরই
নিধিকে মৃত দেখতে পাই আমি। আশে
পাশে কারো ছায়াও ছিল না।" -
অসহায় একটা ভঙ্গি করলো রিফাত।
প্রিয়তমার মৃত্যু শোক এখনো একটুও
কাটিয়ে উঠতে পারেনি সে।
.
নিধির বাসা থেকে পালিয়ে
আসার পর আর নিজের বাসার দিকে
যায়নি রিফাত। সোজা চলে
এসেছিল নিধি এবং তার - দুজনেরই
বেস্ট ফ্রেন্ড তনিমার বাসায়। রাত
দুটায় রিফাতকে মাথা ফাটা
অবস্থায় দেখে ভীষন ভড়কে
গিয়েছিল মেয়েটা। তবে
মেডিকেলের স্টুডেন্ট হওয়ায়
রিফাতের রক্তপাত থামাতে তেমন
কষ্ট হয়নি তার। তবে, এই ভরদুপুরে
নিধির মৃত্যুসংবাদ জানার আগে
রিফাতের মাথা ফাঁটার কারণ
জানা হয়নি মেয়েটার।।
.
"শোন, পুলিশ এখন তোকে হন্যে হয়ে
খুঁজছে। তারা সম্ভবত ভাবছে, তুই-ই
নিধির খুনি। আমি চাই না তুই জেলে
যাস। আমি চাই, নিধির খুনীকে
যেভাবেই হোক তুই খুঁজে বের করবি।
তারপর তাকে নিজ হাতে খুন করবি।" -
উপদেশ দেওয়ার ভঙ্গিতে বললেও
কন্ঠটা ধরে এলো তনিমার।।
.
মাথা নেড়ে উঠে দাঁড়াল রিফাত।
তারপর তনিমার অশ্রুভেজা চোখের
দিকে অশ্রুসিক্ত নয়নে তাকিয়ে
বেরিয়ে পড়লো খুনির খুঁজে।।
.
[4]
.
রিপোর্ট পেপারে ভরা ফাইলটা বন্ধ
করে টেবিলের উপর রাখলেন
ডিটেক্টিভ আসিফ। হাত বাড়িয়ে
ড্রয়ার থেকে তুলে নিলেন
গোল্ডলিফ সিগারেটের
প্যাকেটটা। উচ্চ পদে সরকারী চাকরি
করলেও বিলাসবহুল জীবন পছন্দ নয় তার।
তাই, দামী সিগারেট বলতে এই
গোল্ডলিফই ভরসা।
একটা সিগারেট জ্বালিয়েই ঠোঁটের
ফাঁকে পুরে দিলেন সেটা। চোখ-মুখে
চিন্তার ছাপ নিয়ে একবার
তাকালেন সামনের ফাইলটার দিকে,
যেটার উপর বড় বড় অক্ষরে লেখা
"তাসলিমা চৌধুরী নিধি"..
তারপর লম্বা একটা শ্বাস ছেড়ে, শরীর
এলিয়ে দিলেন চেয়ারে।
বিড় বিড় করে যেন নিজেকেই
শুনিয়ে বলে উঠলেন ডিটেক্টিভ -
"নিধির খুনী যদি তার বয়ফ্রেন্ড হয়
তাহলে মেঝেতে ঐ বয়ফ্রেন্ডের রক্ত
কেন? ... ছেলেটা কি নিজের
গার্লফ্রেন্ডকে মৃত দেখে নিজেকে
বাঁচানোর জন্য পালাল নাকি
মেয়েটাকে খুন করে পালাল? .. খুনী
কি নিধিকে মারার আগে তার
বয়ফ্রেন্ডকে আঘাত করে অজ্ঞান করে
ফেলেছিল?" ....
.
মাথার ভেতর চক্কর দিতে থাকা
প্রশ্নগুলোর কোন উত্তর পেলেন না
তিনি। তবে, বহুক্ষন পর একটা
সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারলেন।।
রিফাত ছেলেটা যথেষ্ট ভদ্র। খারাপ
কোন রেকর্ড থাকা দূরে থাক, কোন
খারাপ সঙ্গে পড়েওনি সে। এমন
নিরীহ টাইপ একটা ছেলে নিজের
গার্লফ্রেন্ডকেই খুন করতে পারে না,
যাকে সে নিজের চেয়েও বেশি
ভালবাসতো - এমনটাই ধারণা
রিফাতের বন্ধুমহলের।।
কিন্তু ডিটেক্টিভের ধারণা সম্পূর্ণ
আলাদা। তিনি নিজের অভিজ্ঞতা
থেকে দেখেছেন - ভদ্র, শান্ত-শিষ্ট
মানুষগুলাই হয় একেকজন ভয়ানক খুনী।
তাই, রিফাতকে সন্দেহভাজনের
তালিকার একদম উপরের দিকে রাখা
যায়ই। তবে,খুনী যে অন্য কেউ হতে
পারে - সে ধারণাটাও উড়িয়ে
দিলেন না তিনি। হতে পারে খুনী
রুমে ঢুকেই রিফাতকে আঘাত করে
অজ্ঞান করে। তারপর খুন করে
নিধিকে।
ধীরে ধীরে চেয়ার থেকে উঠে
দাঁড়ালেন ডিটেক্টিভ। যে ভাবেই
হোক রিফাত ছেলেটাকে খুঁজে বের
করা দরকার।
.
[5]
.
মাথায় কালো ক্যাপ পড়ে
বেন্ডেজটা চোখের আড়ালে
পাটিয়ে দিল রিফাত। তারপর মাথা
নিচু করে বেরিয়ে এলো নিহালের
মেস থেকে। নিহালেরও দৃঢ় বিশ্বাস -
রিফাত নিধিকে খুন করেনি। করতেই
পারে না।।
.
নিহালের কাছ থেকেই জানা
গেলো - গোয়েন্দারা ইতিমধ্যেই
জেরা করেছে ওর সব বন্ধুকে। সবারই
ধারণা - খুনটা রিফাতের করা নয়।।
আরো একবার সস্তির নিশ্বাস ফেলল
রিফাত। তারপর এগিয়ে চলল তনিমার
বাসার দিকে।
.
***
.
তনিমার চোখ লাল হয়ে আছে। সম্ভবত
বান্ধবীর শোকে কান্নার ফসল। দরজা
খুলে দিতেই ভেতরে এসে ঢুকলো
রিফাত। তারপর সোজা এগিয়ে গেল
বিছানার দিকে। তার ঘুম দরকার।।
.
বিছানায় গা এলিয়ে দেয়ার
কিছুক্ষনের মধ্যেই ঘুমিয়ে গেল
রিফাত। তার পাশে এসে বসল তনিমা।
পরম ভালবাসায় ঘুমন্ত ছেলেটার
মাথায় হাত বুলিয়ে দিল সে। তারপর
নিজেও শুয়ে পড়ল রিফাতের পাশে।
ডান হাতটা রাখলো সেই মানুষটার
বুকের উপর - যাকে সে এবং নিধি
উভয়ই ভালবাসত অথবা ভালবাসে।।
.
_পরিশিষ্ট_
.
মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেল
রিফাতের। হাত তুলে তনিমাকে ছুঁতে
যেয়েও পারল না। অনুভব করলো - তার
হাত পা খাটের সাথে দড়ি দিয়ে
শক্ত করে বাঁধা। আস্তে করে ডাকলো
সে - "তনিমা!?"...
.
দরজার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটা
ছায়ামুর্তি নড়ে উঠলো। হাতড়ে
হাতড়ে সুইচ বোর্ড খুঁজে বের করে
আলো জ্বালিয়ে দিল সে। প্রচন্ড
বিস্মিত হৃযে রিফাত দেখলো -
ছায়ামুর্তিটা তনিমাই। মেয়েটার
হাতে একটা বড়সড় কিচেন নাইফ!
.
ধীরে ধীরে এগিয়ে এলো তনিমা।
রুমের একমাত্র ড্রেসিং টেবিলটার
ড্রয়ার হাতড়ে বের করে আনলো দুটো
হ্যান্ড গ্লাভস। গ্লাভস দুটো দেখেই
তার মনে পড়ে গেল - নিধিদের রুমে
ঢুকতে তাকে কি কষ্টই না করতে
হয়েছে!
বহু কসরত করে দুই তলার বারান্দায় উঠে
লুকিয়ে থাকতে হয়েছিল। মাঝ রাতে
রিফাত বিছানা থেকে উঠে
ওয়াশরুমে যাওয়ার পথেই হাতের
রডটা দিয়ে মাথায় আঘাত করেছিল
সে। তারপর নিধিকে খুন করতে
বিন্দুমাত্র বেগ পেতে হয়নি তার।
.
আতঙ্কগ্রস্ত চোখে সামনে তাকাল
রিফাত। তার দিকেই ধীরে ধীরে
এগিয়ে আসছে মৃত্যুদূত।
"তুই-ই তাহলে নিধিকে খুন করছস?" - বহু
কষ্টে গলা থেকে ভয়ের ছাপ মুছে
শীতল গলায় প্রশ্ন করল রিফাত।
"সন্দেহ আছে?" - ভ্রু নাচিয়ে পাল্টা
প্রশ্ন করলো তনিমা। মেয়েটাকে এখন
ভয়ঙ্কর লাগছে। সেই সাথে তার
সৌন্দর্য্যও ফুটে উঠেছে ভীষনভাবে।
তার শরীরের উপর থেকে চোখ
সরাতে পারল না রিফাত।
অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে কিছুক্ষন
তাকিয়ে রইল মেয়েটার দিকে।
"নিধিকে কেন খুন করলি তুই?" -
চিৎকার করে বলতে চেয়েও
রিফাতের গলা দিয়ে জোরে শব্দ
বেরোল না।
.
প্রশ্ন শুনে ডাইনির মতোই হাসল
মেয়েটা। তারপর ধীরে ধীরে বললো
- "আমার প্রিয় মানুষগুলোকে দেখলেই
খুন করতে ইচ্ছে হয় রে!"
.
বলেই গ্লাভসপড়া ডান হাতটা
বাড়িয়ে চেপে ধরল রিফাতের মুখ।
অন্য হাতে যত্ন সহকারে কিচেন
নাইফটা বসিয়ে দিল ছেলেটার
গলায়।।

সংকলন ৩৪৩- আমার হবু বউ দীপা

বিয়ের কিছুদিন আগে দীপার সাথে
যেদিন দেখা হলো, বড্ড আহ্লাদী
কন্ঠে সে বলেছিলো- "আচ্ছা রুহী
বিয়ের পর আমাকে কি আর পড়াবেনা?"
.
আমিও সাথে সাথে জানতে চাইলাম
কি পড়তে চায় সে, সে উত্তর দিলো
যে মেডিকেল এ পড়বে। যেহেতু
এসএসসি এইচএসসি তে তার ভালই
রেজাল্ট তাই কোচিং করে হয়তো
মেডিকেল এ চান্স নেওয়ার একটা
আশা করাই যায়।
.
আমার গলা জড়িয়ে আমার উত্তর
শোনার জন্য দীপা বলছে- উহু বলোনা
পড়াবে কি পড়াবেনা?
খাটাশের মত আমিও উত্তর দিয়ে
দিলাম যে- না, তুমি খুব ইচ্ছে করলে
ডিগ্রীতে পড়তে পারো।
অনেকগুলো অভিমান করে দীপা
সেদিন বাসায় ফিরে গেলো।
.
ফোন ধরছেনা, তাই ভাবলাম
মহারানীর অভিমান ভাঙ্গাতে না
পারলে তার আমার খুনসুটিগুলোর উপোস
থাকতে হবে। যেই ভাবা সেই কাজ
রওনা দিলাম দীপাদের বাসায়।
.
দরজা খুলে দিলো আমার হবু শ্যালিকা।
কাউকে কিছু না বলেই সোজা দীপার
রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিলাম। এরপর
ঠাস ঠাস দিপদাপ এর আওয়াজে ঘর
মুখরিত হয়ে গেলো। ফুপিয়ে ফুপিয়ে
কাঁদতে কাঁদতে বুকে মাথা গুজে
বলতে লাগলো- তুমি আমাকে নাকি
খুব ভালবাসো, তাহলে আমার পছন্দ
অপছন্দের মূল্য দিতে হবে তো নাকি
বলো, বিয়ের পর আমার পড়ালেখায়
যদি তুমি স্বাধীনতা না দাও তাহলে
কোন দুঃখে তোমায় বিয়ে করবো
শুনি? আর তুমি কোন সেন্সে আমায়
ডিগ্রী পড়তে বলো, আমাকে ভাল না
লাগলে বিয়ে ক্যান্সেল করে দাও,
আমাকে বিয়ে করতে তো কেউ জোর
করছেনা।
.
এতক্ষনে হবু বউয়ের কান্নাজড়িত
কথাগুলো শুনছিলাম আর আলতো হাতের
কিল ঘুষি গুলো হজম করছিলাম। দীপা
হয়তো ভাবছিলো আমার মন গলাতে
পেরেছে কিন্তু না আমার হৃদয় তার
ভাবনার চেয়ে অনেক বেশি কঠিন।
হাত ছাড়িয়ে নিয়ে বললাম- বিয়ের
পর তোমার পড়াশুনাই বন্ধ তবে হ্যা
তোমার জন্য তখন সাহিত্য, কাব্য,
ইসলামিক বই পুস্তক পড়া বাধ্যতামূলক। আর
আমি চাইনা আমার বউ আমার থেকে উচু
হোক। দুজনই অফিস থেকে ফিরে ক্লান্ত
হয়ে কথা কাটাকাটি করতে পারবনা,
বরং তুমি বাসায় আমার ফেরার
অপেক্ষা করবে খুশি হয়েও রাগী স্বরে
বলবে এত দেরী করলে কেনো?
তারাতারি ফ্রেস হয়ে নাও, তোমার
জন্য তোমার প্রিয় অমুক আইটেম রান্না
করেছি। দুজনই যদি পেশা নিয়ে ব্যস্ত
থাকি তাহলে রাতের আকাশে চাঁদ
টা দেখবে কে শুনি? দুজনই যদি সকাল
বেলা বেড়িয়ে যাই তাহলে আমায় ঘুম
থেকে ডেকে দিবে কে শুনি? কে
নাস্তা রেডি করে বলবে এই
তারাতারি আসো নাস্তা রেডি।
.
প্রায় পনেরো মিনিটের দীর্ঘ
লেকচার শেষে বললাম- যাও এই বিয়ে
ক্যান্সেল। এতক্ষন চুপচাপ শুনছিলো
দীপা যেমনি বিয়ে ক্যান্সেল এর কথা
বললাম তেমনি উঠে বলছে- না , আমি
সরি রুহী...
আমি সেদিকে কান না দিয়ে দরজা
খুলে বের হয়ে আসলাম, বাইরে দেখি
শ্বশুর শ্বাশুরী শালি বড় ভাইরা হা করে
আমার দিকে তাকিয়ে আছে। পিছন
থেকে দীপা ডাকতেই আছে- এই
থামো রুহী, প্লিজ শুনে যাও, যেয়োনা
প্লিজ...
.
কারো কথা না শুনে হনহন করে চলে
আসলাম, ফোনটা সুইচ অফ করে রেখে
দিলাম।
.
পরেরদিন ঘুম থেকে উঠে দেখি আমি
দীপার হাত চেপে ধরে আছি গালের
মধ্যে। জলদি করে হাত ছেড়ে দিয়ে
বললাম- তুমি কি করছো এখানে?
আম্মু এমন সময় এসে বলছে- কিরে বিয়ের
আগেই এমন ঝগড়া বিয়ের পর তাহলে কি
করবি তোরা?
বুঝলাম যে দীপা অনেক সকালে
আমাদের বাসায় এসেছে আর গত
দুদিনের সব কাহিনী আম্মুকে বলে
দিয়েছে।
.
আম্মুকে বললাম- যাও তো তুমি এখন আম্মু,
আর হ্যা দরজাটা ভেজিয়ে দিয়ো
যেয়ো।
দীপা বলে উঠলো- এই আমি কিন্তু এখনও
তোমার বউ হইনি,
- দুইদিন পরে আর দুইদিন আগে বউ তো বউ
ই, এই বলে..........
.....................................................
এমন সময় চ্যানেল চলে গেলো
টেলিভিশনের পর্দা ঝিলমিল করতে
লাগলো.....।
.
লিখাঃ আমিম এহসান...

সংকলন ৩৪২- কাল নিশীথে

সুভাষ সর্ব্ববিদ্যা
সেবার পুলিশে আমার কলার
ধরেছিল। জ্ঞান খরচ করে হাত
কামড়ে দিই। পালিয়ে বাঁচি।
কাল আবারও এলো
বাসায়,নিশীথে।
ঠকঠক ঠকঠক ঠকঠক। দরজার কড়া
নাড়ার শব্দ। স্তম্ভিত হই আমি।
ভিতর থেকে বলি-কে?
-চাচা,আঁই আপনাগো দারোয়ান
দিল মোহাম্মদ। ঘুমাইছেন নাকি?
-ঘুমাচ্ছি না চাচা। পি কে
দেখছি।
-কি দ্যাহেন কইলেন?
-হিন্দি মুভি। পিকে।
-পিকে,ফিকে যা-ই দ্যাহেন অহন
বন্ধ রাহেন। দরজাখান খুলেন।
-কেন? কি হয়েছে?
-পুলিশ আইছে। আপনেরে
খোঁজে।
-পুলিশ এলো শুনে ভয়ে কেঁচো
হলাম দ্বিগুণ। তবে দূর্বল হয়নি।
বুকে সাহস এনে বলি-
পুলিশ?এতো রাতে? আমার
খোঁজে? কেন? আমি কি চোর
ডাকাত?
-চুর না ডাকাইত হেইডা আপনে
ভালা জানেন। আঁই ক্যান্নে
কইতাম।
-ওদের বলো কাল সকালে আসতে।
আমি ঘুমাবো।
-হ,হেগুন আঁর নানার বাড়ির লোক
নি। কইলে হুইনবো। তা ও আঁই
কমু,কাইল বিয়ান্ন্যা আইসতে।
-জ্বি। কাল সকালে।
দারোয়ান ফিরে গেল।
কঠিন সময়ের দ্বারপ্রান্তে আমি।
শৈশবে নানা বলতেন,"বাঘে
ছুঁলে আঠারো ঘা,পুলিশে ছুঁলে
ছত্রিশ ঘা।"সে-ই যদি হয় এই বুঝি
আর রক্ষা নাই। নিজেকে স্থির
রাখার চেষ্টা করি। মাকে
স্মরণে আনি। মা বলতেন,"বিপদে
বুদ্ধি হারাতে নাই।"
ভাবনায় এলো,জীবনে অন্যায়ের
কাছেতো কখনও মাথা নত
করিনি। আর পুলিশ? সেতো
মামুলি ব্যাপার। ওদের কাছে
মাথা নত করবো কেন? প্রয়োজনে
পাঁচ তলা হতে লাফিয়ে পড়বো।
জীবনাবসান ঘটাবো।
আচমকা হু হু করে উঠলো বুকের অতল।
চোখের সামনে ভেসে উঠলো
স্নিগ্ধার মায়াবী মুখ খানি।
স্নিগ্ধা আমার বউ। আমার
ভালোবাসা। আমার আদর। এই
স্নিগ্ধা আমার নৈকট্য পেতে ওর
মা-বাবাকে শত্রু জেনেছিলো
। কোন এক অমানিশা রাতে ঘর
ছেড়ে পালিয়ে ঠাঁই
নিয়েছিলো আমার বুকে। শুধু
আমাকে পাবার আশায়। আমি
মারা পড়লে সে খুব খুব কষ্ট
পাবে। পাগল হয়ে যাবে।
আমার জন্য সে কেন কষ্ট পাবে?
সে কেন পাগল হবে? সে কেন
পতিহীণা হবে? না না না। এটি
কখনোই হতে দেবনা। নিজেই ধরা
দেব। পুলিশের হ্যান্ডকাপ পড়বো।
সে-ই ভালো।
ধীর পায়ে উত্তরের জানালার
দিকে গেলাম। জানালা খুলে
বাইরে দৃষ্টি ফেলি। এক প্লাটুন
পুলিশ। এদিক-ওদিক টহল
দিচ্ছিলো। ভাবতে কষ্ট
হচ্ছিলো আমার। অফিসেও এমন
কোন সমস্যা হয়নি যে ওরা পুলিশ
পাঠাবে আমার খোঁজে। আর
শ্বশুর বাড়ির ব্যাপারটা? সেটাও
চুকে গেছে অনেক আগেই।
তাহলে, কি এমন অপরাধ করেছি
আমি?
বিড়বিড় করে বললাম,ঐ
হারামীর বাচ্চা। একজন পুঁচকে
কেরানী ধরতে তোদের এতোসব
আয়োজেন। দু'জন হাবিলদারই
যথেষ্ট ছিলো। মশা মারতে কেন
মিছিমিছি কামান দাগাচ্ছিস্?
ওদিকে বুটজুতার চিড়বিড়
আওয়াজ। ডোর-আই এ চোখ
রাখলাম। সাত/আটজন পুলিশ। দু'জন
পুলিশের অবিরাম দরজা ভাঙার
চেষ্ট। দরজা ভাঙা দেখলে
জমিদার গালমন্দ করবে। ভাড়ার
ওপর বাড়তি বোঝা চাপিয়ে
দিবে। সময় ক্ষেপণ করা মানে
বোকামির দন্ড গোনা। দরজা
খুুলে দিলাম।
মুহুর্তে ঝাপটে ধরলো ওদের
একজন। ওদিকে স্নিগ্ধার ঘুম
ভেঙে যায়। ছুটে এসে হাওমাউ
শুরু করে দেয়। মেয়েমানুষদের এ
একটাই বদভ্যাস। একটুতেই
ইমোশনাল হয়ে পড়ে। ওর দিকে
তাকাতে পারছিলাম না। ও খুব
ভেঙে পড়েছে। কাঁদে কাঁদো
কন্ঠে ও পুলিশদের বলছে- ও পুলিশ
ভাই,অপরাধ উনি করেননি। জোড়
খাটিয়ে আমিই বিয়ে করেছি
উনাকে। উনি নির্দোষ। অপরাধ
করিছি আমি। আমাকে নিয়ে
চলুন।
শোর চিৎকার শুনে পাশের
ফ্ল্যাট হতে বেরিয়ে এলেন
জাফর সাহেব। জাফর সাহেব
সরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা।
পার্টিতেও বেশ নাম ডাক আছে।
সরকারের উপরের লেভেলেও
সম্পর্ক ভালো। কিছু পাবলিককে
ঋণ-ফিন দিয়ে ইদানিং বেশ
ফেঁসে ফুঁসে উঠেছেন। আমাদের
মতো গরিবদের কুদৃষ্টে দেখেন।
পুলিশকে উদ্দেশ করে জাফর
সাহেব দ্বরাজ কন্ঠে বললেন-এই
পুলিশ,এই শালা খতরনাক আদমি।
শালারে নিইয়া যাও।
ক্রসফায়ারে দাও। ওপরের
দিকটা আমি সামলাবো।
বোঝার অবশিষ্ঠ রইলো না । এই
জাফর সাহেব নেপথ্যের ভিলেন।
সেবার পুলিশে ধরিয়ে দিতে
এই বেটার হাত ছিল।
বাঁচাও,কে আছো বাঁচাও। আমি
চিৎকার দিই। স্নিগ্ধা আমাকে
জড়িয়ে ধরে। বলে-স্বপ্ন
দেখেছো?
-হ বোন। স্বপ্ন নয় দুঃস্বপ্ন।
-আমি তোমার বোন? তোমার কি
মাথা খারাপ হয়ে গেছে?
-হুঁ! কি আর বলবো? চৈত্রের
রাতে দুঃস্বপ্ন দেখল বৌকেও
বোন মনে হয়।
আমি ঘামছি। শরীর নিঃসাড়
হয়ে যাচ্ছে। কখন বিদ্যুৎ
গিয়েছিলো ঘুমের টের পাইনি।
স্নিগ্ধাকে বলি-স্নিগ্ধা একটু
জল খাবো।

