রাস্তা দিয়ে হেটে যাওয়ার সময় এক মেয়েকে দেখে
থমকে গিয়েছিলাম। আগে যদি জানতাম এমন সুন্দরী
আমার বাসার সামনের রাস্তা দিয়া যায় তাইলে বাপের
বাড়ি বিক্রি করে রাস্তাটা কিনে নিতাম।কিন্তু এখন
সিদ্ধান্ত নিলাম এই মেয়ের সাথে প্রেম করতেই হবে।
অতঃপর আমি মেয়েটার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। আর
এভাবে হঠাৎ করে একটা ছেলে সামনে আসায় ও ভয়
পেয়ে পিছিয়ে গেল। তারপর আমি শুরু করলাম প্যাঁচাল -
আমিঃ আসসালামু আলাইকুম আপু। আমি ফাহিম। আমি
ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে বিজ্ঞান বিভাগে পরি। আমি খুব
ভাল ছেলে। নেশা করিনা। আর সিগারেট তো চোখেই
দেখি নাই। আর হ্যা আমার প্রেমের অভিজ্ঞতা নাই।
কিন্তু আপনাকে দেখে মনে হল কেউ আমার বুকে ড্রাম
বাজাচ্ছে। তার মানে আমি আপনাকে দেখে টাস্কি
খাইছি কিন্তু এখন পানি খাব!!! এখন যদি আপনি রেগে
যান তাহলে আমি পালাচ্ছি আর হ্যা আমার সালাম টা
নিয়েন।
এই সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেয়ার পর আমি তার সামনে থেকে
চলে আসলাম। তাকে কিছু বলার সুযোগও দেইনি। যদি
খারাপ কিছু বলে এই ভয়ে। কারন আমি খুব লাজুক পোলা।
আর নিজের প্রশংসা নিজে করার মজাই আলাদা। হি হি
হি...
[কি ছেলেরে বাবা!! প্রপোজ করল না কি সেটাই
বুঝলাম না। আজব ছেলে। আগে অনেক ছেলেই তাকে
প্রপোজ করেছে কিন্তু এমন করে কেউ করেনি। তবে এই
ছেলের স্টাইলটা মজাই লেগেছে..এসব ভাবতে ভাবতে
মীম প্রাইভেট যাচ্ছিল]
পরেরদিন সকালে,
এবারে মীম দেখতে পেল ফাহিম ওর সামনে আসতেছে।
কিন্তু আজকে ভয় পেল না। কালকে ছেলেটার প্রপোজ
স্টাইলটা মজাই লেগেছে।
ফাহিমঃ আপু আসসালামু আলাইকুম
মীমঃ ওয়ালাইকুম আসসালাম। কিছু বলবেন পিচ্চি
ভাইয়া?
[মেয়েটার মুখে এই কথা শুনে নিজের চুল গুলো ছিড়তে
ইচ্ছা করছিল ফাহিমের। কেন যে আপু বলতে গেল।
ফাহিমঃকালকে আমি আপনাকে কিছু বলেছিলাম। তার
উত্তর টা দিবেন??
মীমঃ আসলে ভাইয়া কালকে আপনি যা বললেন সেটা
শুনতে ভালোই লেগেছে। কিন্তু আমি কিচ্ছুই বুঝিনি!!
এবার মেয়েটার মাথার চুলগুলো ছিড়ার ইচ্ছা করছিল ওর।
তবে নিজেকে দমিয়ে রাখল ফাহিম।
ফাহিমঃ ও। আচ্ছা আপনার নামটাই তো জানা হল না।
কি নাম আপনার?
মীমঃ আমার নাম মীম। আচ্ছা আমার সমপর্কে জেনে
আপনার কি লাভ?
ফাহিমঃ কালকে শুনেন নাই??