সংকলন ৩৪১- বর্ষাস্নাত প্রহর

বাহিরে ঝুম বৃষ্টিতে বর্ষাস্নাত
সবকিছু। ছাতা নিয়ে বের হলেও
ভিজে যাবে সব কিছু। ভাগ্যটা
ভালো যে অফিসগামী ব্যাগটা
ওয়াটার প্রুফ।
এই প্রবল ঝুম বৃষ্টিতেও বের হয়ে
যেতে হবে একটা ছাতা নিয়ে।
সময় বেশি বাকি নেই অফিসের
পথে। এখনই না বের হলে দেরি
হয়ে যাবে।
চা টুকু শেষ করতে দ্রুত
পেয়ালাতে ঘন ঘন চুমুক দিচ্ছে
শুভ্র। কোমল একজোড়া হাত
চিরুনি দিয়ে মাথার চুল গুলো এক
সাইডে সড়িয়ে দিচ্ছিলো শুভ্রর।
হাত জোড়া তার প্রেয়সি
অরুনার।
চা টা শেষ করে বাসা থেকে
বের হয়ে গিয়েছে শুভ্র। ছাতা
টাকে সঙ্গী করে বেশ
খানিকটা পথ হেটে চলে
এসেছে। এই বৃষ্টিতে রিকশা
পাবার কোন আশা নেই তাই
হাটা শুরু করেছে।
ঝুম বৃষ্টিতে ছাতাটা উল্টে
যাচ্ছিলো। বাতাসের বেগ ও
প্রচন্ড বেশি। রীতিমতো যুদ্ধ
করে বাতাসের বিপক্ষে একটু
এএকটু করে এগিয়ে যাচ্ছিলো
শুভ্র।
পেছন থেকে পরিচিত এক কন্ঠস্বর
তার কানে ভেসে এলো।
পেছনে তাকিয়ে দেখে
বৃষ্টিতে বৃষ্টিস্নাত হয়ে আমার
অরুনা একটা শুকনো টাওয়াল
নিয়ে আসছে।
টাওয়াল টা বৃষ্টির পানিতে
ভিজে যাবে সেজন্য
পলিব্যাগে বন্ধ করে টাওয়াল
পা নিয়ে এসেছে। এদিকে
নিজের সর্বাঙ্গ ভিঁজে একাকার
সেদিকে বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ
নেই অরুনার।
শুভ্র অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে
ছিলো অরুনার দিকে। তার এমন
আরক্ত চাহুনি অরুনাকে বিব্রত
করে ফেলেছিলো। নিজেকে
সামলে নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষন
করলো অরুনা।
ভেজা বৃষ্টির ফোঁটা সব টুকু
সড়িয়ে সজীবতায় ভরিয়ে
দিয়েছে। চোখ দুটো শীতল হবার
উপক্রম। বেশিক্ষন তাকানোর
সাহস পায় না শুভ্র। তার প্রচন্ড ভয়
লাগে।
আজকাল ভয় লাগার কারণ টাও
দুষ্কর। সবটুকু উজাড় করে তার সব আজ
আমার এবং আমার সব আজ তার। তবু
মনের মধ্যে অজানা এক সংশয়ে
সারাক্ষন বুদ হয়ে থাকে শুভ্র। মনে
মনে ভাববে সেটাই হয়তো
ভালোবাসার কিয়দংশ।
বৃষ্টিতে ভিজে চেহারা টুকু
লাল হয়ে গেছে অরুনার।
খানিকটা পথ দৌড়ে এসেছে
তাই জোড়ে জোড়ে নিশ্বাস
নিচ্ছে সে। নাক দিয়ে মৃদু গরম
বাতাস বের হচ্ছে যেন।
জড়তার বাঁধা ভেঙে ভেঁজা
কাঁপা কাঁপা লজ্জিত কন্ঠে
অরুনা বলেছিলো :
- শুকনো টাওয়াল টা নিয়ে যাও,
অফিসে গিয়ে মাথা ভালো মত
মুছে নিয়ো। ঠান্ডা লাগলে
ঘরে কিন্তু জায়গা নেই।
চৌকাঠে শুইতে হবে রাতে।
- ঠান্ডা লাগবে না। বৃষ্টিতে
যদি ভিজতাম তবে তা ভিন্ন
কথা। বৃষ্টিতে ভিজলা তুমি আর
ঠান্ডা লাগার ভয় আমার?
লজ্জায় নিজেকে সামলে
নিয়ে অধিকার খাটিয়ে অরুনা
বলেছিলো :
- অতকিছু বুঝি না শুভ্র। এটা নিয়ে
যাও। টাওয়াল টা যেন না
ভিজে। মাথা মুছতে ভুল ককরো
না। অফিসে পৌঁছে সাথে
সাথে ফোন দিও। বাসে
সাবধানে উঠবে আর কোন
মেয়ের দিকে তাকাবে না।
রাস্তা পার হবার সময় ছাতাটা
বন্ধ করে পার হবে। আর রাস্তা
পার হবার সময় কেউ ফোন দিলে
রিসিভ করবে না। আমি ফোন
দিলেও না।
এক নিশ্বাসে এত গুলো কথা
বলেছিলো অরুনা।
শুভ্র আরক্ত নয়নে অরুনার দিকে
তাকিয়ে মৃদু স্বরে বলেছিলো :
- আচ্ছা।
একটু ধমকের স্বরে ভেঁজা গলায়
অরুনা বলেছিলো :
- আর দাড়িয়ে আছো কেন?
তারাতারি যাও। সময় বেশি
বাকি নেই।
শুভ্র ছাতাটা মাটিতে ফেলে
দিলো। বৃষ্টিতে ভিজে গেল
সর্বাঙ্গ। অরুনাকে কোলে করে
বাসার দিকে হাটা শুরু করলো
শুভ্র।
রাস্তাটা নির্জন আর বৃষ্টির
কারনে সম্পূর্ণ জনমানবশূন্য।
বৃষ্টিতে অরুনার গলার ভাজ টায়
পানি জমে ছিলো। বৃষ্টির বর্ণ
কিরুপ তা জানা ছিলো না
শুভ্রের কাছে তবে আজ তা যেন
অরুনার গাত্র বর্ণ ধারন করেছে।
মনে মনে শুভ্র ভাবলো দু-একদিন
অফিস কামাই দিলে তেমন কিছু
হয় না। আপাদত শুভ্রের গহীন
বাসনা অরুনাকে নিয়ে ছাদের
মাঝখানে বৃষ্টির দিকে মুখ করে
দাড়িয়ে থাকা।
(২)
প্রচন্ড বৃষ্টি।
৫ তলা ছাদের উপর দুজন আদি মানব
মানবী হাত ধরে বৃষ্টির দিকে মুখ
করে চোখ বন্ধ করে আছে।
ছাদের ধারের রেলিং এর
পাশে ভেঁজা শিক্ত দুটো কাক
ভিঁজে জবুথবু হয়ে আছে।
আমাদের দেখে কাক দুটো গা
ঝাড়া দিয়ে ওঠলো।
তারপর একটি আরেকটির
সংস্পর্শের প্রবল বৃষ্টিতেও
উষ্ণতার সন্ধানে মেতে
থাকলো।
~ বেঁচে থাকুক খুনসুটি ময়
ভালোবাসা গুলো চিরকাল।
ভালো থাকুক ভালোবাসার
মানুষ গুলো। ভালো থাকুক
ভালোবাসা গুলো।
ভালোবাসা গুলো পবিত্র সম্পর্ক
চিনে নেক সেই প্রত্যাশা।

লিখা : - Muhammad Rafi Hayder ( চন্দ্রবিন্দু)

সংকলন ৩৪০- জীবনের গতি


.
সোফায় বসে জামাল চারিদিকে
তাকাচ্ছে। ঘরটা কত সুন্দর ভাবে
সাজানো। সোফার পাশে একটা ছবি
রাখা। ছবিটার দিকে জামাল বার
বার তাকাচ্ছে।.....
.
একটু পরে আনিকা সোফায় বসে বলল
-কি খবর তোমার?আগের মতই আছো?
নাকি বদলেছ?
-মানুষ চাইলে কি বদলাতে পারে?
-বারে বারে ওই ছবিটার দিকে
তাকাচ্ছ কেন?
-ছবিটা চেনা চেনা লাগছে।
-ওটা তোমার আকা ছবি। যেটা তুমি
আমার জন্মদিনে দিয়েছিলে।
-তুমি এখন ও ছবিটা রেখে দিয়েছ?
-আমার প্রিয় ছবি।তাই যেখানে যাই
সাথে নিয়ে যাই।
-ও। তোমার ছেলে কোথায়?আমার
কথা বলেছ তাকে?
-শুধু আমার ছেলে কি!!! তুমি তো তার
বাবা।
-কালকে আমি ছেলেকে আমার
বাসায় নিয়ে যাবো।সে কি রাজি
হবে
বাসায় এসে বড় এক কাপ চা নিয়ে
চেয়ারে বসে পরলো। জামালের
এইরকম চা খেতে ভালই লাগে.....
.

.
আনিকা শিল্পকালার মেলায় এসে
আকা ছবিগুলো দেকছে। একটা ছবি
দেখে আনিকা দাড়িয়ে আছে।
.
একজন পিছন থেকে বলল
-কোন সমস্যা?
-আচ্ছা এই ছবিটা কে এঁকেছে?
-আমি এঁকেছি।
-আপনি!! কিন্তু দেখতে তো আমার মত।
আপনি কি আমাকে চেনেন?
-এর আগে কখনও দেখিনি। তাহলে
চিনবো কিভাবে?
-এই ছবিটা আকলেন কিভাবে?
আমাকে না দেখেই?
-আমার মনের ভেতরে একজনের ছবি
ভেসে উঠেছিল।আপনার সাথে
মিলে যাবে এটা ভাবি নি।
-আমি কি এই ছবিটা নিতে পারি?
-হ্যা।
-কত টাকা দিতে হবে?
-আপনাকে আমি এই ছবিটা বিনামূল্য
দেব।
-কেন?
-কারন আমার কল্পনার সাথে আপনার
মিল আছে। আর কল্পনার মানুষকে একটা
ছবি উপহার দিতে পারলে ভাল
লাগবে।
.
ছবিটা পাওয়ার পরে আনিকা খুশি
হয়েছে। আরও বেশি খুশি হয়েছে
ছেলেটার সাথে দেখা হয়ে।
ছেলেটা একদম আনিকার মনের মত আর
আনিকাও ছেলেটির মনের মত।
আনিকা তার প্রেমে পরেছে এটা
এখন বলার বাকিমাত্র।
.
এরপরে কেটে গেল দুই বছর....
আজ জামাল আনিকার প্রথম সন্তান জন্ম
নিল। জামাল তার পছন্দের একটি নাম
দিয়েছে স্বাধিন। আনিকা তার
পছন্দের নাম দিয়েছে।
.
আজ আনিকা জামালকে ছেড়ে
যাচ্ছে।সেদিন চিত্রকলায় আকা ছবি
জামাল মনের কল্পনাতে আকে নি।
আনিকার এক চাচাত ভাই জামালের
কাছে ছবি দিয়ে আকতে দিয়েছিল।
আর পরে সেই ছবি নিতে আসে নি।
তাই জামাল ছবিটি চিত্রকলার
অনুষ্ঠানে উপস্থাপন করে।
.
অনেক চেষ্টার পরেও জামাল
আনিকাকে ধরে রাখতে পারলো না।
আনিকা শুধু একটা কথা বলল
-যে মানুষ ভালবাসার মানুষের সাথে
মিথ্যা কথা বলে তার সাথে আমি
থাকবো না।
সেদিনের মিথ্যা কথার কারনে এত
কিছু হবে সেটা জামাল ভাবে নি।
.
আনিকা চলে যাওয়ার কয়েকমাস পরে
এক প্রবাসী প্রফেসর এর সাথে
আনিকার বিয়ে হয়ে যায়। আর
জামালের সন্তান তার কাছেই
থাকে।
.
অতিতের কথাগুলো কখন জামাল
ভাবতে শুরু করেছে সেটা জামাল
বুঝতে পারে নি।
.

.
মিতু আজ অনেক দেরি করে অফিসে
এসেছে। সে জানে আজ তার বস আজ
অনেক কথাই বলবে। বলবে "কি মেডাম
আরেকটু পরে তো লাঞ্চ সেরেই
আসতে পারতেন " অথবা বলবে "কি
মেডাম রাস্তায় কি পানি জমে
গেছে নাকি যে আসতে এত দেরি
হয়?"
.
রুমে ঢুকে চেয়ারে বসে মিতু তার
পাশে বসা শিরিন আপার দিকে
তাকিয়ে হেসে বলল
-কি খবর আপা?
শিরিন আপা মলিন হাসি দিয়ে বলল
-আজকেও দেরি?
-বস ডেকেছে?
-অনেকবার।
.
মিতু বসের রুমে গিয়ে দাড়িয়ে
আছে। বস বলল
-মেডাম যে। বসুন।
-স্যার। মানে।
-নিয়মিত দেরি করে আসতে ভালই
লাগে?
-স্যার আজকে গাড়ি পেতে দেরি
হয়েছিল।
-তাহলে কাল থেকে অফিসের গাড়ি
পাঠিয়ে দেব?
-......
-শুনুন আজ থেকেই অফিসের গাড়ি
পাবেন। কারন আপনার প্রোমোশন
হয়েছে।
-কি বলছেন স্যার?
-যা সত্য তাই বলছি। আপনার রেজাল্ট
ভাল। কাজ ভাল তাহলে প্রোমোশন
পাবেন তো।
.
অফিস থেকে বের হয়ে মিতুর আলাদা
একটা ভাব নিতে ইচ্ছে করছে। কারন
সে এখন একজন সিনিয়র অফিসার।
অফিসের গাড়ি নিয়ে চলে। আবার
অফিসে ঢুকতে বের হরে সবাই সালাম
দিচ্ছে।
.
অফিসের গাড়ি নিয়ে জামালের
বাড়ির সামনে দিয়ে যেতেই
জামালের কথা মনে পরে গেল।
হয়তো জামাল এখানে দাড়িয়ে
থাকতে পারতো।আর মিতু তার কাছে
গিয়ে বলতো "এস আমার গাড়িতে
বসো।" জামাল অবাক হয়ে বলতো
-তোমার গাড়ি মানে?
-আজ প্রোমোশন হয়েছে। অফিস
থেকে আমাকে দিয়েছে।
.
কিন্তু জামাল এখানে নেই। একটা
আধবুড়ো লোকের সাথে মিতু প্রেম
করে। হয়তো মিতুও বুড়ি হয়ে গেছে।
.
যেদিন আনিকার সাথে জামালের
বিয়ে হয় সেদিন মিতু আনিকাকে খুন
করে জামালকে বিয়ে করতে
চেয়েছিল। কারন যেই মানুষটাকে
ছোট বেলা থেকে দেখে আসছে।
ছোট বেলা থেকে ভালবেসে
আসছে। তাকে কিভাবে অন্যের
স্বামি হিসেবে দেখবে?
.
আনিকা চলে যাওয়ার পরে মিতু
জামালের পাশে থাকে। জামাল
পাত্তা না দিলেও আনিকা তার মত
লেগেই ছিল। পরে জামালও
.

.
জামাল তার ছেলেকে নিয়ে
বাসায় নিজের বাসায় আসলো।
প্রথমে ভেবেছিল। জামালের ছেলে
তাকে চিনতে পারবে না। কিন্তু তার
ছেলে তাকে চিনতে পারলো।
মায়ের কাছে ছবি দেখেই নাকি
চিনেছে।
.
বাসায় এসে স্বাধিন বলল
-তুমি আমার একটা ছবি একে দিবে?
-আমি ছবি আকতে পারি। তুমি
কিভাবে জানলে?
-মা বলেছে।
-মা আর কি কি বলেছে?
-তুমি নাকি নাকি কোন কাজ ঠিকমত
করো না।
-হুম।
-এখন আমাকে ছবি একে দিতে
পারবে?
-হ্যা।
-তাহলে আকো।
.
স্বাধিন চেয়ারে বসে আছে। আর
জামাল ছবি আকছে। অনেক চেষ্টা
করেও ছবি আকা হচ্ছে না।আজ
জামালের প্রতিভা নষ্ট হয়ে গেছে।
.
দুইদিন জামাল তার ছেলের সাথে
ভালই ছিল। আজ তার ছেলে চলে
যাচ্ছে। জামাল তার ছেলেকে বলল
-আচ্ছা বাবা। তোমার মায়ের কাছে
থাকতে ভাল লাগে নাকি বাবার
কাছে?
-দুইজনের সাথেই? তুমি আর মা
একসাথে থাকো না কেন?
স্বাধিনের প্রশ্ন শুনে জামাল কিছুই
বলতে পারলো না।
.

.
স্বাধিনকে রেখে আসার পরে
জামালের ঘরটা আক ফাকা ফাকা
লাগছে। চেয়ারে বসে বসে
স্বাধিনের কথা ভাবছে। মিতুর ফোন
পেয়ে জামাল ফোন ধরলো। মিতু বলল
-জামাল ভাই। তুমি আজ বিকেলে
আমাদের বাসায় আসতে পারবে?
মিতুর মুখে ভাই কথা শুনে জামালের
অবাক লাগলো। কারন মিতুর মুখে
জামাল ভাই শোনে নি। মিতুর
ভাইয়ের বন্ধু হওয়ায় তাদের বাড়িতে
যেত। নাম ধরে ডাকার কারনে
অনেকে অনেক কথা বলতো।
জামাল বলল
-কেন?
-কালকে আমাকে দেখে একটা
ছেলে পছন্দ করেছে।
-তোমাকে তো পছন্দ করবেই। অপছন্দ
করার কিছু নেই।
-আজ আমার বিয়ে। ঘরোয়া ভাবেই
আমার বিয়ে হচ্ছে।তুমি ভাইয়ার বন্ধু
হিসেবে আসবেই কিন্তু।
.
জামাল ফোন রেখে দিয়ে
সিগারেট জালিয়ে বসে আছে।ফোন
বেজে যাওয়ায় কারনে জামাল ফোন
ধরলো। ফোনের ওপাশ থেকে বলল
-বাবা। আমরা আজ বিকেলে চলে
যাচ্ছি।
-ও।
-তুমি আমাকে একটা ছবি একে
দেওয়ার কথা ছিল। একে দিবে?
-আচ্ছা আমি একে দিব।
-আচ্ছা।তাহলে একে দিও।
.
ফোন রেখে দিয়ে জামালের চোখ
দিয়ে পানি বের হয়ে গেল।
অনেকদিন পরে জামাল কাঁদছে। শেষ
কেঁদেছিল আনিকা যাওয়ার দিন।আজ
জোড়ে জোরে কাঁদতে ইচ্ছে করছে।
.
জিবন তার গতিতে চলে যাবে।
কারো জিবন কারো জন্য থেমে
থাকবে না।
.
রঙের তুলি হাতে নিয়ে আজ ছবি
আকা হচ্ছে। আজ চোখ দিয়ে পানি
বের হচ্ছে আর রঙের তুলিতে ছবি বের
হচ্ছে.........
.
লেখা--Pabnar Tarcera Balok