মীমঃ বললাম তো কিচ্ছু বুঝি নাই।
এবার ফাহিম মাথায় হাত দিয়ে বলল " আসলে কালকে
আমি আপনাকে দেখেই আপনার প্রেমে পড়ে গেছি।
আমি আপনাকে ভালবাসি।
মীম বিচলিত না হয়ে তাকে বলল " যাকে ভালবাসেন
তাকে আপু বলে ডাকছেন ক্যান?? "
ফাহিমঃ অভ্যাস নেইতো। তাই কি বলব বুঝতে পারিনি।
মীমঃ আচ্ছা ভেবে দেখব।
ছেলেটার কথাবার্তায় ওকে ভালই লেগেছিল মীমের।
আসলে ও চেয়েছিল এমন একটা বোকা বয়ফ্রেন্ড যাকে
নাচানো যাবে। তাই ও ঠিক করল ছেলেটাকে একটু
ঘুরাবে।
আবার পরের দিন যথারীতি দেখা দুজনের
ফাহিমঃ আপু আমার... স্যরি মীম আমার উত্তরটা?
মীমঃ হি হি হি।। স্যরি ভাইয়া আমি আপনাকে
ভালবাসতে পারব না। তবে একটা চান্স দিতে পারি।
ফাহিমঃ কি???
মীমঃ এমন ভাবে প্রপোজ করত হবে যাতে আমার মন গলে
যায়। পারবেন?
ফাহিমঃ আচ্ছা।
পরেরদিন অনেক ভেবেচিন্তে ফাহিম মীমকে প্রপোজ
করার পদ্ধতি বের করল। ভাল করে সেঁজেগুজে গেল।
রাস্তায়...
মীমঃ হুম। শুরু করুন
ফাহিমঃ আ আ আ আ আ
মীমঃ হায় হায়! আপনি দেখছি বোবা হয়ে গেছেন!
ফাহিমঃ আসলে তা নয়।১ম বার তাই সমস্যা হচ্ছে।
মীমঃআগেরদিন তো বললেন!
ফাহিমঃ সেদিন ত প্রপোজ করিনি
মীমঃ তাইলে থাকেন।আমি গেলাম।যত্তসব পাগল
ফাহিমঃ ইসসস প্রেম করা হবে না নাকি? মেয়েটাকে
কি করে যে রাজি করাই!!
পরেরদিন আবার ফাহিম শার্ট-প্যান্ট পরে হাতে
গোলাপ নিয়ে দাড়াল।
ফাহিমঃ আমি আপনাকে ভা ভা ভআআল..
মীমঃ তারপর
ফাহিমঃ ভা ভা ভা ভ আভ ভালবাসি..... আহ! বলেছি!!
মীমঃ এরকম হ্যাংলা স্টাইল আমার পছন্দ হয়নি। বাই
এভাবে রাজি না হওয়ায় ফাহিম লুংগি পরে,হাফ প্যান্ট
পরে, গেঞ্জি পরে,খালি পায়েও প্রপোজ করল। কিন্তু
বালিকা ওকে দেখেই অট্টহাসি দিত আর বরাবরের মত
না বলত।
অতপর এক বন্ধুর কাছে প্রেম প্রস্তাবের বিষয়ে জ্ঞান
নিতে গেল ও। সেই বুদ্ধি অনুযায়ী মীমের সামনে
দাড়িয়ে একটা ১০০০ টাকার নোট বের করে ফাহিম ওকে
প্রপোজ করল। কিন্তু তারপরের কাহিনী খুবই কষ্টের।
ফাহিম কথাটা বলার পরেই নিজের গালে পাঁচ আংগুলের
দাগের উপস্থিতি টের পেল।আর মীম বলল
মীমঃ তুমি আমাকে ১০০০ টাকা দিয়ে প্রপোজ করতে
এসেছ? ছি!
ফাহিমঃ কেন?? কম হয়েছে??
দূর্ভাগ্যজনক ভাবে এই কথা বলার পর ফাহিম কে দুই
গালেই হাত বুলাতে দেখা গেল। কি হয়েছে সেটা
ইতিমধ্যে আপনাদের বুঝার কথা।
বন্ধুর বুদ্ধিটা কাজে না দেয়ায় বড়ভাই এর কাছে বুদ্ধি
নিতে গেল ফাহিম। তিনি বললেন মেয়েরা ডিজুস
পোলা পছন্দ করে।তাই ওকে ডিজুস পোলা হতে হবে।
ভাইয়ের কথামত ও পরদিন সকালে চুলে জেল নামক
আঠালো পদার্থ দিয়ে অভিকর্ষ বলকে ভুল প্রমানিত
করে চুল খাড়া করল। তারপর চোখে চশমা দিয়ে শরীরে
পারফিউম মেখে একটা টি-শার্ট, আর হাফ প্যান্ট পরে
বাইকে চড়ে মীমের সামনে গেল।
ফাহিমঃ বালিকা তোমার সাথে সারাজিবন কাটাতে
আমি একপায়ে খাড়া।
মীমঃ১ পায়ে কেন? তুমি খোড়া নাকি??
এভাবে ওকে বোল্ড হতে হবে ও ভাবেই নি। ওকে দেখেই
মীম আবার বলল "আমি এরকম ছেলে পছন্দ করিনা"। বলে
চলে গেল। আর একটি হতাশ প্রপোজ নিয়ে বাসায় ফিরল
ফাহিম।
পরদিন আবার সাধারণ ছেলের মত প্রপোজ করতে গেল
সে-
ফাহিমঃ আমি তোমাকে ভালবাসি
মীমঃ আচ্ছা আমি তোমারে এতবার ফিরিয়ে দিলাম
তাও হাল ছাড় না কেন?
ফাহিমঃ বইয়ে পড়েছি failure is the pillar of success
মীমঃ হি হি হি। এই সাকসেস এর জন্য কতগুলা পিলার
বানাবা?
ফাহিমঃ যতক্ষণ রাজি হবা না।
মীমঃ ভাল। আচ্ছা বাই
বাসায় এসে আবার ভাবনা শুরু করল সে।এবার ফেসবুক
ঘেটে কিছু ভালবাসার গল্প পড়ল ফাহিম। সেখানে
অনেক লাইন ওর মনে ধরল। কালকে সেই লাইন গুলিই
বলবে বলে ভাবল।
অপরদিকে ছেলেটাকে অনেক জ্বালানোর পর কালকে
হ্যা বলার সিদ্ধান্ত নিল মীম।আসলে ও নিজেও
ফাহিমকে ভালবেসে ফেলেছে। কিন্তু ও যদি একটু
রোমান্টিক ভাবে প্রপোজ করত তাহলে অনেক আগেই
ওকে হ্যা বলে দিত মীম।শুধু ভাবত কখন এভাবে প্রপোজ
করবে। নাহ ওকে দিয়ে প্রপোজ করানো হলনা মনে হয়।
তাই ও নিজেই রাজি হবে ভাবল।
অবশেষে এল সেই দিন। ফাহিম পাঞ্জাবী পড়েছে
আজকে। হাতে ৩ টা লাল গোলাপ। মীম আজকে একটু
সেঁজেগুজে এসেছে।ওকে দেখতে অনেক সুন্দর লাগছিল।
যথারীতি ফাহিম ওর সামনে এসে দাড়াল।তারপর
সারারাত ধরে মুখস্থ করা প্রেমের বানী সুন্দর করে বলা
শুরু করল -
ফাহিমঃ বালিকা তুমি কি আমার মনের মাঝে নিজের
বসত গড়বে? হয়ত খুব ধন-সম্পদ দিয়ে তোমায় খুশি রাখতে
পারব না।কিন্তু কথা দিলাম আজিবন তোমায় একইভাবে
ভালবাসব। কখনো ভালবাসার কমতি হতে দিব না।
সারাটি জীবন তোমায় ভরিয়ে রাখব অজস্র ভালবাসায়।
হবে বৃষ্টিবিলাসে আমার সংগি? তুমি কি ভালবাসবে
আমায়??
[এতদিন পর মীমের মনের মত করে ওকে প্রপোজ করল
ফাহিম। এমনিতেই ও আজকে রাজি হয়ে যেত।তবে
এভাবে আরো ভাল লাগছিল ওর।তাই অবশেষে হ্যা উত্তর
টা দিয়েই দিল]
মীমঃ যাক আজকে হয়েছে বুদ্ধু। ভালবাসি তোমায়....
অবশেষে শুরু হল আরেকটা ভালবাসার নতুন অধ্যায়। সুখে
থাক তারা দুজনে আর তাদের ভালবাসা...