সংকলন ৩৩৯- শুধুই ভালবাসা

লেখা:মাহমুদ হাসান

মধ্যরাত ফ্যানের শব্দের পাশাপাশি ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক
শোনা যাচ্ছে।আবার মাঝেমাঝে দুর থেকে নিশাচর
পাখির ডাক ভেসে আসছে।ঘুমহীন চোখে বিছানায় শুয়ে
আছে চমক।কখনো চোখ খোলা কখনো চোখ বন্ধ।
রাত জাগাটা এখন চমকের জন্য নিয়মিত হয়ে পড়েছে।
শত চেষ্টা করেও সহজে ঘুমের দেশে হারিয়ে যেতে
পারে না।কিছুদিন আগেও সব ঠিকঠাক ছিল।অধিকাংশ
মানুষের নির্ঘুম রাত যাপন করার পেছনে মুখ্য ভূমিকা
পালন করে দুঃচিন্তা কিন্তু চমকের রাত জাগাটা
দুঃচিন্তার কারনে নয় আবার সুচিন্তাও নয়!
ঘুমের ঘোরে দেখা স্বপ্ন ঘুম থেকে উঠার পরে
চমকের মনে থাকে না তাই জেগে জেগেই সপ্ন দেখে।
কল্পনায় হারিয়ে যায়,কল্পনায় অনেককিছু
পরিকল্পনাও করে যদিও সেগুলো সকাল হলেই পালিয়ে
যায় ভীরুতার দরুনে।চমক এত ভীরু নয় শুধু স্নেহার
সামনে গেলেই ভয়টা চলে আসে বুকে টিপটিপানি সৃষ্টি
হয়,ভূমিকম্প না এসেও হাত পা কাঁপা শুরু করে দেয়।
এইতো সেদিন বন্ধু মহলের প্রবল চাপে,ভীরু,কাপুরুষ
ট্যাগ পেয়ে অবশেষে স্নেহাকে মনের কথা বলে দেয়ার
এক দৃঢ় অঙ্গীকার করে।কিন্তু ওর সামনে দাড়াতেই
সারা রাতের সাজানো সব কথা যেন বারমুডার
ট্রায়াঙ্গলে একনিমিষেই গায়েব হয়ে
যায়।'ভালবাসি'কথাটি খুব ছোট ও খুব সহজ হলেও এর
ব্যপ্তি অনেক,মনে হয় শব্দ ভান্ডারে সবচেয়ে
রহস্যতম শব্দ হল ভালবাসা,ভালবাসি।আসলে এক
দূর্ভেদ্য রহস্য এই শব্দটাকে জড়িয়ে ধরে তাই এরকম
হয়।ভালবাসা একটি মনঃস্তাত্তিক ও রহস্যময়
ব্যাপার।কখন,কিভাবে,কে,কাকে ভালবেসে ফেলে হয়ত
এ জন্যই জানা যায় না।চোরাবালিতে পা রাখার পরেই
যেমন বুঝতে পারে তেমনি কাউকে ভালবাসার পরেই
বুঝতে পারে সে fall in love.তখন আর পিছু ফিরাবার
উপায় থাকেনা,কোনভাবেই পিছু ফিরে আসা যায় না।
চমক রহস্যেঘেরা চোরাবালিতে ডুবতে চায়না,সে
ভালবাসতে চায়,ভালবাসা পেতে চায়।ভালবাসা চাইলেই
পাওয়া যায় না ভালবেসেই ভালবাসা পেতে হয়।
সাহসের জোরে না হোক ভালবাসার জোরে স্নেহাকে
মনের কথা জানাতে হবে।শংকা কাজ করছে চমকের
মনে স্নেহা যদি তাকে ভাল না বাসে!তবুও বলতে
হবে,যেভাবেই হোক বলতে হবে...
-স্নেহা কেমন আছো?
-ভাল,আপনি?
-হুম ভাল।তোমার সাথে কিছু কথা ছিল!
-বলেন।
-আসলে কি ভাবে বলব বুঝতেছি না,আবার বলার মত
কিছু দেখতেছিও না।
-একবার বলতেছেন কিছু বলবেন,আবার বলতেছেন
বলার কিছু নাই!সমস্যা কি আপনার?
-সমস্যা কিছু নাই।আর আমি যে তোমাকে ভালবাসি
সেটাতো তুমি জানোই,এই কথাটা ঘটা করে বলার
দরকার কি?তাইনা!
-জানি মানে!আপনি কাকে ভালবাসেন না বাসেন আমি
কি করে জানবো?
-এখন তো জানাইলাম।
-মানে কি!!
রাগে গজগজ করছে স্নেহা,বেশি রাগলে সে কথা
বলতে পারে না।কেউ কোনদিন কাউকে এইভাবে
প্রপোস করেছে কিনা স্নেহা তাই ভাবছে।সে ও
ভালবাসে চমককে অনেকদিন থেকেই কিন্তু তাই বলে
এভাবে কেউ কাউকে প্রপোস করে!অবশ্য ওর মত
একটা হাঁদারামের কাছ থেকে এর বেশি আশা করাও
যায় না।অনেকদিন অপেক্ষায় ছিল স্নেহা কিন্তু চমক
বলেনি অবশেষে স্নেহা সিন্ধান্ত নিয়েই ফেলেছিল সে
নিজেই আগে চমক জানাবে তার ভালবাসার কথা।
চমক নিজে নিজেই হাসতেছে এই ভেবে যে,অবশেষে
নিজের মনের কথাটা সে বলতে পেরেছে খুব সহজেই।
এতটা সহজে বলতে পারবে নিজেই চিন্তা করতে
পারেনি।কথাটা বলার পর থেকেই নিজেকে অনেক
হালকা লাগছে চমকের।মনে হচ্ছে শরীর-মন থেকে
হাজার মন ওজনের পাথরের ভার নেমে গেছে।আর এই
সহজ কথাটা বলতেই কয়েক বছর লেগে গেল!
হাসছে স্নেহাও।কখনো মনে মনে,কখনো
আনমনে,কখনো মুখ ফুটে।চুপিসারে ভালবেসে যাওয়া
মানুষটির কাছ থেকে ভালবাসার কথা শুনতে
পাওয়া,জানতে পারা যে কতটা আনন্দের সেটা স্নেহা
জানে,যারা শুনতে পেয়েছে তারাই জানে।ভালবাসায়
গড়া মাটির ঘরেও যেমন অনেক সুখি থাকা যায় তেমনি
যেমন করে হোক,যেভাবেই হোক প্রথম ভালবাসার
কথা শুনতে পারার মাঝেও অনেক কিছু পাওয়া যায়।
চমককে শুধুই ভালবাসা যায়।কপট রাগ বা কোনভাবেই
বেশিসময় ধরে অভিমান করেও থাকতে পারে না স্নেহা।
মায়াময় চেহারা,নিঃস্পাপ হাসি,অনেকখানি
সরলতা,অনেকখানি ভালবাসতে পারার ক্ষমতা,খুব
সহজেই মানুষকে আপন করে নিতে পারা,নিজের সুখ
গুলো সবার মাঝে ছড়িয়ে দেয়া,দুঃখ গুলোকে একাকি
আপন করে নেয়া,অন্যের দুঃখে দুঃখি হওয়া এরকম
হাজারো কারন আছে চমককে ভালবাসতে।কিন্তু
স্নেহা কোন কারন ছাড়াই তাকে ভালবাসে,কেন
ভালবাসে তা জানেনা শুধু জানে ভালবাসে।যাকে
ভালবাসা যায় তাকে কষ্ট দিয়ে,দূরে সরিয়ে রেখে
নিজের দঃখের বোঝা স্নেহা বাড়াতে চায়না।হাতে
আছে কলম আর এক টুকরো কাগজ লিখে ফেলছে
মনের মাঝে জমানো কথা।
কত রাত কত ভোর
ছিলেম আশায় তোর
আসবি কাছে বলবি হেসে
ভালবাসি সখি তোরে
ভালবাসি,ভালবাসি,শুধুই ভালবাসি।

সংকলন ৩৩৮- এটা গল্প হলেও পারতো

-একুশ.....
.
-হুম বলো !
.
- এই অসময়ে ছাদে কি করো শুনি?
.
- মেঘ দেখি ।
.
- মানে কি !
.
- জানিনা তো !
.
-শীতের আকাশে মেঘ পেলে
কোথায় ?
.
- মেঘ পাইনি তো।
.
- তবে?
.
- মেঘ খুঁজছি।
.
- কেন মেঘ দিয়ে কি হবে ?
.
-ধুলো জমছে মনে, যদি ধুয়ে যায় !
.
- মেঘ বুজি সব ধুয়ে দেবে?
.
- জানিনা তো!
.
-তবে কি করো?
.
- কিছুনা।
.
- ধুলো মুছে গেলে কি হবে?
.
-মন খুঁজতে বের হব॥
.
- আচ্ছা তুমি এমন কেন !
.
-কেমন আমি ?
.
-এইযে তোমার মত ।
.
-তবে হয়তবা তাই হবে !
.
-জানো আজ আমার ভীষণ মন খারাপ!
.
- মা বকেছে বুঝি?
- না । আসার আগে ফোন দিয়েছিলাম। রিসিভ করো নি।
.
- গল্প লিখছিলাম। ফোন নিশ্চুপ ছিলো।
.
- আচ্ছা, আমি তোমার মুখ থেকে শেষ
একটা কথা শুনতে এসেছিলাম।
.
- "শেষ একটা কথা"। বলে দিলাম। শুনেছো তো?
- সিরিয়াসলি নিতে পারো না কোন
কিছু?? তুমি আর কখনোই বদলালে না...
.
- একটু একটু পারি। তবে সবসময় পারি না।
.
- আমাকে কি খুব হাস্যকর মনে হচ্ছে তোমার?
.
- হাস্যকর নয়, তবে তোমার মনটা খুব খারাপ এটা মনে হচ্ছে।
.
- হুম.. আমার মনটা বড্ড খারাপ । কাল সন্ধ্যের সময় আমার বিয়ে।
.
- দাওয়াত দিতে এসেছো?
.
- না... তোমার মুখ থেকে শেষ একটা কথা শুনতে এসেছি।
.
- শেষ একটা কথা। সেটা তো আমার জানা নেই।
.
- আমি কিন্তু এখন কেঁদে ফেলবো!
.
- এখন কান্না করা উচিত হবে না।
.
- তুমি উচিত অনুচিত নিয়ে ভাবতে
শিখলে কবে থেকে?? বাহ!
.
- কালকে তোমার বিয়ে, বাসায় যাও
এখন। খুব সুন্দর করে হাতে মেহেদী দিও ।
.
- আমি ঐ ছেলেকে বিয়ে করবো না।
.
- আমাকে বিয়ে করতে চাচ্ছো?
.
- হুম...
.
- শীতটা আজকে একটু বেশিই পড়েছে,
ভীষণ ঠান্ডা লাগছে, তোমার শালটা একটু দিবে ?
.
- আমাকে বিয়ে করবে তুমি??
.
- জানো? রাতের বেলায় খুব শীত
করছিলো কাল, কিন্তু কম্বলটা ছাড়াতে
ইচ্ছে করছিল না.. দিন দিন বড্ড অলস হয়ে যাচ্ছি..
.
- আমাকে কি বিয়ে করবে না তুমি ??
.
- চাঁদ সমুদ্রের ব্যাপারটা কি তুমি জানো?
.
- নাহ!! কি জিনিস এটা?
.
- যে চাঁদ একবার জোয়ার আনে, কয়েক
প্রহর পরে সে চাঁদ ই আবার ভাটা
টানে!
.
- কি বলতে চাও, পরিষ্কার করে বলো।
.
- তোমায় নিয়ে কবিতা লিখেছিলাম,
তোমাকে নিয়ে গল্প বুনেছিলাম,
তোমাকে ঘিরে ঘোর স্বপ্নের মাঝে ডুব
দিয়েছিলাম। কিন্তু সব গল্প কবিতার
পাতা নষ্ট হয়ে গেছে ।
.
- প্লিইইইজ একুশ, আমি সরি!!
.
- একদিন স্বপ্ন ভেঙ্গে গেলে দেখি
স্মৃতির শূণ্য ম্যাগাজিন পড়ে আছে ,
স্মৃতিগুলো সব নষ্ট হয়ে গেছে।
.
- আমি অজস্রবার সরি!!
.
- হৈম, আমার না এখন আমাদের
ভার্সিটির ক্যাম্পাসের কৃষ্ণচূড়া
গাছের নিচে বসে থাকতে ইচ্ছে করছে...
.
- কিন্তু এখন তো অনেক রাত !!
.
- তবু যাবো, আর সারাটা রাত দূর
আকাশের নিঃসঙ্গ তারার গল্প শুনবো !!
.
- এখনি যাবে?
.
- হুম, এখনি।
.
- আমি কি করবো তাহলে?
.
- কি করতে চাও?
.
- কৃষ্ণচূড়া গাছটার নিচে তোমার কাঁধে মাথা রেখে শেষবারের মতো
কিছুক্ষণ বসে থাকতে চাই। নিয়ে যাবেনা আমায় ?
.
- সত্যি !
.
- হুম..
.
- চলো তাহলে !!
---
---
---
গভীর রাত নেমেছে। প্রিয় ভার্সিটির
চিরচেনা ক্যাম্পাসটার সেই কৃষ্ণচূড়া
গাছটার কাছে গিয়ে বাইক থামালো
একুশ। এই জায়গার স্মৃতি অনেক। তাই
বিস্মৃতির অন্তরালে সবটুকু স্মৃতি আড়াল
হবার আগেই এখানে আর একটাবার
আসার আসলেই দরকার ছিলো খুব।
.
কৃষ্ণচূড়া গাছটা তাদের প্রণয়ের প্রথম
সাক্ষী। অনেক ঝগড়াঝাটির সাক্ষী।
মান অভিমানের সাক্ষী । আনন্দ আর
কষ্ট ভাগাভাগি করে নেবার সাক্ষী।
তাদের শেষবারের মত দেখতে না
পেলে খুব একটা অভিমান মনে পুষে
রাখতে পারে এই লাল সবুজের বৃক্ষটি।
গাছের গায়ে হেলান দিয়ে বসেছে
দুজন। আগের মতই গল্প জমে উঠলো
আবার। সময়ের দিকে নজর নেই, গত দুই
মাসের ব্রেকআপের সময়টুকুর দিকে
কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই, ভালোবাসা
মন্দবাসায় কোন আক্ষেপ নেই, গল্পের
খেয়ায় ক্লান্ত শরীর এলিয়ে এল
হৈমের। একুশের কাঁধে মাথা রেখে
ঘুমিয়ে পড়লো সে। তার উত্তপ্ত
নি:শ্বাসটুকু টের পাচ্ছে একুশ। ভারী
অপার্থিব লাগছে সবকিছু, জেগে
থাকা
মানুষটার কাছে। ঘুমন্ত মানুষটা জেগে
উঠে প্রথম কোন কথাটা বলবে তা তার
জানা নেই। দূরে থেকে একটা গানের
আওয়াজ অল্প
আসছে। কিংবা নিজের মনের মাঝেই
হয়তো সুর তাল লয় মিলিয়ে গানটা
বেজে চলেছে একুশের মনে ।
.
" এটা গল্প হলেও পারতো
পাতা একটা আধটা পড়তাম
খুব লুকিয়ে বাঁচিয়ে রাখতাম তাকে ..
তাকে আটকে রাখার চেষ্টা
আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে তেষ্টা
আমি দাঁড়িয়ে দেখছি শেষটা ..
জানালায়..... "
.
গানটা শুনতে শুনতে অন্যমনা হয়ে
পড়লো একুশ। এই মুহূর্তে দুনিয়ার
সবচেয়ে সুখী কিংবা অসহায় মানুষটার
নাম সে জানে ... শুধু সে ই জানে!!
.
লেখা---Såñðíp Ð Týpíçål
ßøðmåísh (নিশ্চুপ বালক)

সংকলন ৩৩৭- মায়াবী প্রেম

লেখকঃ দিশাহীন বালক (জাবেদ)

মিষ্টি সকালে সূর্যের মৃদু আলোটা চোখ স্পর্শ করা মাত্রই ঘুম ভেঙে যায় আবিরের । ঘুম থেকে উঠে অন্তত একবার হলেও মোবাইল চেক করা এটাকে তার রীতিগত স্বভাব বলা যেতে পারে। মোবাইলের স্ক্রিনের দিকে চোখ পরতেই আবিরের চোখতো পুরো চড়কগাছ । অন্য কোন সময়তো এরকমটা হয়না । বেশ কিছু এসএমএস এসেছে তার মোবাইলে । প্রথম এসএমএস টা তার প্রিয় মানুষটার । অনেকটা কৌতূহল নিয়েই প্রথম এসএমএস টা open করল আবির । দেখা মাত্রই মনে পরে গেল যে আজ তার Birthday । আর সে কারনেই সবাই তাকে Wish করেছে । অবশ্য Birthday কথাটা সে প্রায় ভুলেই গিয়েছিল । হঠাত মোবাইলের স্ক্রিনে লেখা উঠল………………
Incoming Call Alpona….
আর হে বলাইতো হয়নি মেয়েটির নাম আল্পনা যাকে আবির সবকিছুর চাইতেও বেশী ভলবাসে । খুবই সহজ সরল একটি মেয়ে । সবচেয়ে আকর্ষণীয় হল ওর চোখ দুটু , খুবই মায়াবি । প্রথম দেখাতেই আবিরের চোখ আটকে যায় মেয়েটির চোখে । মেয়েটির সাথে আবিরের প্রথম দেখা হয় ওর বন্ধু রিয়াদের বোনের বিয়ের সময় । আবির এবং রিয়াদ খুব ভাল বন্ধু । চলতি মাসের ২৩তারিখ রিয়াদের ছোট বোনের বিয়ে। অবশ্য রিয়াদের জোরাজোরির কারনে বিয়ের ২দিন আগেই ওবাড়িতে যেতে হয়েছিল আবিরকে । আর অপরদিকে মেয়েটি রিয়াদের বোনের বান্ধবী । সেও হয়ত তার ঘনিষ্ট বান্ধবীর Request ফেলতে পারেনি , তাই বিয়ের ১দিন আগেই চলে এসেছে । সবাই বিয়ের আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত কেননা আজ যে হলুদ সন্ধা । মেয়েদের প্রায় সবাই কনে সাজাতে ব্যস্ত । আর বন্ধু রিয়াদ সেতো এখন বিশাল ব্যস্ত লোক, তাই হয়ত আবিরকেও সময় দিতে পারছেনা । সোফার এক কোনায় বসে মোবাইল টিপছে আবির। এমন সময় একদল মেয়ে কনেকে নিয়ে যাচ্ছে স্টেজের দিকে । মোবাইল থেকে মুখটা সরিয়ে তা একমনে দেখে যাচ্ছে আবির । হঠাত আবিরের চোখ আটকে যায় একটি মেয়ের চোখে । আবির যেন নিজের চোখ ফেরাতে পারছেনা , খুব কষ্ট করে নিজের চোখকে সংযত করল । নিচের দিকে তাকিয়ে ভাবছে “হয়ত এটাই সেই মেয়ে যাকে আমার মন খুজছে” । পরমুহূর্তে আবির আবার তাকাল কিন্তু এতখনে তারাও স্টেজে চলে গেছে । কেন যেন আবিরের বারে বারে সেই মেয়েটার কথাই মনে হচ্ছে । উঠে দাঁড়াল এবং চিন্তা করলো যেভাবেই হোক এই মেয়েটার সাথে কথা বলার একটা ফন্দি আটতে হবে । হঠাত একটা ফন্দি এলো তার মাথায় ভাবল দেখা যাক Apply করে ফলাফলটা কি হয় । সোজা স্টেজের দিকে গিয়ে শুরু করলো মেয়েটাকে খোঁজা । অবশ্য অতটা কষ্ট হলোনা খুজতে , নাবিলার(বন্ধুর বোনের নাম) পাশেই দেখা গেল মেয়েটাকে । ভাবল নাবিলাই একমাত্র পথ মেয়েটার সাথে কথা বলার জন্য । অবশ্য নাবিলার সাথে আবির ভালই ফ্রি ছিল । কেননা রিয়াদের সাথে প্রায়ই তাদের বাসায় যেত আবির চাচি ও নাবিলার সাথে আলাপ আলোচোনা হতো । তাই নাবিলাকেই Select করলো সে তার এই ব্যপারের হাতিয়ার হিসেবে।
সারাক্ষণ নাবিলার পাশেই দেখা গেল মেয়েটাকে। একসময় নাবিলাকে ডাকল আবির.........

:-কি হয়েছে আবির ভাইয়া বল ?
:-না, তেমন কিছুনা । তো তোমার বন্ধুরা সবাই এসেছে ?
:-হুম সবাই । তো তোমার সাথে ভাইয়াকে দেখছিনাযে ভাইয়া কোথায় ?
:-ওতো একটা কাজে বাইরে গেল । আচ্ছা নাবিলা ঐ মেয়েটা কে ?
:-ওর কথা বলছ , ওর নাম আল্পনা । আমার খুব কাছের বান্ধবী । এক ক্লাসেই পড়তাম । দাড়াও পরিচয় করিয়ে দেই ।
পরমুহুরতেই নাবিলার ডাক “এই আল্পনা, একটু এদিকে আয়তো “।
“আসছি” আল্পনার প্রতিউত্তর
:-কি হয়েছে বল ?
:-তোকে পরিচয় করিয়ে দেই । উনার নাম আবির, আমার ভাইয়ার খুব ভাল বন্ধু ।
.....................
:-Hi …. আমি আল্পনা ।
:-Hlw …. আমি আবির।
এভাবে কিছুক্ষণ কথা বলার মাঝে Friendship টা করে নিল আবির । সেদিন তাদের মধ্যে আর কোন কথা হয়নি । আবির কিছুটা হালকা অনুভব করছে আল্পনার সাথে কথা বলতে পেরে ।
পরের দিন সকালে বের হতেই আল্পনার সাথে দেখা ......।
:-Good Morning আল্পনা ।
:-Good Morning .
:-ভাল আছেন ?
:-হুম... ভাল । আপনি ?
:-ভাল । তো পড়ালেখা ?
:-এইতো Inter First Year. আপনি ?
:-Second Year. তো বাসায় কে কে আছেন ? .........
এভাবে কথা বলতে বলতে তারা একে অপরের খুব ভাল বন্ধু হয়ে যায় । অবশ্য তাদের সম্পর্কটা ততদিনে আপনি থেকে তুমিতেও চলে আসে । আস্তে আস্তে বিয়ের দিনগুলো শেষ হয়ে যায় এবং যার যার বাড়িতে যাবার সময় হয়ে আসে । আজ সকালে সব Guest রা চলে যাবে । চলে যাবে আল্পনাও । তাই হয়ত আবিরের মনটা একটু খারাপ । যাওয়ার পূর্বমুহূর্তে আবির এবং আল্পনার দেখা .........
:-Hi আবির ।
:-Hi . চলে যাচ্ছো তুমি ?
:-হ্যাঁ চলে যাচ্ছি । ভাল থেকো , আর এইটা আমার নাম্বার মনে পরলে কল দিও ।
:-Ok Thanks. ( আবির ভাবে এত মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি )
:-Bye আবির ।
:-Bye ভাল থেকো ।.....................
চলে যায় আল্পনা আর এদিক দিয়ে আবিরও সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে পা বাড়ায় ।
বাসায় ফিরে সারাক্ষণ শুধু আল্পনার কথাই মনে হতে থাকে আবিরের । ৩ দিন পেড়িয়ে গেল । এক রাতে আবির ভাবল আল্পনাকে একটা কল দেওয়া যাক । যেই ভাবা সেই কাজ ।
ওপাশ থেকে...............
:-হ্যালো ... কে বলছেন ?
:-আবির ।
:-ওহ ... আবির ? ভাল আছো তুমি ? আর আমার কথা মনে পরল তাহলে ?
:-হুম ভাল আছি । আর হ্যাঁ মনে পরল তাইতো কল দিলাম । তুমি কেমন আছো ?
:-হুম ভাল । তো বাড়ির সবাই ভাল আছে ?
:-ভাল । তোমার ?........................
এভাবেই তাদের মধ্যে কথা আদান প্রদান হতে থাকে এবং একে অপরের কাছে অনেক কিছুই শেয়ার করে। একটা সময় তারা দুজনেই একে অপরের প্রতি দুর্বল হয়ে পরে এবং ভালোবেসে ফেলে । কিন্তু কেউ কাউকে বলার সাহস পায়না বন্ধুত্ব হারাবার ভয়ে । তার কিছুদিন পর একদিন রাতের ফোনালাপ ......
:-হ্যালো আল্পনা ।
:-হ্যাঁ বল ।
:-কালকে একটু লেকের ধারে আসতে পারবে ?
:-কেন ?
:-দরকার আছে । আসতে পারবে ?
:-Ok আসব । ...............
আগে থেকেই একটা লাল গোলাপ এবং একবুক সাহস নিয়ে লেকের ধারে বসে আল্পনার অপেক্ষা করছে আবির । আজ তার মনের কথাটি বলবে তার প্রিয় জনকে । আল্পনাকি তাকে গ্রহন করবে নাকি ফিরিয়ে দিবে, এগুলোই ভাবছে সে । ওইতো আল্পনা আসছে । .........