লেখা ঃ হোমো সেপিয়েন্স
থমকে গিয়েছিলাম। আগে যদি জানতাম এমন সুন্দরী
আমার বাসার সামনের রাস্তা দিয়া যায় তাইলে বাপের
বাড়ি বিক্রি করে রাস্তাটা কিনে নিতাম।কিন্তু এখন
সিদ্ধান্ত নিলাম এই মেয়ের সাথে প্রেম করতেই হবে।
অতঃপর আমি মেয়েটার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। আর
এভাবে হঠাৎ করে একটা ছেলে সামনে আসায় ও ভয়
পেয়ে পিছিয়ে গেল। তারপর আমি শুরু করলাম প্যাঁচাল -
আমিঃ আসসালামু আলাইকুম আপু। আমি ফাহিম। আমি
ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে বিজ্ঞান বিভাগে পরি। আমি খুব
ভাল ছেলে। নেশা করিনা। আর সিগারেট তো চোখেই
দেখি নাই। আর হ্যা আমার প্রেমের অভিজ্ঞতা নাই।
কিন্তু আপনাকে দেখে মনে হল কেউ আমার বুকে ড্রাম
বাজাচ্ছে। তার মানে আমি আপনাকে দেখে টাস্কি
খাইছি কিন্তু এখন পানি খাব!!! এখন যদি আপনি রেগে
যান তাহলে আমি পালাচ্ছি আর হ্যা আমার সালাম টা
নিয়েন।
এই সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেয়ার পর আমি তার সামনে থেকে
চলে আসলাম। তাকে কিছু বলার সুযোগও দেইনি। যদি
খারাপ কিছু বলে এই ভয়ে। কারন আমি খুব লাজুক পোলা।
আর নিজের প্রশংসা নিজে করার মজাই আলাদা। হি হি
হি...
[কি ছেলেরে বাবা!! প্রপোজ করল না কি সেটাই
বুঝলাম না। আজব ছেলে। আগে অনেক ছেলেই তাকে
প্রপোজ করেছে কিন্তু এমন করে কেউ করেনি। তবে এই
ছেলের স্টাইলটা মজাই লেগেছে..এসব ভাবতে ভাবতে
মীম প্রাইভেট যাচ্ছিল]
পরেরদিন সকালে,
এবারে মীম দেখতে পেল ফাহিম ওর সামনে আসতেছে।
কিন্তু আজকে ভয় পেল না। কালকে ছেলেটার প্রপোজ
স্টাইলটা মজাই লেগেছে।
ফাহিমঃ আপু আসসালামু আলাইকুম
মীমঃ ওয়ালাইকুম আসসালাম। কিছু বলবেন পিচ্চি
ভাইয়া?
[মেয়েটার মুখে এই কথা শুনে নিজের চুল গুলো ছিড়তে
ইচ্ছা করছিল ফাহিমের। কেন যে আপু বলতে গেল।
ফাহিমঃকালকে আমি আপনাকে কিছু বলেছিলাম। তার
উত্তর টা দিবেন??
মীমঃ আসলে ভাইয়া কালকে আপনি যা বললেন সেটা
শুনতে ভালোই লেগেছে। কিন্তু আমি কিচ্ছুই বুঝিনি!!
এবার মেয়েটার মাথার চুলগুলো ছিড়ার ইচ্ছা করছিল ওর।
তবে নিজেকে দমিয়ে রাখল ফাহিম।
ফাহিমঃ ও। আচ্ছা আপনার নামটাই তো জানা হল না।
কি নাম আপনার?
মীমঃ আমার নাম মীম। আচ্ছা আমার সমপর্কে জেনে
আপনার কি লাভ?
ফাহিমঃ কালকে শুনেন নাই??