:-তো কি খবর আবির ?
:-এইতো ভালো । তোমার ?
:-ভালো । তা কি জন্য ডাকলে ?
:-তোমাকে কিছু কথা বলার ছিল ।
:-বলো ।
:-আগে তোমাকে কথা দিতে হবে যে কথাগুলো শোনার পর তোমার উত্তর যা ই হোক না কেন তুমি আমাদের বন্ধুত্ব নষ্ট করতে পারবেনা ।
:-আচ্ছা ঠিক আছে । তা কি এমন কথা ।
( পেছন থেকে গোলাপটা সামনে এনে ) আল্পনা আ ... আ... আমি তোমাকে ভালবাসি ।.........
কথাটা বলার পরপরই আবির তার বাম গালটায় কিছুটা গরম অনুভব করছিল ।
:-এই কথাটা বলতে এতদিন লাগল ? ( কান্নাজড়িত কন্ঠে আল্পনার প্রতিউত্তর )
:-না... ভেবেছিলাম তুমি কি না কি মনে কর ।
:-আরে হাদারাম আমিও যে তোমাকে অনেক ভালবাসি । ......
সেদিনের মত খুশি মনে হয় আর কোনদিন ছিলনা ।
.........................................................
কথাগুলো ভাবতে ভাবতেই ফোনের ওপাশ থেকে .........
Happy Birthday To You …..
Many many thanks to you.
:-কেমন আছো ?
:-তুমি কাছে নেই কিভাবে ভাল থাকতে পারি বল ?
:-হয়েছে ... আর না বললেও চলবে । তা আজ আবার কোন Party হবে নাকি ?
:-সেটা সন্ধায় । তুমি আজ ৯:০০ টায় একটু লেকের ধারে এসোতো ।
:-কেন ?
:-এসো । Bye ….
অপর পাশ থেকে কোন উত্তরের অপেক্ষা না করেই ফোন কেটে দেয় আবির । কারন আল্পনা আসবে এ সম্পর্কে তার চেয়ে বেশি গ্যারান্টি আর কেউ দিতে পারবেনা ।
লেকের ধারে বসে আছে দুজন । আল্পনার দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আবির ।
:-কি হল এভাবে তাকিয়ে কি দেখছো ?
:-স্বপ্ন ... স্বপ্ন দেখছি ডিস্টার্ব করোনাতো ।
:-স্বপ্ন দেখছো ?
:-হ্যাঁ ।
:-আজবতো জেগে থেকেই বুঝি স্বপ্ন দেখা যায় ?
:-হ্যাঁ যায় ... ইচ্ছে করলেই দেখা যায়, তবে সবাই পারেনা ।
:-কেন ? সমস্যাটা কোথায় ? তুমি পারলে অন্যরা পারবেনা কেন ?
:-কারন সবারতো আর তোমার মত Girlfriend নেই ।
:-হয়েছে ...... আচ্ছা আবির তুমি সারাজীবন আমার পাশে থাকবেতো ?
আল্পনার হাতটা শক্ত করে চেপে ধরে আবির বলল ...
:-অবশ্যই থাকব, যেভাবে এখন আছি এভাবেই সারাটা জীবন তোমার পাশে থাকব ।
আবিরের কথায় অনেকটা স্বস্তিবোধ করে আল্পনা । কিছুটা ভেজা চোখে এক অতৃপ্ত চাহনিতে একে অপরের দিকে তাকিয়ে আছে । এ প্রহর যেন শেষ হতে চায় না ।

উৎসর্গঃ গল্পটা যখন লিখেছিলাম তখন উৎসর্গ করার মতো কেও ছিলনা তাই করিওনি, কিন্তু আজ করছি একটা পেয়ারা গাছের পেত্নীকে।

সংকলন ৩৩৬- পিচ্চি

তানভীন পারে নাই তার পিচ্চি
টাকে ধরে রাখতে,,, তার পিচ্চি
বোনটা তাকে একা রেখে চলে গেল
না ফেরার দেশে,,,, এই কয়দিনে পিচ্চি টা এতো বড় হয়ে
গেলো যে আমাকে একা রেখে নিজে
চলে গেলো।
এই তো সেই দিনের কথা তানভীন
ঘুমাচ্ছিল হটাৎ একটা চিৎকার শুনলো এই তুই ঘুম
থেকে উঠবি নাকি আম্মু কে ডাক
দিব,,, কে শুনে কার কথা তানভীন তো নাক
ডেকে কানে বালিশ দিয়ে
ঘুমাচ্ছে ।। হটাৎ পানির স্পর্শ এ তানভীন
এক চিল্লান দিয়ে বলে উঠলো
_তুই এটা কি করলি...? আমার গায়ে
পানি ঢাললি কেনো....?
_ যা করেছি বেশ করেছি...
কি করবি তুই...?
_ আমি এক্ষনি আম্মুকে বলছি দাড়া
_আম্মু আমার দলে বলে কাজ নেই!!
আম্মুই পানি দিতে বলেছে
_ কি,,, আম্মু বলেছে এটা..?
_ হুম।
_ পেত্নী তুই কি আমাকে একটু
শান্তি থাকতে দিবি না,,,,
তাড়াতারি বড় হয়ে বিদায় হ আমাদের বাড়ি থেকে
_ কি তুই আমাকে এই কথা বললি
থাকবো না আমি এই বাড়িতে,,,
আমি চলে যাবো তখন শান্তিতে
থাকিস। তানভীন তার পিচ্চি বোন টাকে অনেক
ভালবাসে কিন্তু তখন রাগে ওই কথা
গুলো বলে ফেলেছে। সারাদিন
একবারো দেখেনি পিচ্চি টাকে ।রাতে
খাবার টেবিলে আম্মুকে জিজ্ঞেস করলো
_ আম্মু অর্থি কোথায়...? আজকে
সারাদিনে আর দেখলাম না যে। আর
এখনো খেতে আসে নি কেন...?
_ অর্থি নিজের রুমে,,, খাবে না
বললো
_ খাবেনা কেনো?
_ তুই তো জানিস ও তোর সাথে রাগ
করলে কি করে
_ আচ্চা আমি দেখছি
তানভীন খাবার টেবিল থেকে উঠে
বাহিরে গেলো। কিছুক্ষন পর এসে
অর্থির রুমের দিকে গেলো,,,, রুমের দরজা নক করলো
কিন্তু কোন সাড়া শব্দ পেলো না।
_ অর্থি দরজা খোল আপু
_.......
_ এই দেখ আমি তোর জন্য কি এনেছি
_......
_ কিরে খুলবি না দরজা?
_.........
_ তুই যদি দরজা না খুলিশ তাহলে
_ তাহলে কি...?
_ তাহলে এই ক্যাটবেরি টা আমি
একাই খেয়ে ফেলবো
_ আচ্ছা খা, ,, আমি ও দরজা খুলবো
না
_ আচ্চা খাবোনা এবার দরজা খোল
না
এতক্ষন পরে অর্থি দরজা খুললো,,,
_ কি রাগ কমেছে মহারানী
_ ক্যাটবেরি দে...
_ যাহহ,,,বলতেই ভুলে গেছি দোকান
বন্ধ ছিল তাই আনতে পারি নাই,
_ তাহলে যে বললি
_ তোর রাগ কমানোর জন্য বলেছি
_ ঠিক আছে কালকে এনে দিতে হবে
ওকে।
_ হুমম,,, আচ্চা তুই ডিনার কর আমি
আমার রুমে যাই
_ ওকে,
তানভীন নিজের রুমে চলে গেলো
আর
অর্থি ডিনার করতে গেলো,,, ডিনার
করতে যেয়ে শুনলো তানভীন ডিনার
করে নাই
তাই তানভীন এর রুমে খাবার নিয়ে
গেলো অর্থি,,, যেয়ে দেখে
তানভীন ক্যাটবেরি খাচ্চে,,, আর
এটা দেখে
অর্থি বালিশ নিয়ে পিছন থেকে
মারা শুরু
করলো,,, আর বলতে লাগলো চকলেট
দোকানে নেই না,,,, মিথ্যুক,,, আর
তানভীন
হাসতে লাগলো, এভাবেই সবসময় একজন
আরেক জনের পিছনে পড়ে
থাকতো,,,,,,
.
_ এই ভাইয়া তোর মোবাইল টা দে তো
_ আমার মোবাইল তোকে কেন দিব
_ দিতে বলেছি তুই দে,,,না হলে
_ না হলে কি?
_ না হলে এই কাগজ টা আম্মুকে
দিয়ে
দিবো,,,
_ এটা কিসের কাগজ?
_ তোর রেজাল্ট এর কাগজ
_ এই বোন দোহায় লাগি তুই ওইটা
আমাকে দে মোবাইল তুই নিয়ে নে,,
_ হি হি হি
কাগজ টা খুলে তানভীন তো আকাশ
থেকে পড়লো, ,,পুরো কাগজ টা সাদা
আর সে ভুলেই গেছে তার রেজাল্ট
এখনো দেয় নি,, পিচ্চি টা তাকে
বোকা
বানিয়ে মোবাইল টা নিয়ে গেলো,,,
১ ঘন্টা পর পিচ্চিটা তানভীন এর
রুমে এসে বললো
_ এই ভাইয়া,
_ আসেন আসেন,,, আমাকে মিথ্যে
বলে
মোবাইল নেওয়া হয়েছে, , আজকে দেখ
তোর কি হাল করি,,,,,
_ দাড়াও ওহে বৎস
_ কেন,,,
_ মারার আগে ঘুরতে নিয়ে যা
_ আমি তোকে ঘুরতে নিয়ে যাবো
কোন
দুঃখে...?
_ ঘুরতে না নিয়ে গেলে আম্মুকে
এই
মেয়ের ছবি দেখিয়ে ডিবো কিন্তু
_ যা খুশি দেখা,,, আমি আর তোর
মিথ্যা
কথায় ভয় পাচ্চি নাহ
_ সত্ত্যি বলছিস...?
_ হুমম,,
মোবাইল টা তানভীন এর দিকে
ঘুরিয়ে
দেখিয়ে বললো
_ এই মেয়ের ছবি গুলো দেখাচ্ছি
আম্মু কে দাড়া
তানভীন দেখলো এবার আর মিথ্যে
না
সত্ত্যি সিনতিয়ার ছবি,, আর এটা
যদি
আম্মু দেখে তাহলে তানভীন শেষ
_ এইইইই দাড়া
_ কেনো...?
_ যা রেডি হয়ে আয়
_ সত্ত্যি নিয়ে যাবি..?
_ হুম
_ ১০ মিনিট ওয়েট কর আমি
রেডি হয়ে আসছি
_ ওকে.....
১০ মিনিট এর যায়গায় ৩০ মিনিট হয়ে
গেলো এখনো অর্থি আসলো না,,,
আরো অনেক্ষন পর আসলো
_ তোর কি ৪০ মিনিট এ ১০ মিনিট
_সরি রে একটু সাজুগুজু করছিলাম
আমাকে ভাল লাগছে...?
_ পেত্নী রে আবার ভাল
_ এই ভাল হচ্ছে না কিন্তু
_ আচ্চা ঠিক আছে চল
সারাদিন দুই ভাইবোন পুরো সহর
ঘুরলো
দুজন বাজিঁ লেগে ফুসকা খেলো,,,
এবার আসার পালা কিন্তু অর্থি
বায়না
দরলো আইস্ক্রীম খাবে,,,, অর্থির
ঠান্ডা খাওয়া নিষেধ তাই দিতে
চাইলো না প্রথমে তানভীন কিন্ত
বোন এর পাগলামি দেখে পরে কিনে
দিলো,,,
_ নে চল এবার বাসায়
_ হুমম চলো
এভাবে প্রায় তানভীন কে বোকা
বানিয়ে
পিচ্চিটা ঘুরতে আসতো, ,, আসলে
তানভীন ইচ্চে করেই বোকা
সাজতো,,, ও জানে, ,, নিজে বোকা হলে ওর
পিচ্চিটা কত্ত খুশি হয়,,আর তাই নিজে বোকা
হয়ে বোনকে হাসাতো,,, এভাবে ১২
বছর কেটে গেলো। .... আজ তানভীন এর
সেই পিচ্চি বোনটার বিয়ে,,, সবাই
কত্ত
খুশি শুধু তানভীন ছাড়া, ,, সে তার
পিচ্চি কে ছাড়া কিভাবে থাকবে ভেবেই
পাচ্চে না,,,যাই হোক সব দু:খ কে গোপন করে
বোনটাকে অন্যের বাড়ি পাঠিয়ে
দিলো
বেশ সুখেই আছে তার বোন,,,,,
আর এই সুখের বন্যা বয়ে এলো এটা
শুনে যে তানভীন এর সেই পিচ্চি
বোন
যাকে খাইয়ে দিতে হত,,, যার সব কাজ
করে দিতে হতো সেই পিচ্চি বোন
টা কনসিব করেছে,,,,,তার সেই পিচ্চির
মধ্যে এখন বেড়ে উঠছে আরেক
পিচ্চি ভেবেই পাচ্চে না তানভীন।
বোনের অনেক যত্ন অনেক খেয়াল
রাখলো তানভীন, ,,,
১০ মাস ১০ দিন হওয়ার আগেই
অর্থির পেট ব্যাথা শুরু হল
তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া
হয়েছে,,,,,
খুবই খারাপ অবস্থা অর্থির,,,
মা সন্তানের মধ্যে যে কোন
একজনকে বাঁচাতে হবে, ,, সবাই
অর্থিকেই বাঁচাতে বললো, ,,
কিন্তু বিধাতার ইচ্চে ছিল অন্য রকম
তানভীন এর পিচ্চি বোন টা তাদের
ছোট্ট একটা অর্থি উপহার দিয়ে
নিজে চলে গেলো না ফেরার দেশে
ডাক্তাররা অনেক চেষ্টা করলো
কিন্তু তাদের সব চেষ্টা ব্যার্থ হলো
.
অর্থিকে খুব ভাল ভাবে রেখে
এসেছে
তানভীন মাটির নিছে,,,, ঘুম
পাড়িয়ে,,,
যে ঘুম ভাঙার নয়,,,,
তানভীন তার আরেক পিচ্চি কে
নিয়ে
এখন বেঁচে আছে,,, তার ছোট বোনটা
ভাইয়ের বেঁছে থাকার একটা সম্বল
দিয়ে চলে গেল,,,, না ফেরার দেশে
_____________________
সমাপ্ত

লেখাঃ Riya Ahsan Chowdhury

সংকলন ৩৩৫- অবশেষে

রাত ২ টা ৩ মিনিট। মুন বার
মোবাইলটা হাতে নিয়ে বসে আছে।
শুধু একজনের ফোনের আশায় এত রাত
পর্যন্ত জেগে আছে।এর আগের বছরে
রাত ১২.১ মিনিটে রবি ফোনে মুনকে
জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছিল।
কিন্তু এই বছরে এত রাত পর্যন্ত ফোন
আসে নি। অনেকদিন রবির ফোন আসে
না।মুন জানে জন্মদিনে সবার আগে
রবি তাকে উইশ করবে।
.
মুন ঘুম থেকে জেগে গিয়েছে।
এমনিতে রাত জাগলে মুনের ঘুম
থেকে উঠতে অনেক দেরি হয়।কিন্তু
আজ চিন্তার কারনে মুনের ঘুম হয় নি।
মোবাইল টা হাতে নিয়ে দেখলো
অনেকগুলো মেসেজ।
.
মেসেজগুলো দেখে মুনের মনে আশা
জাগলো।নিশ্চয় রবি তাকে মেসেজ
দিয়ে জন্মদিনের শুভেচ্ছা
জানিয়েছে। এটা হতে পারে রবির
নতুন সারপ্রাইজ।
.
মেসেজগুলো বের করে দেখছে।
কিন্তু একটাও রবির মেসেজ নেই।
মুনের কেমন যেন লাগছে।
.
কয়েক সপ্তাহ আগে......
রবি পার্কে আসতেই মুন বলল
-এই তুমি চাকরি করো না কেন?
-চাকরি দিয়ে কি করবো? আমার
বাবার কি কম আছে নাকি?
-তোমার বাবার থাকলে তোমার
কি?
-আমার কি মানে!!! আমার বাবার
থাকলেই তো আমার।
-এইরকম হলে তোমার আর আমার বিয়ে
কোনদিন হবে না।কারন আমার বাবা
কোন বেকার ছেকের সাথে আমার
বিয়ে দিবে না।
-না দিলে সমস্যা নেই।আমি
তোমাকে বিয়ে করে আমার
বাড়িতে নিয়ে যাবো।
-আমি আমার বাবার পছন্দে বিয়ে
করবো। ইচ্ছা ছিল তুমি চাকরি পেলে
বাবার কাছে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে
যাবে।আর বাবা অবশ্যই রাজি হবে।
-কোন কুৎসিত চাকুরিজিবি যদি
তোমার বাবার কাছে বিয়ের
প্রস্তাব নিয়ে যায় আর তোমার বাবা
রাজি হলে তাকে বিয়ে করবে?
-দরকার হলে তাই।
-তুমি চাও আমি চাকরি করি?
-হ্যা।
-আচ্ছা। ঠিক আছে।আমি চাকরি
পেয়ে তবেই তোমার সামনে আসবো।
আর চাকরি না পেলে কোনদিন
তোমার সামনে আসবো না।
.
কোন কথা বলার সুযোগ না দিয়েই
রবি চলে গেল।ফিরেও তাকাল না।
.
সারাদিন রবি মুনের সাথে
যোগাযোগ করলো না।মুন ভাবলো
হয়তো এমনিতেই যোগাযোগ করে নি।
কারন মাঝে মাঝেই রবি এরকম করে।
.
পরেরদিন মুন রবির কোন খোজ না
জেনে তাদের বন্ধুদের সাথে
যোগাযোগ করেও রবির কোন খোজ
পেল না।
.
আজ পর্যন্ত রবির কোন খোজ পায় নি।
একজন লোক এসে মুনকে একটি পার্সেল
দিয়ে গেল। পার্সেলের উপরে
লেখা Happy Birthday। মুন পার্সেল খুলে
ভেতরে দেখলো একটা কেক। কেকটা
তার বান্ধবি পাঠিয়েছে। মুন প্রথমে
ভেবেছিল রবি পাঠিয়েছে। কিন্তু
পরে দেখলো রবি পাঠায় নি।
.
কেটে গেল আরো কয়েকদিন তবুও
রবির কোন খোজ খবর নেই। মুন রবির
বন্ধুদের তেমন চেনে না। দুই একজন
বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ করেছে।
তারাও নাকি রবির ঠিকানা জানে
না।
.
মুনের বাবা অনেক বাজার নিয়ে
বাড়িতে আসলো। অনেক মাছ আরও
অনেক আয়োজন। মুনের বাবা মুনের
মাকে ডাক দিয়ে সবকিছু বলল।
.
মুন ঘরে শুয়ে আছে। মুনের মা এসে
মুনকে ডাক দিয়ে বলল
-এই শাড়িটা পরে তৈরি হয়ে নে।
-এই সময় শাড়ি পরে কি হবে?
-একটু পরে ছেলে পক্ষ তোকে দেখতে
আসবে।
-মানে কি!! তোমরা আমাকে বিয়ে
দিতে চাচ্ছ।
-ছেলেটাকে তোর বাবার খুব পছন্দ
হয়েছে। তোর বাবা চায় না
কোনভাবেই ছেলে পক্ষ তোকে অপছন্দ
করুক।
-কিন্তু আমার তো পড়ালেখা শেষ হয়
নি।এখন বিয়ে করবো না।
-তুই তো জানিস তোর বাবার মুখের
উপরে কেউ কথা বলতে পারবে না।
আর ছেলের পরিবার শিক্ষিত। বিয়ের
পরে তোকে পড়ালেখা করাবে।
.
মুনের মা চলে যেতেই মুন রবির ছবিটা
বের করে দেখছে। মুনের পড়ালেখা
শেষ না করেই বিয়ে করতে কোন
অসুবিধা নেই।
মুন বিয়ে করতে চাচ্ছে না রবির
কারনে।আজ যদি রবি বিয়ের প্রস্তাব
নিয়ে আসতো.....
.
মুনের সাহস নেই তার বাবার সামনে
গিয়ে ভালবাসার কথা বলবে। তাই এই
সবকিছুই মুনকে নিরবে সহ্য করতে হবে।
.
মুনকে ড্রেসিং টেবিলের সামনে
বসিয়ে তার মা সাজিয়ে দিচ্ছে।
মুনের চোখ দিয়ে শুধু পানি পরছে।
মুনের মা বলল
-কিরে মা। কাঁদছিস কেন?
-বিয়ে হলে তোমাদের ছেড়ে
যেতে হবে ভেবে চোখে পানি
চলে এসেছে।
-তবুও মেনে নিতে হবে রে মা।
.
মুনের অনিচ্ছা সত্তেও মুনকে শাড়ি
পরে সাজতে হল।একদিন কলেজের
একটা অনুষ্ঠানে মুন শাড়ি পরেছিল।
সেদিন রবি মুনকে বলেছিল
-জানো।তোমাকে শাড়ি পরলে খুব
সুন্দর লাগে।
-
মুনকে সুন্দর করে সাজিয়ে ছেলে
পক্ষের সামনে নিয়ে যাওয়া হল।
সোফায় বসিয়ে ছেকের বাবা
সবকিছু জিজ্ঞেস করছে। মুন খুব কষ্টে
কান্না চাপিয়ে প্রশ্নের উত্তর দিয়ে
যাচ্ছে।
.
সব কথা বলার পরে ছেলের বাবা
মুনের বাবাকে বলল
-বিয়েই সাহেব। মেয়ে পছন্দ হয়েছে।
-তাহলে তো আপনিও বিয়েই হয়ে
গেলেন। হা হা হা।
এইসব মশকরা শুনে মুনের গা জলে
যাচ্ছে। সে শুধু নিচের দিকে
তাকিয়ে আছে। চোখ তুলে
ছেলেটার দিকে তাকাচ্ছে না।
কারন ছেলেটাকে মুনের বাবার পছন্দ।
এখানে মুনের পছন্দ না হলেও কিছু না।
.
কথা বলতে বলতে মুনের বাবা বলল
-আচ্ছা ছেলে আর মেয়েকে আলাদা
একটু কথা বলার সুযোগ দেওয়া উচিৎ।
আপনাদের ছেলের পছন্দ হয়েছে কি
না?
-আমাদের পছন্দের উপরে আমাদের
ছেলে কথা বলেবে না। আমাদের
পছন্দ মানে তার পছন্দ।
-আমার মেয়েও তাই। তবুও একে অন্যকে
জেনে নিলে ভাল হয়।
.
মুন আগে আগে রুমে ঢুকলো। রুমে ঢুকে
নিচের দিকে তাকিয়ে কেদে
যাচ্ছে। ছেলেটি কথা বলা শুরু করলো।
কন্ঠ মেয়েলি মেয়েলি। ছেলেটি
বলল
-আমাকে আপনার পছন্দ হয়েছে?
-.......
-আপনি অন্য কাউকে ভালবাসেন?এটা
আমাদের দুইজনের জিবনের বেপার।
-না।
-দেখুন আপনার চোখ দেখে বোঝা
যাচ্ছে আপনি কাউকে ভালবাসেন।
-কাউকে ভালবাসি না।
-আমার চোখের দিকে তাকান।
তাকিয়ে বলুন।
মুন চোখ তুলে তাকাতেই অবাক হয়ে
গেল।কারন তার সামনে রবি
দাড়িয়ে আছে। মুনের সব চাপা
কান্না একবারে বেড়িয়ে আসছে। মুন
কিছুই বলতে পারছে না।রবি বলল
-কি। কাউকে ভালবাসো না?
-না। তুমি আমার সাথে এইরকম করেছ।
তাই তোমাকে ভালবাসি না।
-তাহলে আমি চলে যাই।
-তোমাকে যেতে দিলে তো যাবে।
মুন কাঁদতে কাঁদতে রবিকে জড়িয়ে
ধরলো। যাতে বন্ধন ছেড়ে যেতে না
পারে........
.
-- Pabnar Tarcera Balok

সংকলন ৩৩৪- ভার্চুয়াল গার্লফ্রেন্ড

- 'মিস্টার নিশ্চুপ বালক, আপনি
এত্তগুলা পঁচা.. আপনি খুব বাজে একটা
ছেলে !!'
.
টিউশনী থেকে ফিরছি আধা ঘন্টা
খানেক আগে । নিজের প্রিয় বিছানায়
বসে ল্যাপটপে 'ICC WC 2k15'
গেমটা চালু করে ভার্চুয়াল ক্রিকেট
খেলার মজা নিচ্ছি । হঠাত্ ফেসবুকের
মেসেঞ্জারের টোনটা বেজে উঠল ।
গেমটা মিনিমাইজ করে মেসেজ
উইন্ডোটা অপেন করতেই দেখি এই
অদ্ভূত মেসেজটা । নাম দেখে মনে
হচ্ছে সম্ভবত কোনো মেয়ের আইডি ।
অপরিচিত একটা মেয়ের আইডি থেকে
মেসেজ দেখে যতটা না অবাক হয়েছি
তার থেকে বেশী অবাক করা মেয়েটার
কথাগুলো । কিছুক্ষণ বোকার মতো চেয়ে
রইলাম মেসেজটার দিকে ।
.
কিরে বাবা ? আমি আবার কী
করলাম ? নিজের অবসর সময় কাটানোর
জন্যই মূলত ফেসবুকে আসি । পরিচিত
কিছু মানুষ ছাড়া অন্য কারও সাথে খুব
বেশী চ্যাট হয় না বললেই চলে ।
অল্পসল্প গল্প লেখার চেষ্টা করি ।
পাশাপাশি কিছু অনলাইন রাইটারের
লেখা একটু আধটু পড়ি ।
.
মেয়েটাকে রিপ্লাইকে লিখলাম
- আমি আবার কী করলাম ?
- আপনি খুব খারাপ একটা ছেলে ।
আপনি আমাকে খুব কষ্ট দিছেন ।
.
মেয়েটার কথা শুনে অবাক না হয়ে
পারলাম না । মেয়েটার ফেসবুক নাম
'অভিমানী পরী' । মেয়েটার
প্রোফাইলে গিয়ে প্রথমেই আমার
চোখের দৃষ্টি নিবদ্ধ হল প্রোফাইল
পিকচারটা দেখে । নীল সালোয়ার
কামিজের সাথে হাত ভর্তি রঙ
বেরঙের চুড়ি আর চোখে হালকা কাজল
আর ঠোঁটে হালকা লিপস্টিকে
মেয়েটাকে রোমান্টিক রাইটারদের
গল্পের নায়িকাদের মতো লাগছে ।
মেয়েটার এই পিকচারটা দেখে কোনো
ছেলে যে চোখ বন্ধ করে প্রেমে পড়ে
যেতে পারে সেটা নিয়ে আমার কোনো
সন্দেহ নেই । প্রোফাইলে দেখলাম
বেশ কিছু কবিতা লেখা । বেশ সুন্দর
কবিতা । তবে একটা পোস্ট দেখে আমি
রীতিমতো ভিমড়ি খাওয়ার উপক্রম ।
পোস্টটা এরূপ -
.
" নিশ্চুপ বালক, একজন অনলাইন
রাইটার, হুম আপনাকেই বলছি আপনি
খুবই বাজে । আপনি আমাকে অনেক কষ্ট
দিছেন । আপনি খুবইইই পঁচা, পঁচা,
পঁচা, আপনি এতগুলা পঁচা !"
.
আমি সত্যি অবাক না হয়ে পারলাম না
। এই মেয়েটার মাথায় নিশ্চয় কোনো
সমস্যা আছে । আমার অবাক হওয়ার
মাত্রাটা আরও বেড়ে গেল মেয়েটার
পোস্টে কিছু লুল পাবলিকের কমেন্ট
দেখে ।
.
একজন লিখছে - "নিশ্চুপ বালক
ছেলেটা ফাজিলের ফাজিল । থাপড়িয়ে
ওর সবগুলো দাঁত ফেলে দেওয়া উচিত ।
ও তোমাকে কষ্ট দেয় ।"
আরেকজন লিখছে - "ফাজিলের আইডি
লিংকটা দাও তো এখুনি রিপোর্ট করব
।"
অন্যজন লিখছে - "এই ছেলেটাকে আমি
চিনি । ও আজাইরা গল্প লিখে
মানুষকে বিভ্রান্ত করে ।"
.
কেউ কেউ তো কমেন্টে আমারে
তথাকথিত নোংরা ভাষায় গালিগালাজ
করেছে । কিন্তু আমি করলাম টা কি
সেটাই তো আমি জানি না ।
.
মেয়েটাকে এবার আমি নিজেই নক
দিলাম,
-আমি কি করলাম বলবেন ?
-আপনি জানেন না কি করেছেন??
- বিলিভ মি, আই রিয়েলি ডোন্ট নো ।
-আপনি নিজেকে খুব বড় রাইটার
ভাবেন, তাই না ?
-তা কেন হবে ? আমি যা লিখি প্রায়
সবই আনাড়ি । তাছাড়া আমি কি কখনও
এমন আচরন করেছি ?
-হুম করেছেন তো ।
-কীভাবে ?
-আপনি জানেন না কেউ কমেন্ট করলে
কমেন্টের রিপ্লে দিতে হয় !
-হুম । আমি তো দেই রিপ্লে ।
-তাহলে সেদিন আমি আপনার দুইটা
লেখায় কত্ত সুন্দর কমেন্ট করলাম
কিন্তু এখনো আমার কমন্টের রিপ্লে
কেন দেন নি ? আপনি আমাকে ইগনোর
করেছেন !
.
ও মাই গড!! ব্যাপারটা তাহলে এই
কমেন্টের রিপ্লে না দেওয়া । এই
সামান্য বেপারে এতো কিছু !
মেয়েগুলা আসলে পারেও বটে । আমি
অনেক কষ্টে খুঁজে বের
করে দেখলাম আমার মাস ছয়েক আগের
দুইটা গল্পে মেয়েটা কমেন্ট করছে ।
দেখলাম বেশ সুন্দর কমেন্টই করেছে
অভিমানী পরী । এমন কমেন্টের
রিপ্লে না দেওয়াটা সত্যি অন্যায়
হয়ে গেছে । তাড়াতাড়ি উত্তর দিলাম
। তারপর থেকে অভিমানী পরীর সাথে
আমার খুব ভালো ভার্চুয়াল ফ্রেন্ডশীপ
হয়ে গেলো । কিছুদিন পর জানতে
পারলাম ওর নাম অতসী । ভিএনএসে
ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে পড়ে ।
.
বেশ কিছুদিন পরে মেয়েটা নিজে
থেকেই ইনবক্সে নক দিল -
-আচ্ছা লেখক সাহেব, আপনার নাম
নিশ্চুপ বালক কেন ?
- আমি সবসময় নিশ্চুপ থাকি তাই ।
- আর আপনার রিয়েল নাম তো একুশ ।
এই নামটা এমন অদ্ভূত কেন ?
- আমার বার্থডে একুশ তারিখে তো
তাই ।
- আমার কিন্তু তা মনে হয় ।
- কী মনে হয় ?
- আপনি মানুষটাই অদ্ভূত তাই আপনার
নামটাও এমন অদ্ভূত । হিহিহিহি ।
...
...
...
তারপর ঠিক যে কী হলো...আর মনে নেই
। শুধু মনে আছে.. এই নিশ্চুপ ছেলেটা
আর নিশ্চুপ থাকে না !! প্রতিনিয়ত
তাকে তার অভিমানী পরীর মিষ্টি
অভিমান গুলো ভাঙ্গাতে ব্যস্ত থাকতে
হয় মোবাইল ফোনের এই পাশটাতে
!!
.
Written By :: Såñðíp Ð
Týpíçål ßøðmåísh (নিশ্চুপ
বালক)

সংকলন ৩৩৩- শ্রেয়সী আমার...

লেখা__মি.বুঝ বালক(The Old Bachelor)

.....
রাতের নিস্তবতায় ঘুমিয়ে গেছে
শহর,ঘুমিয়ে
পরেছে সব ভাল আত্মারা।হয়ত জেগেআছে
কেউ কেউ শ্রেয়ার মত মন্দভাগ্যের খোলস
নিয়ে।ছাদের একটি কোণে দাড়িয়ে নক্ষত্তের
কষে পড়া দেখছে শ্রেয়া আর নিজেকে
আলো ছায়ার মেলায় হারিয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছে।
মানুষের জীবন কতটা বিচিত্র হতে পারে তা
নিজেই জানে না,যদিনা নিজে তার সামনা সামনি হয়।
সবাইকে ভাল রাখার চিন্তায় আজ শ্রেয়া নিজেই ভাল
নেই।সব কিছু ছেরে আজ দুরে এই খালার বাসায়
থাকতে হচ্ছে।পরিবারের পছন্দ করা ছেলেকে
বিয়ে করে সবার মন রক্ষা করতে চেয়েছিল যার
প্রতিচ্ছবি ফুটে আছে তার সারা শরীলে।
ব্যাংকের বড় অফিসার,বাড়ি,গাড় ি আছে সব দেখে
শুনেই বিয়ে দেয়া হয়েছিল।সুখেই থাকবে
শ্রেয়া ভাবত পরিবার,কিন্তু হয়েছে তার ঠিক
উল্টো।এতটাই বাজে ভাবে ওকে ভাল রাখা
হয়েছে চিন্তাও করতে পারে না। আসলে সব মা
বাবারাই চান যে তাদের মেয়ে যেনো সুখে
থাকে,কিন্তু কিছুকিছু ক্ষেত্রে বুঝতে চাননা ঠিক
কোথায় মেয়েটার সুখ।মানুষ কষ্টে
থাকলে সব আগে মনে পড়ে তার অতীতের
ভাললাগার সময়কেই। আজ শ্রেয়ারও খুব মনে পড়ছে ২
বছর আগের অতীতকে,খুব ইচ্ছে করছে ফিরে যেতে সেই সময়টাতে।।ঠিক তখনই
গীটারের তারের সাথে একটা মায়াবী সূরের
আওয়াজ ভেসে এলো,,,
"আমার সবটুকু বিশ্বাস যে দিয়েছে
ভেঙ্গে,তাকে কৃতজ্ঞতা জানাই,সে যে
দিয়েছে আমার অন্ধ চোখে আলো,যার
বিশালতার মাঝে আমি একটুকু পাইনি ঠাই ,তাকে
কৃতজ্ঞতা জানাই সে যে দিয়েছে
আমায় মহা শূন্যে আশ্রয় । আমার সব অপূর্ণতা যেন
হয়,আমার শূন্য পথের পথিক শ্রেয়তম আশীর্বাদ।''
গানটা শুনে নিজের অতীতকে খুব কাছ থেকে
দেখে ভাবতে থাকে শ্রেয়া।গানটা আনাফের খুব
প্রিয় ছিল।কিন্তু অর ভয়ে গাইত না।
আনাফ ছিল সেই ছেলে যাকে ভালবাসত
শ্রেয়া,আসলে তা ছিল
ভালবাসার থেকেও বেশি কিছু।একজন
আরেকজনকে নিজেদের থেকে বেশি
ভালবাসলেও সময় তাদের এক হতে দেয়নি।
এখনও মনে আছে শেষ দিনের
কথা,আনাফ এসেছিল বিদায় নিতে,চলে যাবার
সময় শুধু একবার
থাকিয়ে ছিল আনাফ,শ্রেয়া জানে
তখন কাঁদছিল
ছেলেটা তারপরও তার কিছু করার ছিল
না,তাকে ফিরে যেতেই হবে।শুধু মন থেকে
বলেছিল ''ভাল থাকিস আমার প্যাঁচাটা,তোকে
খুব মিস করব''আজ এতো দিন পর অর কথা মনে হতেই
কষ্টে নীল হয়ে যায় শ্রেয়া কেনো এমন
হল তার সাথে।ভাবতে ভাবতে আবার স্রোতের
মতো ঝড়ে পরল আরো কয়েকফুটা নুনা জল।
ঠিক তখনই পিছন থেকে শ্রেয়ার চোখ
হাত দিয়ে ধরে নিতা কিন্তু ও নিজেই
অবাক হয়ে যায় শ্রেয়া কাদছে।নিতা শ্রেয়ার
খালাত বোন।
_আপু তুমি আজও কাঁদছ অইসব মনে করে?
তোমাকে না বললাম সব ভুলে যেতে?
মানুষ কি
না পারে বলো।
_নারে আমি অইসব ভেবে কাঁদছি না।
একটু মা
বাবাকে মনে পড়ছিল উনাদের ছেড়ে
এখানে
থাকছি তাই ।আচ্ছা বাদদে ,একটা কথা
বলতো এই
যে গান গাইছে কে ও?
_ওওও...তুমি আনাফ ভাইয়ার কথা
বলছ,ঊনি আমাদের
নীচ তলায় থাকেন অনেক দিন।কোন
একটা
প্রাইভেট ফার্মে জব করেন।খুব ভাল
একটা
ছেলে।জানো আপু শুনেছি উনি একটা
মেয়েকে অনেক ভালবাসতেন কিন্তু
মেয়েটি
উনাকে ছেড়ে চলে যায়।আমি উনাকে
পছন্দ
করতাম কিন্তু কোনদিন চোখ তুলে
থাকাননি আমার
দিকে।আমি বলার পর উনি আমাকে
বললেন
''সবাইকে ভালবাসা যায় না,আর
যাকে ভালবাসা যায়
থাকে ছেড়ে ভুলে থাকা যায় না।''
কথাটা শুনে অনেকটা চমকে উঠে
শ্রেয়া।কারণ
এই কথাটা আনাফ ওকে বলত সব সময়।
অনেকটা
অন্যমনস্ক হয়ে যায় শ্রেয়া,সম্বিত হয়
নিতার
ডাকে।
_আপু কি হল চুপ হয়ে গেলে কেনো?
আবার
কান্না করবে নাকি?
_আরে না চল কাল দেখবনে কেমন
ছেলেকে আমার ছোট্ট আপুটা পছন্দ
করেছিল।তখন আবার একটা গানের কলি
ভেসে
এলো......
''তবুও স্বর্গ দারে একা থাকব তার
অপেক্ষায়,যেন
আমার অভ্যর্থনা তাকে করে
অনুতপ্ত,জানি তখনও
সে আমার হবে না, তবুও এই
অপ্রাত্যিটাই যেন
আমায় করে পরিপূর্ণ।''
রুমে এসেও আজ জেগে আছে
শ্রেয়া,আজ
বুঝি আর দুচোখে ঘুম নামবে
না,জানালার পাশে
দাঁড়িয়ে আবার নিস্তব্দ রাস্তা
দেখতে থাকে।আজ
অনেকদিন পর সৃতির জানালা খুলে
দিতে মন চাইছে
শ্রেয়ার,ব্যাগ থেকে খুঁজে বের করল
পুরনো সেই ডাইরীটা।কিছু লিখতে
গিয়েও
থেমে যায়।
_নিতা সব দেখে,শ্রেয়া ভেবেছে ও
ঘুমিয়েছে কিন্তু ও জেগেছিল।কাল
সকালেই
দেখতে হবে কি আছে
ডাইরিতে_ভাবে নিতা।
প্ল্যান মত সুযোগ বুঝে পুরো ডাইরী পড়ে
নেয় নিতা,অবাক হয়ে যায় ও,এমন
ভালবাসাও বুঝি
আছে?দুই পরিবারের সম্পর্ক ঠিক রাখার
জন্য
ভালবাসার মানুসটাকে ছেড়ে
যাওয়া আবার তাকে
বুঝতে না দেয়া যে কি কারনে এই
ছেড়ে
যাওয়া।অনেক কিছু লেখার সাথে
একটা ছবিও পায়
নিতা,যেটা ছিল আনাফের।বুঝতে
বাকি রইল না তার।
খুব খুশি হল এই ভেবে শ্রেয়া আপুর
কান্নার দিন
বুঝি শেষ হয়ে আবার আনন্দে ভাসতে
যাচ্ছে।যা
করার তাকেই করতে হবে।ভেবে বের
করে
কাল দিন পর অর জন্মদিন।আর ওই দিনই
দুজনকে
দেখা করিয়ে দিতে হবে।
_ভাবা কথা মত তার জন্মদিনে
আনাফকে দাওয়াত
করল নিজেই ।শ্রেয়া আর আনাফের
সম্পর্কের
সব কথা নিতা তার মা বাবাকে বলে
দেয় এবং তার
প্লানের কথাও,তাই ঘরোয়া পরিবেশে
সব
আয়োজন করা হয়েছে জন্মদিনের
অনুস্টান।
আনাফ বসে আছে নীচে ড্রইং
রুমে,কথা
বলছিল নিতার বাবার সাথে।হঠাৎকরে
নিতার মা বলে
উঠলেন_শ্রেয়া মা,নিতার জন্মদিনের
কেকটা নিয়ে আয়তো।
নামটা শুনেই চুপসে যায় আনাফ,ভাবে এ আমার
শ্রেয়া নয়তো,আবার ভাবে আমার
শ্রেয়া হবে
কি করে,ওতো হারিয়ে গেছে আরর হয়ত সুখেই আছে।
কিছু একটার আওয়াজ শুনে মাথা তুলে থাকিয়ে
কিছুক্ষনের জন্য হৃদস্পন্দন থেমে যায়
আনাফের,সামনে যে তার শ্রেয়াই
দাঁড়িয়ে আছে,আর সেও তার দিকে থাকিয়ে
আছে।এ অবস্থায় শ্রেয়া কি করবে বুঝতে না
পেরে কেকটা ফেলে রেখে দৌড়ে ছাদে চলে যায়।
এ কি হল,ও কখনও ভাবেনি আনাফের
সাথে এভাবে দেখা হয়ে যাবে।
_অন্যদিকে আনাফ ভাবে এ কাকে দেখছে
আনাফ,তার শ্রেয়া যে আর শ্রেয়া নেই।ভাবনায়
ছেদ পড়ে নিতার কথায়।
_খুব অবাক হচ্ছেন তাই না ভাইয়া?হ্যাঁ এ
তোমারই শ্রেয়া।মানুষ নামের পশুটা খুবলে খুবলে এই
অবস্থা করেছে।আজকে আমার
জন্মদিনের সব
চেয়ে বড় উপহার হবে যদি তোমাদের
আবার
এক সাথে হাসতে দেখি।আমি সব
জেনেছি
তোমাদের সম্পর্কে।শ্রেয়া আপু এখনও
তোমাকেই ভালবাসে ভাইয়া।আর এখন
আপু নিশ্চয় ছাদে আছে যাও।
আর থেমে থাকতে পারেনি
আনাফ,অনেকটা দৌড়েই ছাদে চলে যায়।যে মানুষটার জন্য এত
অপেক্ষা সে মানুষটা যে আজ তারই
সামনে। ছাদের কোনে দাঁড়িয়ে কেঁদেই যাচ্ছে
শ্রেয়া।পিছন থেকে বলে উঠল আনাফ,
_অনেকতো কেঁদেছ,এখন থামো প্লীজ।
তুমি জানো তুমি কাঁদলে আমি ঠিক
থাকতে পারি না। আমি ভাবতেও পারিনি আমার
শ্রেয়সীকে এভাবে দেখতে হবে।
শ্রেয়াঃ_কেন এসেছ?আমাকে দয়া
দেখাতে?
_ভালবাসায় কখনও দয়া হয় না
শ্রেয়া,ভালবাসায় শুধুই
ভালবাসা হয়,আর কিছুনা।
_প্লীজ আনাফ তুমি চলে যাও,আমি আর
আমার
জীবন সব নষ্ট হয়ে গেছে,আর কিছুই
বাকি নেই।আমি তোমাকে আর তোমার
জীবনকে নষ্ট করতে চাইনা।
_ব্যাস আর বলতে হবে না,সেদিন
ফিরিয়ে দিয়েছিলে কিছু বলিনি আজ তোমায় না নিয়ে আমি
যাচ্ছি না।একবারতো চেয়ে দেখো
তোমার প্যাঁচাটাকে।দেখবে না?ঠিক আছে
তুমি যদি না চাও আমি চলে যাচ্ছি,এ কথা বলে আনাফ
ঘুরতে যাবে ঠিক তখনই ঘুরে দাঁড়িয়ে দৌড়ে
আনাফের বুকে জায়গা নেয় শ্রেয়া।আমাকে ক্ষমা
করে দাও আনাফ,আমি আজ সত্যি নিঃস্ব হয়ে
গেছি।আর আমার নিঃস হয়ে যাওয়া তোমাকে
দেখাতে চাইনি কখনো।
_এই পাগলী কে বলেছে তুই নিঃস্ব?
আমি আছি কি
জন্য?আমি ভাবতেছি প্লান অনুযায়ী
ফুটবল টিম গঠনের কাজ যত তারাতারি সম্ভব শুরু
করা প্রয়োজন,এমনিতে অনেক দেরী হয়ে
গেছে।কি বলো? পেছন থেকে নিতা বলে ঊঠল,ওয়েট
ওয়েট। দুজনকে মিলিয়ে দিলাম আমি কই
আমাকে ধন্যবাদ দিবা তা না করে তারা ফুটবল টিম
নিয়ে প্লান করছে। আর আমার কি হবে এখন?
আনাফঃসমস্যা নাই তোমাকে আমাদের ফুটবল
টিমের মহিলা কোচ বালিয়ে দেবো।
এই বলে এক সাথে তিন জন হেঁসে উঠল।
..................................
সত্যি ভালবাসা জীবনে থাকলে অন্যকিছু
প্রয়োজনটা কম হয়,জীবনে ভালবাসা
থাকলে অনেক সময় ভালবাসা খেয়েও বেঁচে
থাকা যায়। ভাল থাকুক সেই ভালবাসাগুলো।