মীমঃ বললাম তো কিচ্ছু বুঝি নাই।
এবার ফাহিম মাথায় হাত দিয়ে বলল " আসলে কালকে
আমি আপনাকে দেখেই আপনার প্রেমে পড়ে গেছি।
আমি আপনাকে ভালবাসি।
মীম বিচলিত না হয়ে তাকে বলল " যাকে ভালবাসেন
তাকে আপু বলে ডাকছেন ক্যান?? "
ফাহিমঃ অভ্যাস নেইতো। তাই কি বলব বুঝতে পারিনি।
মীমঃ আচ্ছা ভেবে দেখব।
ছেলেটার কথাবার্তায় ওকে ভালই লেগেছিল মীমের।
আসলে ও চেয়েছিল এমন একটা বোকা বয়ফ্রেন্ড যাকে
নাচানো যাবে। তাই ও ঠিক করল ছেলেটাকে একটু
ঘুরাবে।
আবার পরের দিন যথারীতি দেখা দুজনের
ফাহিমঃ আপু আমার... স্যরি মীম আমার উত্তরটা?
মীমঃ হি হি হি।। স্যরি ভাইয়া আমি আপনাকে
ভালবাসতে পারব না। তবে একটা চান্স দিতে পারি।
ফাহিমঃ কি???
মীমঃ এমন ভাবে প্রপোজ করত হবে যাতে আমার মন গলে
যায়। পারবেন?
ফাহিমঃ আচ্ছা।
পরেরদিন অনেক ভেবেচিন্তে ফাহিম মীমকে প্রপোজ
করার পদ্ধতি বের করল। ভাল করে সেঁজেগুজে গেল।
রাস্তায়...
মীমঃ হুম। শুরু করুন
ফাহিমঃ আ আ আ আ আ
মীমঃ হায় হায়! আপনি দেখছি বোবা হয়ে গেছেন!
ফাহিমঃ আসলে তা নয়।১ম বার তাই সমস্যা হচ্ছে।
মীমঃআগেরদিন তো বললেন!
ফাহিমঃ সেদিন ত প্রপোজ করিনি
মীমঃ তাইলে থাকেন।আমি গেলাম।যত্তসব পাগল
ফাহিমঃ ইসসস প্রেম করা হবে না নাকি? মেয়েটাকে
কি করে যে রাজি করাই!!
পরেরদিন আবার ফাহিম শার্ট-প্যান্ট পরে হাতে
গোলাপ নিয়ে দাড়াল।
ফাহিমঃ আমি আপনাকে ভা ভা ভআআল..
মীমঃ তারপর
ফাহিমঃ ভা ভা ভা ভ আভ ভালবাসি..... আহ! বলেছি!!
মীমঃ এরকম হ্যাংলা স্টাইল আমার পছন্দ হয়নি। বাই
এভাবে রাজি না হওয়ায় ফাহিম লুংগি পরে,হাফ প্যান্ট
পরে, গেঞ্জি পরে,খালি পায়েও প্রপোজ করল। কিন্তু
বালিকা ওকে দেখেই অট্টহাসি দিত আর বরাবরের মত
না বলত।
অতপর এক বন্ধুর কাছে প্রেম প্রস্তাবের বিষয়ে জ্ঞান
নিতে গেল ও। সেই বুদ্ধি অনুযায়ী মীমের সামনে
দাড়িয়ে একটা ১০০০ টাকার নোট বের করে ফাহিম ওকে
প্রপোজ করল। কিন্তু তারপরের কাহিনী খুবই কষ্টের।
ফাহিম কথাটা বলার পরেই নিজের গালে পাঁচ আংগুলের
দাগের উপস্থিতি টের পেল।আর মীম বলল
মীমঃ তুমি আমাকে ১০০০ টাকা দিয়ে প্রপোজ করতে
এসেছ? ছি!
ফাহিমঃ কেন?? কম হয়েছে??
দূর্ভাগ্যজনক ভাবে এই কথা বলার পর ফাহিম কে দুই
গালেই হাত বুলাতে দেখা গেল। কি হয়েছে সেটা
ইতিমধ্যে আপনাদের বুঝার কথা।
বন্ধুর বুদ্ধিটা কাজে না দেয়ায় বড়ভাই এর কাছে বুদ্ধি
নিতে গেল ফাহিম। তিনি বললেন মেয়েরা ডিজুস
পোলা পছন্দ করে।তাই ওকে ডিজুস পোলা হতে হবে।
ভাইয়ের কথামত ও পরদিন সকালে চুলে জেল নামক
আঠালো পদার্থ দিয়ে অভিকর্ষ বলকে ভুল প্রমানিত
করে চুল খাড়া করল। তারপর চোখে চশমা দিয়ে শরীরে
পারফিউম মেখে একটা টি-শার্ট, আর হাফ প্যান্ট পরে
বাইকে চড়ে মীমের সামনে গেল।
ফাহিমঃ বালিকা তোমার সাথে সারাজিবন কাটাতে
আমি একপায়ে খাড়া।
মীমঃ১ পায়ে কেন? তুমি খোড়া নাকি??