সংকলন ৩৩২- অস্তমিত ভালবাসা

লিখাঃ অচেনা বালক


- কালকে দেখা হচ্ছে তাহলে অরি
- হ্যাঁ ৷
- তাহলে স্টার কাবাবে বিকাল ৫টায়
আমি অপেক্ষায় থাকবো ৷
- আচ্ছা কিন্তু তোমাকে চিনব
কিভাবে?
- আমি তোমাকে চিনে নেব
- আচ্ছা ৷ গুড নাইট
- গুড নাইট
অর্নব আর রিসার পরিচয় ২০১০ সালে
ফেবুর মাধ্যমে ৷ পরিচয় থেকেই
ভাললাগা আর ভালবাসা ৷ অর্নব
বর্তমানে আহসানউল্লাহতে
আর্কিটেকচার প্রথম বর্ষে আর রিসা
ক্যামব্রিয়ানে উচ্চমাধ্যমিক প্রথম বর্ষে
আছে ৷
একজন আরেকজনকে ভালবাসলেও এখনো
কেউ কাউকে দেখেনি ৷
আগামীকালই তাদের প্রথম দেখা হবে ৷
অর্নব রিসাকে অরি বলে ডাকে ৷
অর্নবের অ আর রিসার রি মিলে অরি ৷
উত্তেজনায় সারারাত ঘুমুতে পারে না
অর্নব ৷ পরদিন স্বপ্নের পরীর সাথে
দেখা ৷ কিভাবে কি বলবে এসব ভাবতে
ভাবতেই কখন যে সকাল হয়ে যায় তা সে
বুঝতে পারে না ৷
অপরদিকে রিসা তার স্বপ্নের
রাজকুমারে বিভোর হয়ে কাটিয়ে দেয়
সমস্ত রাত ৷
পরদিন বিকাল ৫টা, স্টার কাবাব,
অর্নব আগেই চলে এসেছে ৷ একটা ছোট্ট
লাল গোলাপ নিয়ে এসেছে রিসাকে
দেওয়ার জন্য ৷ রিসা নিশ্চয় অনেক খুশি
হবে এই ভেবে ৷
৫টা ০৩
আকাশী রঙের জামা পড়া এক পরীর
প্রবেশ ৷ হ্যাঁ রিসা ৷
রিসার দিকে তাকিয়ে যেন শ্বাস
নিতে ভুলে যায় অর্নব কিন্তু রিসা
তখনো অর্নবকে দেখতে পায়নি ৷
রিসাকে এদিক-ওদিক তাকাতে দেখে
অর্নব ডাকে, অরি!
চমকে উঠে ঘুরে পেছনে তাকায় রিসা ৷
কর্ণারের টেবিলে ছিমছাম
হুইলচেয়ারে বসা ছেলেটাই তাহলে
অর্নব, ভাবে রিসা ৷
রিসাকে নিজের দিকে তাকাতে
দেখেই গোলাপটা লুকিয়ে ফেলে
অর্নব ৷
চেয়ার টেনে অর্নবের টেবিলে বসে
রিসা ৷ কিছুটা অপ্রস্তুত ভাবে বলে,
- কেমন আছো অর্নব?
- এইতো ভালো ৷
- তুমি?
- ভালো ৷
অর্নবকে হুইলচেয়ারে দেখে ঠিক
মানতে পারে না রিসা ৷ অর্নব হাটতে
পারে না ৷ একথা সে রিসাকে আগেই
জানিয়েছে ৷ রিসাও সবকিছু জেনেই
অর্নবকে ভালবেসেছিল ৷ কিন্তু
সামনাসামনি দেখে তার মন পরিবর্তন
হয়ে যায় ৷ তার স্বপ্নের রাজকুমারের
হুইলচেয়ারে বসে থাকাটা ওর স্বপ্নের
সাথে মিলে না ৷
- ওহহো অর্নব আমার জরুরি একটা কাজ
আছে ৷ ভুলেই গেছিলাম ৷ আমরা
আরেকদিন দেখা করি?
- কিন্তু মাত্রই না এলে? এতো
তাড়াতাড়ি . . .
- সত্যিই সরি ৷ আরেকদিন দেখা করবো ৷
এই বলে কোনোরকমে বেড়িয়ে যায়
রিসা ৷
কি হলো কিছুই বুঝতে পারে না অর্নব ৷
ফুলটা তখনও হাতেই রয়েছে ৷
৫টা ৩৪
অর্নব বেড়িয়ে যায় ৷ বাসায় পৌছানোর
কিছুক্ষন পর একটা এস এম এস আসে
মোবাইলে ৷
''Ami r relation continue korte parbo na Arnob.
I'm sorry. Amr shathe r contact korar try koro
na.''
মাথায় যেনো আকাশ ভেঙ্গে পড়ে
অর্নবের ৷ সাথে সাথেই কল দেয়
রিসাকে কিন্তু অপর পাশ থেকে
যান্ত্রিক কন্ঠে ভেসে আসে আপনার
কাঙ্খিত নাম্বারে এই মূহুর্তে. . .
দিগ্বিদিক শূণ্য হয়ে একটানা কল দিয়েই
যায় অর্নব ৷ একসময় চার্জ শেষ হয়ে
মোবাইলটা বন্ধ হয়ে যায় ৷ ক্লান্ত হয়ে
মোবাইলটা ছুড়ে মারে মাটিতে ৷
রাত ১টা
বাড়ান্দায় খুব শান্তভাবেই বসে আছে
অর্নব ৷
কিছুক্ষন আগে মোবাইলটা চার্জে
দিয়ে চালু করেছে ৷ কিছুক্ষন পর
হুইলচেয়ারটা ঘুড়িয়ে রুমে যায় আর কল
করে রায়হানকে ৷
- হ্যাঁলো দোস্ত
- কিরে এতো রাত্রে? কোনো সমস্যা
হইল না তো?
- দোস্ত কালকে সকালে একটা কাজ
করে দিবি?
- কি কাজ বল?
- রিসাকে আমার একটা চিঠি পৌছো
দিবি?
- সেটাতো তুই নিজেই দিতে পারিস ৷
কিছু হইছে তোদের মাঝে?
- কালকে আমি একটু দূরে যাবো তো
তাই তোকে বললাম ৷
- অহ আচ্ছা তাহলে ক্যাম্পাসে দেখা
কর সকালে আর চিঠিটাও নিয়ে আয় ৷
- দোস্ত তুই সকালে আমার বাসায় চলে
আসিস প্লিজ ৷
- তোর মতিগতি ভাই আমি বুঝলাম না ৷
আচ্ছা সকালে আসতেছি ৷ বাই
- বাই
ফোনটা রেখেই স্মিত একটু হেসে
একটা ডায়রি আর কলম নিয়ে নিয়ে বসে,
"অরি,
চিঠিটা যখন তুমি পড়ছ আমি ততক্ষণে
আকাশের তারা হয়ে গেছি ৷
ভেবেছিলাম তোমাকে নিয়ে
জীবনের সকল অপূর্ণতা দূর করবো যার
স্বপ্ন আমি দেখেছি তোমায় নিয়ে ৷
কিন্তু সব স্বপ্ন কি আর পূরণ হয় বল?
আমি হয়তো তোমার স্বপ্নের রাজপুত্র
হতে পারিনি তবে তুমিই ছিলে আমার
স্বপ্নের রাজকন্যা আর এখনও আছো ৷
বলেছিলাম তোমাকে ছাড়া বাঁচবো
না ৷ যদি বাঁচতে হয় তাহলে তোমার
সাথেই ৷
আজ নিজের কথা নিজেই কি করে
ভাঙ্গি বলো?
তাই আস্তে আস্তে মরার চেয়ে
একবারে মরে যাওয়াটাই বেছে নিলাম

ভালোবেসেছিলাম তোমায় অরি ৷
আজও ঠিক ততটুকুই ভালোবাসি আর
আকাশের তারা হয়েও ভালোবেসে
যাবো ৷
নিজের স্বপ্নের রাজপুত্রকে খুঁজে নিও?
ভালো থেকো
ইতি
12911"
চিঠিটা আর বিকালের কেনা
গোলাপটা একটা নীল খামে ঢুকিয়ে
টেবিলেই রেখে দেয় অর্নব ৷
হাসতে হাসতে ড্রয়ার থেকে ব্লেড
বের করে বাম হাতের কব্জিতে
সজোরে চালিয়ে দেয় ৷ ফিনকি দিয়ে
বেড়োতে থাকে রক্ত তবু মুখ দিয়ে একটু
শব্দ আসে না ৷ কিছুক্ষন পর গলা কাটা
মুরগীর মতো ছটফট করতে করতে
হুইলচেয়ার থেকে পড়ে যায় অর্নব ৷
আরো কিছুক্ষণ ছটফটের পর নিথর হয়ে
যায় দেহটা ৷ রক্তে ভেসে যায় মেঝে ৷
অস্তমিত হয় আরেকটি ভালবাসার সূর্য ৷ শুধু
পেছনে রেখে যায় কিছু স্বপ্ন ভাঙা
কাচের টুকরো. . .

সংকলন ৩৩১- নিঃশেষিত ভালবাসা

এতদিনে ছেলেটা বুঝে গেছে
ভালবাসতে সুন্দর একটা মন যেমন লাগে ;
সাথে অর্থেরও দরকার হয়।
এসব ভাবতে ভাবতে
রাতের আধারে একাকি পথ চলেছে
অজানা কোনকিছুর উদ্দেশ্যে।
আসলে অজানা বললে ভুল হবে
বাড়ির দিকে-
জোতস্না অবলোকন করতে করতে।
আর ভাবছে পুরনো কোন সৃত্মির কথা;
যার জন্য তার সাজানো গোছানো
কিছু স্বপ্ন নিমেশেই ধুলিতে
মিটিয়ে গেছে।

২বছর আগে অনেকটাই কাকতালিও ভাবে ছেলেটা একটা মেয়ের
প্রেমে পরে যায়।
কাকতালিও বলছি এ কারনে কারন ছেলেটা কখনি মেয়েদের
সাথে তেমনভাবে মিশেনি
আর এগুলো সে খুব একটা
পছন্দ করত যে তাও না।
কিন্তু কথায় আছে না
প্রেম মানে না কন বাধা
ছেলেটির বেলায়ও তাই হল।
প্রেমে পরতে না চাইলেও পরে গেল।

রাত বেজে হয়ত ১২টা কি ১টা ছেলেটার ফোন বেজেই
যাচ্ছে ;
তাকিয়ে দেখে একটা অপরিচিত নাম্বার।
রিসিভড করার পরে বুঝে এটা আসলে সেই
যার কথা ভেবে তার রাত-দিন কাটে।
ফোন পেয়ে সে যেন এই
জগতে থেকে এক রঙ্গিন দুনিয়ায় পা দেয়-
যেখানে আছে
শুধু আনন্দ আর সুখ।
এভাবে বেশ চলে যাচ্ছিল তাদের দিন।

কথায় আছে না গরিবের কপালে বেশিদিন সুখ সয় না ছেলেটিরও তাই হল
হঠাত পরিবেশ বদলাতে থাকে।
যাকে ওতটা ভালবাসল সে একদিন
নিজেকে তার খোলসে বন্দি করে
নিতে থাকল।
আর ছেলেটিকে
এড়িয়ে যেতে থাকল।
ছেলেটির কাছে তখন দুনিয়ার সব কিছু
বাজে মনে
হতে থাকে।
কিছুতেই
আনন্দ পায় না সে।
হাসি কি জিনিস
সেটা সে ভুলেই গেল।
তবুও ছেলেটি আশা হারাল না।
এখনও সে স্বপ্ন দেখে
একদিন তার পাগলিটা ফিরে আসবে আর বলবে
আররে এত কষ্ট পেলে চলে!!!
আমিতো তোমারই আছি
আর দুজনে হারিয়ে যাবে দূরে কোথাও..........................

সংকলন ৩৩০- বিহ্বল ভালোবাসা

লেখাঃ সুখ পাখি (Shiplu MSl)

--শিপলু আমি আর তোমার সাথে
রিলেশন কন্টিনিউ করতে পারবো না।
আমি আর নিতে পারছি না। আমাদের
ব্রেক-আপ করা দরকার।।

--কিন্তু কেনো?? আমি কি কিছু ভূল
করেছি তোমার কাছে। যে তুমি আমার
সাথে রিলেশন রাখতে চাচ্ছো না??

--কোনো ভূল করোনি তুমি তবে আমার
আর এই রিলেশন ভালো লাগছে না।

--কেনো তুমি কি তাহলে অন্য কাউকে
ভালোবাসো??

--না আমি অন্য কাউকেই ভালোবাসি
না। আমার আর হচ্ছে না। প্লিজ, তুমি
আমাকে মুক্তি দাও।।।

--কি বলবো ভেবে পাচ্ছি না। আমার
দোষ না থাকা সত্ত্বে তুমি নিজেই
যখন বলছো এই রিলেশন তোমার ভালো
লাগছে না। তাহলে আমার জোর করার
কোনো কারণ নেই আর জোর করে
আটকানোও যাবে না।

--তোমার কষ্ট হবে না আমি যখন পাশে
থাকবো না।

--কষ্ট....কষ্ট আর আমাকে আঘাত করতে
পারে না। কষ্ট আমার কাছে সহনীয়
বস্তু।

--ওওও তাহলে তো ভালোই। আচ্ছা
ভালো থাকবে।। শুভ বিদায়।।

--আমার ভালো-মন্দ নিয়ে তোমাকে
ভাবতে হবে না।

মেঘলা চলে যাচ্ছে শিপলুর চোখের
কোণে দু-ফোটা অশ্রু ছলছল করছে।।

ছয় দিন পর শিপলুর কাছে মেঘলার
ফোন।।।

--হ্যালো, তুমি কোথায়?

--কেনো তাতে তোমার কি দরকার??

--বলনা, প্লিজ।।

--কলেজে।।

--তুমি পাঁচ মিনিট বসো আমি
আসতেছি।।

--মেঘলা আসলো আর বললো কেমন
আছো??

--ভালো, কেনো ডাকছো??

--হুম, তো তুমি আমাকে এই ভাবে ভুলে
গেলা।

--ভুলি নাই চেষ্টা করতেছি।

--কেনো??

--বারে তুমি আমায় রেখে চলে গেলা
আর সেটা ভেবে আমি কি শুধু কষ্টই
পাবো নাকি।

--তুমি আমাকে তো আটকাতে পারতা
তোমার আটকানোর অনেক পথ খোলা
ছিল। চেষ্টা করেও দেখলা না তো।।

--দেখো তোমাকে নিয়ে আমার
ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন ছিলো। যেহেতু তুমি
আমাকে নিতে পারছো না। নিজে
থেকেই চলে যেতে চাইছো। আটকিয়ে
হয়তো রাখলাম কিন্তু তোমার মাঝে
চলে যাবো শব্দটা থেকেই যেতো।

--আমি তো তোমায় যাচাই করে
দেখলাম যে তুমি আমায় কতটুকু
ভালোবাসো??

--তো কি দেখলা??

--কচু আমায় তুমি একটুও ভালোবাসো
না। (কাঁদোকাঁদো ভাবে)

--হুম তাই।। তো তোমার মাথায় এই সব
কুবুদ্ধি কে ঢুকিয়েছে??

--আমার বান্ধবী তৃপ্তি বলেছে যাচাই
করে দেখতে যে তুমি আমায় কত্তো
ভালোবাসো??

--দেখো ভালোবাসা যাচাই করে হয়
না। এটা অনুভূতিতে প্রকাশ পায়। আর
সেটা তুমিই এক মাত্র বুঝবা আমি
তোমায় কত খানি ভালোবাসি।
কারো কথায় যাচাই করে দেখতে হবে
না। এতে শুধু ভালোবাসায় দূরুত্বটায়
বাড়ে, ভালোবাসা না।

★এই ভাবে তাদের ভূল বুঝাবুঝির
অবসান হলো। কিন্তু এই রকম ভাবে
অনেকে তাদের ভালোবাসার
মানুষকে হারাতে বসেছে শুধু মাত্র
সন্দেহজনক ভাবে দোষারোপ করার
জন্য। কারণ তারা তাদের
ভালোবাসার প্রতি আস্থা পায় না।।।

সংকলন ৩২৯- নানু বাড়ির প্রেমের গল্প

~~ωπιττεη βγ~~ SoHeL YaLmAi JoY (মিঃ
আনস্মার্ট)
~~~~~~~★~~~~~~~~
২০০৫ সাল, আমি ইন্টার ফাস্ট ইয়ারে
পড়ি, বার্ষিক পরিক্ষার পর কলেজ লম্বা
এক মাসের ছুটি দিয়ে দিল। আম্মু বলল
যা এই ছুটিতে তোর নানু বাড়ি
বেড়িয়ে
আয়,আমিও না বললাম না কারণ অনেক
দিন নানি বাড়ি যাওয়া হয় না। আমার
নানুর বাড়ি মাগুরায় (অনেকেই
চিনবেন) । ও হ্যা আর একটা কথা
ওইখানে আমার একটা খালাত ভাই
আছে আল-আমিন (সিরাম জিনিস) ওর
জন্যই যাওয়ার আগ্রহটা অনেক বেড়ে
গেল,যাওয়ার পর ভায়ের সাথে অনেক
মজার হবে ভাবতে ভাবতে রাতটা
কাটালাম।
.
পর দিন ব্যাগে কিছু বই আর কিছু কাপড়
নিলাম,তারপর আব্বু,আম্মুর কাছ থেকে
বিদায় নিয়ে শান্ত ছেলের মত রওনা
দিলাম নানি বাড়ির
উদ্দেশ্যে,গাড়িতে উঠে ভাবছি
ভাইয়ের কথা অনেক মজা করব ভায়ের
সাথে,ছুটিটা দুই ভাই অনেক মজাই
কাটাব।
.
২ ঘন্টার মধ্যেই পৌছলাম
সেখানে,গাড়ী থেকে নামতেই
দেখি আল-আমিন ভাই আমার জন্য
অপেক্ষা করছে,আমি দৌড়ে গেলাম
ভায়ের কাছে, ভাই আমাকে জড়িয়ে
ধরল বুঝতে পারলাম ভাই অনেক খুশি
হয়েছে, তারপর দুজন পৌছলাম নানি
বাড়ি, নানি আমাকে দেখে তো মহা
খুশি, আব্বু,আম্মুর কথা জিজ্ঞাসা করল
সবাই কেমন আছেন,তোর শরীর এতো
খারাপ হয়ে গেছে কেন, ইত্যাদি
ইত্যাদি।
.
আমার নানু বাড়ি গ্রামে, তাই
বিকালে ভাই আর আমি ঘুরতে বের
হলাম,গ্রাম ঘুরতে অনেক ভাল লাগছিল,
রাতে বাড়ি ফিরলাম, এদিকে আমার
একটা মোবাইলেও চার্জ নাই,আম্মুর
সাথে কথা বলার দরকার,,,এখানে
বিদ্যুৎ নেই তাই ভাই বলল চল নাদিম
ভাইদের বাড়ি থেকে মোবাইল চার্জ
করে আনি, তো আর কি গেলাম, ভাই
আমাকে নাদিম ভায়ের সাথে পরিচয়
করিয়ে দিল,কথা বলেই বুঝতে পারলাম
নাদিম ভাই অনেক ফ্রেন্ডলি,ফোন
নাম্বার আদান-প্রদান করল, মোবাইল
চার্জে বসিয়ে, বসলাম নাদিম ভায়ের
ল্যাপটপে,,,,,চার্জ করে বাসায়
আসলাম, এভাবেই প্রতি দিন যেতাম
নাদিম ভায়ের বাসায়
.
একদিন নাদিম ভায়ের বাড়িতে একটা
মেয়েকে দেখতে পেলাম,চোখে
চোখ পড়ল, দেখেই যেন চোখ আটকে
গেল,এ যেন অন্য গ্রহের প্রানী,সৃষ্টিকর
্তা
যেন তাকে আমার জন্যই এই পৃথিবীতে
পাঠাইছেন,প্রথম দেখাতেই মেয়েটির
মায়া জালে বন্দি হয়ে
গেলাম,নিজের ভেতরে যেন অন্য রকম
একটা ফিলিংস কাজ করছে,নিজের
চোখকে বিশ্বাস করতে পারছি না যে
আমি কি সপ্ন দেখছি?,,,,,,
.
ভাই হাত ধরে টান দিল,আমি
বাস্তবে ফিরে আসলাম, আল-আমিন
ভাইকে জিজ্ঞাসা করলাম যে
মেয়েটি কে? ভাই বলল যে মেয়েটি
নাদিম ভায়ের বোন, চলে আসলাম
সেদিন,তার পর থেকে নাদিম ভায়ের
বাসায় গেলেই মেয়েটিকে দেখতাম
প্রতিদিন।
.
ভায়ের থেকে জানতে পারলাম
মেয়েটির নাম আখি,নবম শ্রেণিতে
পড়ে।একদিন গিয়ে দেখি
নাদিম ভাই বাসায় নেই, বাসাই শুধু
আখি আর তার আম্মু, ভাইয়াকে নাদিম
ভায়ের ঘরে বসিয়ে বললাম তুমি একটু বস
আমি আসছি,
.
বাইরে গিয়ে দেখি আখি বারান্দায়
দাড়িয়ে আমার দিকে তাকিয়ে
হাসছে,একটু পার্ট নিয়ে এগিয়ে
গেলাম আখির দিকে
বকুল (আমি):: আপনি হাসছেন কেন?
আখিঃ আপনার চুলের স্টাইল দেখে
বকুলঃ কেন খারাপ নাকি?
আখিঃ জানিনা.....
বকুলঃ বাই দ্যা ওয়ে,কিছু মনে না
করলে আপনার নাম টা জানা যাবে ?
( নাম জানি তারপরও জিজ্ঞাসা
করলাম)
আখিঃ সবার চোখে চোখে থাকি,,,
বকুলঃ মানে ?,,,
আখিঃ মানে আমার নাম আখি!
বকুলঃ আপনি অনেক মজার তো! আর
আপনার নামের মতই আপনি অনেক সুন্দর,,,
আখিঃ ধন্যবাদ! আপনার নাম?
বকুলঃ ফুল বাগানে থাকি,,,,
আখিঃ মানে ?
বকুলঃ আমার নাম বকুল,,,,
আখিঃ কিছু মনে করবেন না,আপনার
নামের সাথে আপনার হেয়ার স্টাইল
যায় না,
বকুলঃ (বুঝলাম মেয়েটা গ্রামে
থাকলেও একটু বেশিই চঞ্চল) হুম,,আমি
জানি,বকুল নামের ছেলেরা একটু ভদ্র
টাইপের হয়, অকে হেয়ার স্টাইল চেঞ্জ
করব,
আখিঃকিসে পড়েন আপনি?
বকুলঃ ইন্টার ফাস্ট ইয়ার & আপনি?
আখিঃ ক্লাস নাইন, আমি আপনার
জুনিয়র তাই আমাকে আপনি না বলে
তুমি বললেই খুশি হব
.
কথা বলতে বলতেই আখির আম্মু ডাক দিল
আখিকে,বাই বলে চলে গেল আখি।
বাসায় এসে ভাই আমাকে বলল
আমাকে নাদিমের ঘরে বসিয়ে তুই
কোথায় গিয়েছিলি? ভাইয়াকে
আমি সব কিছু বুঝিয়ে বললাম, ভাই বলল
দেখ বকুল এমন কিছু করিস না,যার জন্য
নাদিম আর আমার মধ্যে সম্পর্কটা নস্ট
হয়ে যায়।
.
পরদিন আবার গেলাম নাদিম ভায়ের
বাসায়,দেখলাম আখি রান্নাঘরে বসে
আম্মু সাথে কি যেন করছে চোখা
চোখি হল সাথে একটু মিস্টি হাসি,
নাদিম ভাইয়ের ঘরে গিয়ে দেখি
নাদিম ভাই আজ বাসাই, মাথাই টেনশন
ঢুকে গেল,আজ কিভাবে কথা বলব
আখির সাথে, ঘরে বসে আছি কিছুক্ষণ
পর আমার ফোনে অচেনা একটা
নাম্বার থেকে কল আসল, কথা বলে
জানলাম আখি,
বকুলঃ হ্যালো .....
আখিঃ হ্যালো....
বকুলঃ কে বলছেন প্লিজ...
আখিঃ আমি আখি,একটু মুন্সিদের লিচু
বাগানে আসবেন? আপনার সাথে কথা
আছে....
বকুলঃ আচ্ছা থাকেন আসছি.... ( মনে
মনে বললাম কাজ হইছে, মেয়ে দেখি
আমার প্রতি দুর্বল) ফোন রেখে আল-
আমিন ভাইকে বাইরে নিয়ে এসে
শুনলাম যে মুন্সিদের লিচু বাগানটা
কোথায়?
ভাই বুঝতে পারল কাহিনি, আমাকে
জায়গা টার কথা বলল, আর বলে দিল
যাই করিস ভেবে চিন্তে করিস আর
খারাপ কিছু করিস না,আমি বললাম
আচ্ছা,,,
.
ভায়ের দেওয়া ঠিকানা অনুযায়ী
আমি এগোচ্ছি মুন্সিদের লিচু
বাগানে,আমার ভেতরে কেমন যেন
একটা ভয় কাজ করছে,বাগানের মধ্যে
প্রবেশ করি দেখি খুব ভাল একটা
জায়গা,কিন্তু কাউকে দেখতে পাচ্ছি
না,ফোন করলাম আখির কাছে কিন্তু
ফোন বন্ধ, খুব চিন্তাই পড়ে
গেলাম,কিছুক্ষন পর একটা লিচু অনেক
জোরে এসে পড়ল আমার মাথার
উপর,মাথাই হাত দিয়ে তাকালাম
উপরে একি তাকিয়ে আমি অবাক,,,
আখি গাছে,,,
.
বকুলঃ কি ব্যাপার তুমি গাছে কেন?
আখিঃ আমি তো গাছেই থাকি, আমি
পেত্নী
বকুলঃ (রীতিমত ভয় পেয়ে গেলাম)
নিচের নেমে আসো বলছি,,,
আখিঃ কিছু লিচু পেড়ে নিয়ে আসছি
*নেমে আসলো আখি*
বকুলঃআমার ফোন নাম্বার পাইলা কই?
আখিঃভাইয়ার ফোন থেকে চুরি করে
নিয়েছি
বকুলঃ ওও,আচ্ছা,তো পেত্নী এতো
জরুরি তলপ কি কথা বলবে? (ভয়ে ভয়ে
বললাম)
আখিঃ নেন লিচু খান, আমি কিন্তু খুব
মডার্ন মেয়ে,সোজা কথা বলতে পছন্দ
করি,,
বকুলঃ হুম বল....
আখিঃ আমি আপনাকে ভালবাসি....
বকুলঃ হুম,, বুঝলাম,,, (মুচকি হাসছি)
আখিঃ কিছু বলেন.....
বকুলঃ কি বলব??
আখিঃ Do You Love Me?
বকুলঃ ভেবে দেখব, (আমিও অকে পছন্দ
করি বুঝতে দিলাম না,) কাল উত্তর
দিব,আজ যায়,,,,
আখিঃ প্লিজ উত্তরটা আজই
দিন,নাহলে রাতে ঘুমতে পারব না,
বকুলঃ এখন ভাল লাগছে না,কাল
দেখা হলে তোমার উত্তর পেয়ে
যাবে (মেয়েটাকে একটু টেনশনে
রাখলাম, ছেলেরা এটা করে খুব মজা
পায়),,,,
.
পরদিন ইচ্ছা করেই আখিদের বাসায়
গেলাম না,ভাবলাম আখিকে আর একটু
টেনশনে রাখি,ভাই একাই গেল নাদিম
ভায়ের বাসায়, একি কিছুক্ষণ পর আখি
দেখি আমার নানুর বাসায়, নানিকে
আমার কথা জিজ্ঞাসা করলে, নানি
বলল ঘরে
আছে,আখি এবার সোজা আমার রুমে
.
আখিঃ উত্তর কই?
বকুলঃ দেখো তুমি এখন অনেক ছোট,
ইন্টার পাস করে প্রেম করে,কেমন??
আখিঃ আমি রেগে যাচ্ছি কিন্তু, আর
আপনি যদি আমার প্রোপজ এক্সসেপ্ট না
করেন তাহলে আমি কিন্তু কিছু একটা
করে ফেলব,
বকুলঃ (বুঝলাম অনেক ভালবাসে
ফেলেছে
আমাই) আরে পেত্নি আমি তো
তোমার সাথে মজা করছিলাম,আমিও
তোমাকে সেই প্রথম দেখাতেই
ভালবেসে ফেলেছিলাম, I Love You
Too.
.
আখি আমাকে জরিয়ে ধরে কাদতে শুরু
করল,শুরু হল আমাদের ভালবাসা.
এরপর থেকে আমরা প্রতিনিয়ত সেই
লিচু বাগানে দেখা করতাম, ও
আমাকে লিচু পেড়ে পেড়ে খাওয়াত,
আখি লিচু ছুলে দিত আর আমি ওর কলে
শুয়ে লিচু খাইতাম,অনেক মজাই
যাচ্ছিল দিনগুলি নানু বাড়ি থেকে
আমার বাড়ি আসার আগের দিন দেখা
করলাম আখির সাথে
.
বকুলঃ আখি তুমি কি জানো, তুমি কি?
আখিঃ না,আমি কি বল...?
বকুলঃ তুমি একটা পাগলী
আখিঃ আমি তো তোমার জন্য পাগলী
হতেই চাই
বকুলঃ বাই দ্যা ওয়ে,কাল আমি চলে
যাব আমার বাড়ি
আখিঃ মানে কি? আমাকে ছেড়ে
তুমি কোথাও যেতে পারবে না, আমি
তোমাকে না দেখে থাকতে পারব
না।
বকুলঃ দেখ,এমন পাগলামি করে না,এমন
তো না যে আমি আর আসব না,, আর
বাসায় গিয়ে তো ফোনে তোমার
সাথে কথা হবেই, তাহলে সমস্যা
কোথাই?
আখিঃআমাকে ছাড়া তুমি থাকতে
পারবে?
বকুলঃ জানি তোমাকে ছেড়ে
থাকতে আমার অনেক কস্ট হবে,তারপরও
কিছু করার নেই,(ওর চোখে আমি স্পষ্ট
দেখতে পাচ্ছি,আমাকে হারাবার ভয়
ওকে গ্রাস করছে)
এভাবেই কথার এক পর্যায় মন না
চাইলেও আখি আমাকে বিদায়
জানালো।
.
পরদিন সবাইকে বিদায় জানিযে রওনা
দিলাম বাড়ীর উদ্দেশ্যে,,, বাসায়
পৌছিয়ে আগে ফোন দিলাম আখিকে,
খুব কান্না-কাটি করতে শুরু করল,তাকে
আরো বুঝালাম, তারপর শুরু হল ফোনে
আমাদের প্রেম-আলাপ,, জানি এ প্রেম
শেষ হবার নয়, তারপর থেকে কোন ছোট
ছুটি পেয়েও চলে যেতাম আখির
কাছে।
.
★★ এখনো চলছে এই ভালবাসা,
তবে সেটা অন্য রকম ভালবাসা,দুজন এখন
সুখে শান্তিতে সংসার করছে,
ছোট্ট একটা টুনা-টুনির বাসা বেধেছে
তারা......
(সমাপ্ত)

সংকলন ৩২৮- ভালোবাসার আর্তনাদ

সকাল ৯ টায় আসলাম সাহেবের জরুরী
একটা মিটিং আছে ।দেরি হলে বসের
কাছ থেকে কথা শুনতে হবে ।রাস্তায়
এসে জ্যামে আটকা পড়ে
গেছি,এদিকে মিটিং ।আল্লাই
জানে আমার কপালে আজ কি
আছে,সকাল সকাল এতো গরম পরছে ।
এমনিতেই মন টা খারাপ জ্যামে আটকা
পরে আছি ।৭থেকে ৮বছরের একটা
মেয়ে ফুলের মালা কেনার জন্য এক
ড্রাইভার কে বলতেই ড্রাইভার টি
মেয়ে টি কে উচ্চস্বরে কথা বলে
তাড়িয়ে দিলো ।আমার মত সবার ই
মেজাজ টা গরম হয়ে আছে ।ঢাকা শহরে
জ্যাম,এ আবার নতুন কি ।মেয়েটি মন
খারাপ করে অন্য গাড়ির দিকে
যাচ্ছিল ।আমি তাকে এই বাচ্চা বলে
ডাক দিলাম. . . . . .
..
..
জ্বী স্যার বলুন___মালা কত টাকা
করে !
___৫ টাকা করে,নেবেন স্যার।___হুম,নে
বো।___কয়টা নেবেন।___সবগুলাই
নিবো।
___এই নিন স্যার,কিন্তু এতো ফুলের
মালা দিয়ে কি করবেন ,আপনার
বউকে
দেবেন বুঝি।___কাউকেই নাহ ,এই নাও
তোমার টাকা(মেয়েটির কথা শুনে
চোখের কোনে জল চলে এলো)।
___এতো
বড় টাকার নোট তো ভাংতি নেই।
___তুমি সব টাকাই রেখে দাও।___না
স্যার,আমার মালার যে টাকা হয় সেই
টাকাই দিন ।___কিন্তু আমার কাছে
তো
খুচরা টাকা নেই,তুমি এই টাকা টাই
রাখো।___না স্যার,এতো বড় নোট
দেখলে আমার মা আমাকে বকা
দিবে।
___বকা দিবে ক্যানো ।___আমার মা
মনে করবে আমি টাকা চুরি করেছি
,আর ফুলের মালা বিক্রি করে তো
এতো টাকা পাওয়া যায় না ,তাই মা
সন্দেহ করবে।___তুমি টাকা টা রাখো
আমার অফিসের দেরী হয়ে যাচ্ছে
,তুমি অন্যদিন আমাকে আবার মালা
দিও. . . . . .
..
..
মিটিং এ যেতে একটু দেরিই হয়ে
গেলো ।মিটিং করে অফিসের
চেয়ারে বসে আছে আসলাম সাহেব।
মেয়েটির কথা মনে পড়ে যায়
তার,কি
সুন্দর তার ব্যাবহার দেখতে খুব সুন্দর
গোছ
গাছ করে কথা বলতে পারে।আফরিন
যদি বেঁচে থাকতো তাহলে এই
মেয়েটির মত হতো . . . . .
..
..
আজ থেকে ঠিক ৯বছর আগের
কথা,আসলাম সাহেব তার স্ত্রী এবং
তার ছোট্র মেয়েটি কে নিয়ে
বেড়াতে যায় বগুড়া তে ।কিন্তু
ভাগ্যবসত গাড়িটি এক্সিডেন্ট করে ।
আসলাম সাহেবের স্ত্রী এবং তার
কন্যা মারা যায় ।আসলাম সাহেব ও
গুরুতর আহত হন,তার ডান হাত টা
ভেঙ্গে
যায় ।সে তার স্ত্রী এবং মেয়ের জন্য
ছোটাছুটি করলে ,ডাক্তার তাদের
কে
মৃত্যু ঘোষনা করেন ।আসলাম সাহেবের
বড় একটা দুর্ঘটনা স্মৃতি হিসাবে তার
মনে থেকে যায়. . . . . .
..
..
অন্য আরেক দিন মেয়েটি স্যার স্যার
বলে ডাকছিলো ।আমি বুঝতে পারি
নি কে ডাকছে ,পিছন ফিরে
তাকাতেই দেখি সেই ছোট্র
মেয়েটিঃ কেমন আছেন
স্যার,আপনাকে কতো খোঁজা খুঁজেছি
কিন্তু কোথাও আপনাকে পাই নি ।
___ভালো ,তুমি কেমন আছো।___জ্বী
স্যার ভালা ।___এই নিন আপনার টাকা।
___কিসের টাকা ।___ওই যে সেইদিন
ফুলের মালা নিলেন ,আমার কাছে
ভাংতি টাকা ছিলো না ,আপনি
৫০০টাকার নোট দিয়ে চলে গেলেন ।
___তোমার তো দেখি মনেও আছে
,তোমার নাম কি ?___আমার নাম
মর্জিনা ।___বাহ সুন্দর নাম তো
তোমার
.থাকো কোথায়।___পাশের এক
বস্তিতে থাকি ।___ওহ তোমার বাবা
কি করে ,(বাবার নাম টি বলতেই
মেয়েটির চোখে জল) ।___আমার
বাবা
নেই ,আমাকে জন্ম দেবার পর নাকি
বাবা ট্রাক এক্সিডেন্ট করে মারা
গেছে ।___ও,তুমি ফুলের মালা বিক্রি
করে সংসার চালাও ।___না স্যার
,আমার মা দর্জির কাজ করে,আর আমি
ফুলের মালা বিক্রি করি ।___তুমি
লেখা পড়া কোরো না।___হ্যা স্যার
করি ক্লাশ থ্রি তে পড়ি ।___আমার
মেয়ে যদি বেঁচে থাকতো তাহলে
তোমার এতো বড়ই হতো ।___ক্যানো
আপনার মেয়ের কি হয়েছে ।___হ্যা
আমার একটা মেয়েও ছিলো ,আমরা
বেড়াতে গিয়ে এক্সিডেন্ট করি
,আমি বেঁচে যাই কিন্তু আমার মেয়ে
আর স্ত্রী কে বাঁচাতে পারি নি ।
___ওহ ,আপনি মেয়ে হারানোর কষ্ট টা
বোঝেন ,আর আমি বাবা হারানোর
কষ্ট টা বুঝি ।___ঠিক বলেছো,আচ্ছা
আজ
কে যাই ,যদি কোনোদিন দেখা হয়
আমাকে ডাক দিও ।___আচ্ছা স্যার
দিবো. . . .
..
..
মেয়েটি অনেক সুন্দর করে কথা
বলে,অথচ এই মেয়েটি কে অনেকেই
দেখতে পারে না ।কারন এরা
বস্তিতে থাকে বলে ।তাদের
পোষাকে বোঝা যায় এরা বস্তিতে
থাকে ।গরিব বলে কি এরা মানুষ না ।
এদের ও সুন্দর একটা জীবন আছে ,আছে
সুন্দর একটা মন,সুন্দর একটা স্বপ্ন ।এই
মেয়েটির ও একটা উজ্জল ভবিষ্যৎ
আছে ।
হয়তবা লেখাপড়া করে দেশের
উন্নয়নমূলক কাজে নিজেকে
নিয়োজিত করবে . . . . . .
..
..
Written By: Obujh Balok{Anik Ahsan}

সংকলন ৩২৭- তার মনের ফ্রেমে বন্ধী আমি

লেখা___আনিসুর রহমান।

ইয়াক.....
কেন যে ছেলেরা এইসব জিনিস খায়
আমি ঠিক বুঝতে পারিনা..!!!
আচ্ছা কি এমন আছে এই সিগারেটে
যে আপনি পিঙ্ক কালারের ঠোঁটটাকে
এভাবে কালো করে ফেলছেন ????
আপনার গার্লফ্রেন্ড কিছু বলেনা
আপনাকে???
" এক নাগাড়ে মেয়েটিই সব কথা বলে
গেলো "
হঠাৎ করে পেছন থেকে কেউ এমন
ভাবে কথা গুলো বলে ফেলাতে তার
আন্সার দেওয়ার জন্যে মীর প্রস্তুত
ছিলনা।
কিছুটা লজ্জাও পায় সে....!!!
মেয়েটি এখনো থুথু ফেলেই যাচ্ছে।
আসলেই ব্যাপারটা ঠিক হলোনা।
কিন্তু কি করবে সে???
এতক্ষণ সাথে সিগারেট ছিলনা তাই
খেতে পারেনাই, ঢাকা থেকে
চিটাগাং আসার মাঝপথেই বাসটা
নষ্ট হয়ে যায়।
ভাগ্যিস পাশেই একটা ছোট চায়ের
দোকান ছিল।
তাই কোন মতে ঘোরের ওপরেই সে
সিগারেট টা নিয়ে এই পাশে এসে
যায়।
ফলে মেয়েটিকে খেয়াল করতে
পারেনাই....
-- ওহ স্যরি.....
আসলে আপনাকে খেয়াল করিনাই..
( বলেই সিগারেট টা মাটিতে ছুঁড়ে
মারে )
অবশ্য সিগারেট টা সে অনেকটা রাগ
করেই ফেলে দেয়।
ইচ্ছা হচ্ছিল মেয়েটির গালে কষে
দুইটা থাপ্পড় দেওয়ার জন্যে।
তাই অন্তত থাপ্পড় না দিলেও কিছু
বলতে যাবে এমন সময়, মেয়েটি
অন্যদিকে তাকিয়ে আছে.....
প্রথম বারের মতো মীর সেই মেয়েটির
দিকে একটু ভালো করেই তাকালো।
চোখের পাপড়ি গুলো বার বার পড়ছে
মেয়েটার, সামনে সারিবদ্ধ গাছ গুলো
দেখলেই যেন চোখ জুড়িয়ে যায় আর
গ্রীষ্মের নীল আকাশের সাথে যেন
সামনের দৃশ্যটি মিলে মিশে একাকার
হয়ে যাচ্ছে....
মেয়েটি তার আপন মনেই সেই দৃশ্যটি
উপভোগ করছিল, আর মীরের চোখ এখনো
মেয়েটির চোখের পাতার দিকে.....
কি অদ্ভুত মায়াবী চোখ...
মনে হচ্ছিল সে তার মায়াবী চোখে
সেদিকে তাকিয়ে আছেই বলে দৃশ্যটা
এত সুন্দর লাগছে...
-- আচ্ছা একটা কথা বলবেন???
হঠাৎ নীরবতা ভেঙ্গে মেয়েটি
মীরকে প্রশ্ন করে উঠে...
-- অম অ ও হ্যা.... জ্বী বলুন.....!!!
-- হিহিহিহি.......
আ আ আপনি এভাবে কথা বলছেন
কেন???
হাহাহাহা......
মীর অনেকটা হ জ ব র ল অবস্থায় পড়ে
যায়, কারণ মেয়েটি হয়তো বুঝে
গেছে, মীর এতক্ষণ তার দিকেই
তাকিয়ে ছিল....