এভাবে ওকে বোল্ড হতে হবে ও ভাবেই নি। ওকে দেখেই
মীম আবার বলল "আমি এরকম ছেলে পছন্দ করিনা"। বলে
চলে গেল। আর একটি হতাশ প্রপোজ নিয়ে বাসায় ফিরল
ফাহিম।
পরদিন আবার সাধারণ ছেলের মত প্রপোজ করতে গেল
সে-
ফাহিমঃ আমি তোমাকে ভালবাসি
মীমঃ আচ্ছা আমি তোমারে এতবার ফিরিয়ে দিলাম
তাও হাল ছাড় না কেন?
ফাহিমঃ বইয়ে পড়েছি failure is the pillar of success
মীমঃ হি হি হি। এই সাকসেস এর জন্য কতগুলা পিলার
বানাবা?
ফাহিমঃ যতক্ষণ রাজি হবা না।
মীমঃ ভাল। আচ্ছা বাই
বাসায় এসে আবার ভাবনা শুরু করল সে।এবার ফেসবুক
ঘেটে কিছু ভালবাসার গল্প পড়ল ফাহিম। সেখানে
অনেক লাইন ওর মনে ধরল। কালকে সেই লাইন গুলিই
বলবে বলে ভাবল।
অপরদিকে ছেলেটাকে অনেক জ্বালানোর পর কালকে
হ্যা বলার সিদ্ধান্ত নিল মীম।আসলে ও নিজেও
ফাহিমকে ভালবেসে ফেলেছে। কিন্তু ও যদি একটু
রোমান্টিক ভাবে প্রপোজ করত তাহলে অনেক আগেই
ওকে হ্যা বলে দিত মীম।শুধু ভাবত কখন এভাবে প্রপোজ
করবে। নাহ ওকে দিয়ে প্রপোজ করানো হলনা মনে হয়।
তাই ও নিজেই রাজি হবে ভাবল।
অবশেষে এল সেই দিন। ফাহিম পাঞ্জাবী পড়েছে
আজকে। হাতে ৩ টা লাল গোলাপ। মীম আজকে একটু
সেঁজেগুজে এসেছে।ওকে দেখতে অনেক সুন্দর লাগছিল।
যথারীতি ফাহিম ওর সামনে এসে দাড়াল।তারপর
সারারাত ধরে মুখস্থ করা প্রেমের বানী সুন্দর করে বলা
শুরু করল -
ফাহিমঃ বালিকা তুমি কি আমার মনের মাঝে নিজের
বসত গড়বে? হয়ত খুব ধন-সম্পদ দিয়ে তোমায় খুশি রাখতে
পারব না।কিন্তু কথা দিলাম আজিবন তোমায় একইভাবে
ভালবাসব। কখনো ভালবাসার কমতি হতে দিব না।
সারাটি জীবন তোমায় ভরিয়ে রাখব অজস্র ভালবাসায়।
হবে বৃষ্টিবিলাসে আমার সংগি? তুমি কি ভালবাসবে
আমায়??
[এতদিন পর মীমের মনের মত করে ওকে প্রপোজ করল
ফাহিম। এমনিতেই ও আজকে রাজি হয়ে যেত।তবে
এভাবে আরো ভাল লাগছিল ওর।তাই অবশেষে হ্যা উত্তর
টা দিয়েই দিল]
মীমঃ যাক আজকে হয়েছে বুদ্ধু। ভালবাসি তোমায়....
অবশেষে শুরু হল আরেকটা ভালবাসার নতুন অধ্যায়। সুখে
থাক তারা দুজনে আর তাদের ভালবাসা...
লেখা ঃ হোমো সেপিয়েন্স