মেয়েটাকে দেখতে যথটা
সাদাসিধা মনে হয়েছিল, তার আচরণ
কিন্তু পুরোটাই ভিন্ন...
বেশ দুষ্টো প্রকৃতিএ মেয়েটা।
মীর অবশ্য বিষয়টা বেশ উপভোগ করছে
বটে।
-- জ্বী বলেন কি বলবেন???
-- ও হ্যা... বলছি।
আমি জানতে চাইছি আপনি যে অনেক
সিগারেট টানছিলেন, এতে কি কি
লাভ হয়েছে শুনি????
-- অবশ্য লাভ তো কিছুটা হলেও
হয়েছে...
আর এটা যেহেতু আমি লাইক করি, সো
পজেটিভ দিকটাই আমি বেশি
দেখবো।
-- যেমন????
-- এই যেমন...হুম.....
এটাতে আলাদা একটা ফিলিংস পাই
যেটা আর কোথাও পাইনা। আর খেতে
ভালই লাগে...
সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে.....
এই যেমন আপনার মতো সুন্দর, কিউট একটা
মেয়ের সাথে কথা বলার সুযোগ
পেলাম....!!!
-- ইয়ে মানে... ঠিক বুঝলাম না????
"মেয়েটা অবশ্য মীরের নীরবতা দেখে
আন্দাজ করতে পারেনি সে মোটেও
বোকা নয় সেটা,"
-- মানে হচ্ছে.... আপনি কি আমার
সাথে এভাবে নিজ থেকে কথা
বলতেন? যদি না আমি সিগারেট না
খেতাম আর সিগারেট এর টপিক না
উঠতো???
-- আজিব তো....!!!!
আপনি তো দেখছি ভালই কথা
প্যাঁচাতে পারেন....
কথায় বুঝা যাচ্ছে মেয়েটি মীরের
ওপর রেগে গেছে...
তাই সে আর কিছু বললনা।
মেয়েটা বাসের দিকে হাঁটা দিল....
*****
ধ্যাত....
অপরিচিত একটা মেয়ের কথায়
সিগারেট টা ফেলে দিতে গেলাম
ক্যান???
ইচ্ছা হচ্ছে নিজের চুল নিজেই টেনে
ছিঁড়ে ফেলতে।
গাড়ি এখনো ঠিক হয়নি...
ততক্ষণে একটা চা খেয়ে নেওয়া
যাবে।
-- মামা চা দেন তো একটা.....
চায়ে দু/তিন চুমুক দিতেই প্যান্টের বাম
পকেট থেকে সিগারেটের প্যাকেট
টা বের করে আবারো একটা ধরিয়ে
নিল।
অনেক আগে থেকেই তার অভ্যাস
চায়ের সাথে সিগারেট না হলে যেন
তার চলেই না।
*****
প্রায় দেড় ঘন্টা পর গাড়ি ঠিক হলে
সকল যাত্রী উঠে যে যার ইচ্ছা মত
বাসে বসে পড়ল।
মেয়েটিও ওঠে গেছে অনেক আগেই....
জলন্ত অর্ধেক সিগারেটটা ফেলতে
ইচ্ছা হচ্ছেনা মীরের।
তাই সব যাত্রী উঠার পরেই সে উঠবে
বলে মন স্থির করল।
গাড়ি অলরেডি স্টার্ট দিয়ে
দিয়েছে...
মীর এখনো বসার সিট পায়নি, তাই
আস্তে আস্তে পেছনের দিকে চলে
যাচ্ছিল।
পুরো বাসে যে যার মত বসে পড়েছে
কিন্তু আর একটা সিট খালি আছে মাত্র
সিট দেখা মাত্র মীর সেদিকেই ছুটে
যায়।
কিছুক্ষণের জন্যে তার অস্থিরতা যেন
থমকে গেল,
মুহূর্তেই তার মনে অদ্ভুত আনন্দ ঢেউ
খেলে গেল।
আরে....
পাশেই তো মেয়েটা বসে আছে।
-- বসতে পারি প্লিজ?
-- হুম...
হাতের আইফোন ফাইভ এস দেখেই
মেয়েটির ফ্যামিলি স্ট্যাটাস
সম্পর্কে মীর একটু আধটু ধারনা করেই
ফেলল।
কিন্তু বড় লোকের মেয়েদের সাথে আর
এই মেয়ের সাথে অনেক তফাৎ।
তার মাঝে কোন রকম ইগো এখনো
মীরের চোখে পড়েনি।
*****
সেই কখন থেকেই মেয়েটি মোবাইলে
ক্লেশ অব ক্লান গেইমটি খেলেই
যাচ্ছে।
মুখে এক প্রকার বিরক্তিরচাপ স্পষ্ট
দেখা যাচ্ছে।
-- আচ্ছা সে কি আমার ওপর রেগে
আছে??
নাকি ফাইজলামি একটু বেশি করে
ফেলেছি?? শিট...
আমিও না....
এখন কি করা যায়???
ভাবতে থাকে মীর....
এমন অবস্থায় নিজেকে কেমন জানি
অপমানিত লাগছে,
কিছুটা রাগ ও উঠতেছে বটে।
-- ধ্যাত উঠেই যাই বরং।
-- আংকেল.....
( পাশের সিটের বয়স্ক লোকটাকে ডাক
দেয় মীর )
-- আপনার যদি আপত্তি না থাকে
আপনি এই সিটে আসবেন প্লিজ..
আমি আপনার সিটে বসবো।
এই কথাটা শোনার সাথে সাথেই
মেয়েটি একটু উত্তেজিত হয়ে উঠে।
-- থামেন....!!!
এই সিটে বসলে সমস্যা কি আপনার????
-- না মানে...
আমার মনে হচ্ছিল আপনি আমার ওপর
কিছুটা বিরক্ত।
তাই নিজ দায়িত্বে কেটে পড়ার
চেষ্টা করছিলাম আর কি।
-- ইয়াক....!!!
কি গন্ধ... আবারো খাইছেন নিশ্চয়
পারেন ও বটে....
আপনার গার্লফ্রেন্ড কিভাবে সহ্য করে
এসব।
-- হাহাহাহা....
থাকলেই তো????
-- হুহুহু....
সব ছেলেরা একই ক্যাটাগরির ক্যান???
সুন্দরী কাউকে দেখলেই
গার্লফ্রেন্ডের কথা বলতে চায়না....
-- না.... আমি সত্যিই বলছি...
আর সত্যি বলতে কি আমার স্কুল কলেজ
লাইফেও গার্লফ্রেন্ড বাদ দিয়ে কোন
মেয়ে ফ্রেন্ডও ছিলনা।
ভার্সিটিতে এসে দু একটার সাথে
ফ্রেন্ডশিপ হয়েছে, তারা আমার স্কুল
ফ্রেন্ড ছিল।
খুব লাজুক টাইপের ছেলেদের হয়তো
কোন মেয়ে ফ্রেন্ড থাকাটা কঠিন
একটা বিষয়।
কিন্তু আপনাকে সুন্দরী কে বলছে???
-- কেন???
আমার কাছের মানুষরাই তো বলেছে।
-- হাহাহাহা....
সমস্যা তো ঐখানেই....
ওরা কাছের মানুষ তাই বলেছে হয়ত।
আর কোন কথা না বলে মেয়েটি
আবারো হাতে মোবাইল নিয়ে নেট
কানেকশন অন করে গেইম খেলা শুরু করে
দিল।
আবারো ফাইজলামিটা একটু বেশিই
করে ফেলল মীর...
*****
-- আচ্ছা..... হুম....
আ আপনার নামটা তো জানা হলো
না????
নীরবতা ভেঙ্গে ভয়ে ভয়ে
জিজ্ঞাসা করে ফেলল মীর...
-- কেন??
নাম দিয়ে কি করবেন????
-- না মানে... অনেক কিছুই তো বলে
ফেললাম। বাট এখনো নামটা জানা
হলো না...
কেমন জানি না....???
-- হু...
নিশি।
-- হুম নিশিরাত তো হওয়ার কথা এখন ১২
টা ছুঁই ছুঁই....
-- ধ্যাত আমার নাম বললাম নিশি....
অলওয়েজ ফাইজলামি করেন ক্যান???
-- ওহ স্যরি...
আসলে আমি বুঝতে পারিনি।
খুব সুন্দর.....
আমি মীর।
তা যাবেন কোথায়???
-- হুম নামের মাঝেও ফাইজলামি
জিনিসটা দেখা যাচ্ছে আপনার।
মামার বাসায় যাচ্ছি...
জি ই সি নামবো...
-- হাহাহা তাই নাকি??
আমিও তো সেখানেই নামবো.....
-- ও আচ্ছা....
আবারো অপ্রত্যাশিত নীরবতা....
মীরের ইচ্ছা হচ্ছিল আরো কিছুক্ষণ কথা
বলতে...
কিন্তু টপিকস নাই...
অবশ্য পুরো পথ জুড়ে অনেক কথায় বলা
হয়ে গেছে দুজনার মধ্যে...
সো কোন টপিকস থাকারও কথা না...!!!
রাত ১ বেজে ১৫ মিনিট, গাড়ি
তাদের গন্তব্য স্থানে এসে পৌঁছেছে।
এখন যে যার বাসায় ফেরার পালা।
উভয়ের মুখে বিষণ্ণতার একটা চাপ....
মীরের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা একটু
বেশিই লক্ষণীয়।
কারণ এর আগে কখনো কোন মেয়ের
সাথে সে এত কম সময়ে এত আপন হতে
পারেনি।
তাদেরকে নামিয়ে দিয়ে বাস
আবারো ছুটে চললো...
পুরো রাস্তাটায় ফাঁকা।
চারদিক নিস্তব্ধ..
মাঝে মাঝে দু একটা কুকুকের ভয়ানক
আওয়াজ কানে ভেসে আসছে।
নিশিকে দেখে বুঝাই যাচ্ছে সে খুব
ভয় পাচ্ছে।
এইরকম পরিবেশটা আসলেই ভয় পাওয়ার
মতো।
তার ওপর আবার ওর মামা নাকি খুব
অসুস্থ।
মামা ছাড়া এমন কেউ নেয় যে এসে
ওকে মামার বাসায় নিয়ে যাবে।
পাশে এখনো মীর দাড়িয়ে আছে।
সে চুপচাপ নিশির অস্থিরতা দেখছে।
কিছু বলতে গিয়েও কোথায় যেন
আটকে যাচ্ছে সে।
আসলেই তো...
কি বলবে সে????
সে তো নিশির কেউ না....
সে তো চাইলেই বলতে পারবেনা যে,
-- আমার বাসা কাছেই...
আপত্তি না থাকলে আমার বাসায়
যেতে পারেন। বাসায় আমার মা
আছে... হয়তো এখনো জেগে আছেন।
নাহ কিছু একটা তো করতেই হবে,
এভাবে একা একটা মেয়েকে রাস্তায়
রেখে যাওয়া ঠিক হবেনা।
কিন্তু কি করা যায়??
রাস্তার পাশেই একটা টঙের দোকান
এখনো খোলা।
সিগারেট ধরাতে যাবে এমন টাইমে
পেছন থেকে কেউ একজন বলে ওঠে...
-- আবার.......!!!!
-- ইয়ে না মানে....
আ আ আমি তো রিক্সা খুঁজছিলাম,
রিক্সা...
-- হুহ বুঝছি...
-- আচ্ছা বাই।
আমি যাচ্ছি....
-- যাচ্ছি মানে???
এত রাতে একা একা কোথায়
যাবেন????
-- কোথায় আবার মামার বাসায়..!!!
-- ওকে দাঁড়ান!!!
আমি রিক্সা পাই কিনা দেখি।
-- মানে কি???
আ আ আপনি??
মানে আপনি ক..... কোথায় যাবেন????
-- দেখুন.....
বেশি সাহস দেখাতে যাবেন না...
আমিই আপনাকে রিক্সা করে পৌঁছে
দিব...
আপনার কোন ভয় নাই।
আর যদি আপত্তি থাকে রিক্সা দুইটা
নিব, তাও আপনি না কইরেন না....
এত রাতে এখানে অনেক ধরনের দুর্ঘটনা
ঘটে যেতেই পারে।
নিশি কিছু বলতে চেয়েও পারেনা....
আসলে ও এতক্ষণ সাহস করে মীরকে
বলতে পারছিলনা যে,
-- প্লিজ আমাকে পৌঁছে দিন, একা
যেতে ভয় লাগছে।
নাহ ছেলেটাকে যতটা কেয়ারলেস
ভেবেছিলাম, ততটা সে না।
-- এই যে কোনটাতে উঠবেন???
-- মানে??? রিক্সা দুইটা কেন??? পাগল
নাকি আপনি???
-- কি জানি??
আম্মু তো আমাকে তাই বলে সবসময়।
-- আন্টি অবশ্য সত্য কথায় বলেন....
-- হাহাহা....
হয়েছে আন্টিকে আর সাপোর্ট দিতে
হবেনা। আন্টি একাই যথেষ্ট।
তা কোন রিক্সায় উঠবেন তাড়া উঠেন,
আমার খুব ঘুম পাচ্ছে, আপনাকে পৌঁছে
দিয়ে, বাসায় এসে আবার সে
লেভেলের ঘুম দেওয়া লাগবে।
-- হুহ,, অনেক্ষণ ধরে কথা বলে যাচ্ছেন।
এবার একটু চেপে বসুন।
হ্যা দুইজনই এক রিক্সাতেই....
মধ্যরাতের এমন ফিলিংসটা অবশ্য বলে
বুঝানোর মতো নয়।
হালকা মৃদু বাতাস বয়ছিল....
নিশি বার বার হাত দিয়ে তার
কপালে চলে আসা চুলগুলো সরিয়ে
দিচ্ছে।
মীরের বার বার মনে হচ্ছিল,
-- ইশ রাস্তাটা যদি রাত ১ বেজে ১৫
মিনিট, গাড়ি তাদের গন্তব্য স্থানে
এসে পৌঁছেছে।
এখন যে যার বাসায় ফেরার পালা।
উভয়ের মুখে বিষণ্ণতার একটা চাপ....
মীরের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা একটু
বেশিই লক্ষণীয়।
কারণ এর আগে কখনো কোন মেয়ের
সাথে সে এত কম সময়ে এত আপন হতে
পারেনি।
তাদেরকে নামিয়ে দিয়ে বাস
আবারো ছুটে চললো...
পুরো রাস্তাটায় ফাঁকা।
চারদিক নিস্তব্ধ..
মাঝে মাঝে দু একটা কুকুকের ভয়ানক
আওয়াজ কানে ভেসে আসছে।
নিশিকে দেখে বুঝাই যাচ্ছে সে খুব
ভয় পাচ্ছে।
এইরকম পরিবেশটা আসলেই ভয় পাওয়ার
মতো।
তার ওপর আবার ওর মামা নাকি খুব
অসুস্থ।
মামা ছাড়া এমন কেউ নেয় যে এসে
ওকে মামার বাসায় নিয়ে যাবে।
পাশে এখনো মীর দাড়িয়ে আছে।
সে চুপচাপ নিশির অস্থিরতা দেখছে।
কিছু বলতে গিয়েও কোথায় যেন
আটকে যাচ্ছে সে।
আসলেই তো...
কি বলবে সে????
সে তো নিশির কেউ না....
সে তো চাইলেই বলতে পারবেনা যে,
-- আমার বাসা কাছেই...
আপত্তি না থাকলে আমার বাসায়
যেতে পারেন। বাসায় আমার মা
আছে... হয়তো এখনো জেগে আছেন।
নাহ কিছু একটা তো করতেই হবে,
এভাবে একা একটা মেয়েকে রাস্তায়
রেখে যাওয়া ঠিক হবেনা।
কিন্তু কি করা যায়??
রাস্তার পাশেই একটা টঙের দোকান
এখনো খোলা।
সিগারেট ধরাতে যাবে এমন টাইমে
পেছন থেকে কেউ একজন বলে ওঠে...
-- আবার.......!!!!
-- ইয়ে না মানে....
আ আ আমি তো রিক্সা খুঁজছিলাম,
রিক্সা...
-- হুহ বুঝছি...
-- আচ্ছা বাই।
আমি যাচ্ছি....
-- যাচ্ছি মানে???
এত রাতে একা একা কোথায়
যাবেন????
-- কোথায় আবার মামার বাসায়..!!!
-- ওকে দাঁড়ান!!!
আমি রিক্সা পাই কিনা দেখি।
-- মানে কি???
আ আ আপনি??
মানে আপনি ক..... কোথায় যাবেন????
-- দেখুন.....
বেশি সাহস দেখাতে যাবেন না...
আমিই আপনাকে রিক্সা করে পৌঁছে
দিব...
আপনার কোন ভয় নাই।
আর যদি আপত্তি থাকে রিক্সা দুইটা
নিব, তাও আপনি না কইরেন না....
এত রাতে এখানে অনেক ধরনের দুর্ঘটনা
ঘটে যেতেই পারে।
নিশি কিছু বলতে চেয়েও পারেনা....
আসলে ও এতক্ষণ সাহস করে মীরকে
বলতে পারছিলনা যে,
-- প্লিজ আমাকে পৌঁছে দিন, একা
যেতে ভয় লাগছে।
নাহ ছেলেটাকে যতটা কেয়ারলেস
ভেবেছিলাম, ততটা সে না।
-- এই যে কোনটাতে উঠবেন???
-- মানে??? রিক্সা দুইটা কেন??? পাগল
নাকি আপনি???
-- কি জানি??
আম্মু তো আমাকে তাই বলে সবসময়।
-- আন্টি অবশ্য সত্য কথায় বলেন.... লম্বা
হতো.....
তাইলে হয়তো আরো কিছু সময় নিশির
সাথে থাকা যেত....
"আসলে মানুষ এমন একটা প্রাণী যারা
এমন কোন মুহূর্তের একবার সম্মুখীন হয়
তারা অনন্তকাল বেঁচে থাকতে চায়,
মীরের ক্ষেত্রেও সেটাই ঘটেছে"
মনে হচ্ছিল পুরো পৃথিবীটা আসলেই
কতো সুন্দর।
আমাদের শুধু নিজের মতো করে
সাজিয়ে নিতে জানতে হয়......
একটা সময় পর নিশি তার মামার বাসার
সামনে এসে পৌঁছলো।
মীর চুপ করে আছে....
এমন একটা মুহূর্তে এসে মীরের মনে
হচ্ছিল....
নিশির সাথে মনে হয় অনেক কথায়
বলার ছিল....
কিন্তু সে কিছুই যেন বলতে পারলোনা।
নিশি চলে যাচ্ছে, মিষ্টি একটা
হাসি দিয়ে পেছনে একবার তাকিয়ে
হাত দেখিয়ে বাই বললো.....!!!
রিক্সায় আর ছড়তে ইচ্ছা হচ্ছেনা তার।
পকেটে এখনো একটা সিগারেট রয়ে
গেছে...
বেশ কিছুক্ষণ পকেটে থাকার ফলে
সেটা একটু ভাঙ্গা ভাঙ্গা হয়ে আছে,
অনেক্ষণ পর আবারো খেতে লাগলো।
ধোঁয়া গুলো আকাশের দিকে ছুঁড়ে
মেরে।
সোনালী চাঁদটার দিকে তাকিয়ে
রইল কিছুক্ষণ।
চাঁদটাও কেমন একটা ইনোসেন্ট ভাব
নিয়ে তাকিয়ে আছে মীরের দিকে।
রাস্তাটা যেন শেষই হতে
চাইছিলনা.....
*****
-- তারপর কি হলো????
নিশির সাথে কি আর দেখা
হয়েছিল???
" ফাহমিদার কথা শুনে কল্পনার রাজ্য
থেকে আবারো বাস্তবতায় ফিরে এল
মীর,
অবশ্য নিশির কথা ভাবার সময় কখনো
তার মনে হতোনা যে সে কল্পনা
করছে। বার বার মনে হতো নিশি যেন
তার বাস্তবতায় এসে ধরা দিচ্ছে "
-- নাহ......!!!
"একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো মীর"
-- কেন??? তুমি ওর মামার বাসায় আর
যাওনাই...
-- গিয়েছিলাম, কিন্তু দেড়ি হয়ে
গিয়েছিল।
হঠাৎ করে আমার আম্মু বেশ অসুস্থ হয়ে
পড়ায় আমি আমি মা কে নিয়ে ব্যস্ত
ছিলাম।
আর তখনো ওর কথা মনে পড়তো, কিন্তু ও
আমাকে বলেছিল ওর মামার বাসায়
এক সপ্তাহ থাকবে। তাই আমার একটা
আশা ছিল।
-- তারপর???
-- তারপর আর কি??
৪/৫ দিন পর আম্মু সুস্থ হয়ে উঠলে আমি
সাথে সাথেই তার মামার বাসায়
চলে যাই,
কিন্তু লাভ হয়নি।
-- কেন??? ও ছিলনা।
-- নাহ....!!!
ঐ যে বলেছিল ওর মামা খুব অসুস্থ....
দারোয়ান বলেছিল ও আসার দু একদিন
পর নাকি ওর মামার অবস্থা আশঙ্কা জনক
হয়ে পড়ে...
তাই বাধ্য হয়ে পুরো ফ্যামিলি
মাদ্রাজ চলে যায়।
বাংলাদেশে ফেরার পর হয়ত তারা
ঢাকাতেই থেকে যায়, তাই তাদেরও
আর কোন খুঁজ পেলাম না।
-- ও....
পরে আর কোন চেষ্টা করছিলা????
-- বিশ্বাস করো....
আমি নিজেও খুব অবাক হয়ে
গিয়েছিলাম যে, যে মেয়েকে আমি
চিনিনা, জানিনা, তার সাথে শুধু ৩/৪
ঘন্টার আড্ডায় আমি কেমন জানি হয়ে
গেছিলাম, মনে হচ্ছিল ও ছাড়া পুরো
পৃথিবীটাই যেন অর্থহীন....
পরে আমি ঢাকায় একটা জব নিই।
অবশ্য জব নেওয়ার মেইন উদ্দেশ্য ছিল
ওকে খুঁজে বের করা।
কিন্তু আমার কপালে সে নাই,,, তাই
হয়তো একদিনের স্মৃতি গুলোই আমাকে
খুঁড়ে খুঁড়ে খায়।
-- হুম....
বুঝলাম...!!!
তোমাকে না দেখলে আমি জানতামই
না যে, একটা ছেলে একটা মেয়ের
জন্যে এত কিছু করতে পারে।
সো তোমার সম্পর্কে অনেক কিছুই
জানা হয়ে গেল...
এবং নির্দ্বিধায় আমি এই বিয়েতে রাজি।
'মীর হেসে উঠে....
ফাহমিদার বাসায় আজ মীরের মা
বাবাও এসেছেন।
অনেক বুঝিয়ে ছেলেকে বিয়েতে
রাজি করাতে পেরেছেন। অবশ্য
মেয়েটা ছোট বেলা থেকেই তাঁরা
দেখে আসছেন, হাজার হলেও বন্ধুর
মেয়ে বলে কথা।
আর বন্ধুত্বের সম্পর্ক বিয়াইতে কনভার্ট
করার কথা অনেক আগে থেকেই বলে আসছেন তাঁরা।
ছেলে যদি মত দেয় তাইলে বিয়ের
দিন তারিখ আজকেই ফাইনাল করে ফেলবেন তাঁরা "
-- আসলে তোমার ব্যাপারটা ছিল "
লাভ এট ফার্স্ট সাইড " যেটাকে বলে
সেটা....!!!
-- আমার অবশ্য এসব বিষয়ে ধারনা নাই।
তবে এইটুকু জানি, মেয়েটিকে আমার
খুব ভালো লেগেছিল....
-- হু....
লেগেছিল... কিন্তু এখন থেকে ভাল
লাগার ব্যাপারটা কি আমার ক্ষেত্রে হয়না????
প্রয়োজনে আমি তোমার সেই চঞ্চল
নিশি হবো.....!!!
যার চোখের পাতায় তুমি তোমার স্বপ্ন
সাজাতে, যার হাসিতে তুমি তোমার
প্রাণ ফিরে পেতে, যার মিষ্টি শাসন
তোমাকে বদ অভ্যাস ছাড়তে বাধ্য
করেছে......
কি????
একটা চান্স কি আছে আমার
জন্যে...?????
" গাল দুটো ফুলিয়ে মুখে ইনোসেন্ট
একটা ভাব এনে ফাহমিদা, মীরের
কাছে একটা সুযোগ চায় "
প্রতি উত্তরে একটা হাসি দিয়ে
ফাহমিদাকে আলতো করে জড়িয়ে ধরে মীর...
ফাহমিদাও পরম তৃপ্তি নিয়ে মীরের
বুকে মাথা রাখে....
মানুষের জীবনে মাঝে মাঝে এমন
কিছু মুহূর্ত আসে, যা খুব ক্ষণস্থায়ী কিন্তু
সে গুলো ব্যাখ্যা হয় খুব দীর্ঘস্থায়ী....
!!!!!